বাজেট ঘোষণার পর প্রথম কার্যদিবসে লেনদেনে বেশ অস্থিরতা আছে। শুরুতে শেয়ারদরের অস্থিরতার প্রভাব সূচকে পড়লেও লেনদেনের শেষাংশে এসে ঊর্ধ্বমুখী হতে দেখা যাচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে একক ভূমিকা রাখছে বেক্সিমকো লিমিটেড কোম্পানির শেয়ারের দরবৃদ্ধি।

রোববার দুপুর ১টায় প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে ১৭৩ শেয়ারের দর বৃদ্ধির বিপরীতে ১৬৪টিকে দর হারিয়ে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। দর অপরিবর্তিত ছিল ২৮টির। দ্বিতীয় শেয়ারবাজার সিএসইতে ১৪৩ শেয়ারের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ১১৮টি দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল।

দরবৃদ্ধি ও হ্রাস পাওয়া শেয়ার সংখ্যার ব্যবধান কম হলেও প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ২০ পয়েন্ট বেড়ে ৬০৭৩ পয়েন্টে অবস্থান করতে দেখা গেছে। সূচকের এ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অবদান বেক্সিমকো লিমিটেডের। 

বৃহৎ মূলধনী এ কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি দর ৮.৭০ টাকা বা প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে ৯৬.৬০ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছিল। এর কারণেই সূচক বেড়েছে ২১ পয়েন্ট। তবে ব্যাংকসহ অন্য সব খাতের শেয়ার সূচকে বড় নেতিবাচক প্রভাব আছে। বস্তুত বেক্সিমকো লিমিটেড সূচকের পতন ঠেকিয়ে রাখছে।

সূচকে যে খাতের শেয়ারের প্রভাব সবচেয়ে বেশি, সেই ব্যাংকের বেশিরভাগ শেয়ারের দর আজ নিম্নমুখী। কারণ প্রত্যাশা থাকলে কর্পোরেট করে ছাড় মেলেনি এ খাতে।

একই কারণে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বীমা কোম্পানির শেয়ারহোল্ডাররা হতাশ। তার প্রতিফলনও রয়েছে আজকের লেনদেনে। দর হারিয়েছে তিন খাতের বেশিরভাগ শেয়ার। তবে বীমায় রয়েছে মিশ্র ধারা। এর কারণ অবশ্য স্পষ্ট নয়।

তবে প্রত্যাশিতভাবে বেড়েছে প্রকৌশল, ওষুধ ও রসায়ন, সিমেন্ট খাতের শেয়ার। এছাড়া বস্ত্র খাতের অধিকাংশ শেয়ারই দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছে। অন্য সব খাতে মিশ্রধারা। তবে বেশিরভাগ মিউচুয়াল ফান্ড দর হারিয়েছে।

দুপুর ১টায় ব্যাংক খাতের ১ শেয়ারের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ২৬টিকে দর হারিয়ে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের ৩ শেয়ারের দর বৃদ্ধির বিপরীতে ১৫টি দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছে। 

তবে বীমা খাতে চিত্র কিছুটা ভিন্ন। দুপুর ১টায় এ খাতের ২৭ শেয়ারের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ২৩টি দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল। লেনদেনের শুরুতে বেশিরভাগেই দর বেড়ে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে।

বাজেটের ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে প্রকৌশল খাতে। এ খাতের ৩০ শেয়ারের দর বেড়েছে, কমেছে ১১টির। এ তথ্য দুপুর ১টা পর্যন্ত লেনদেন সময়কালের।

একই সময়ে ওষুধ খাতের ২১ শেয়ার দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল, যেখানে দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল ৭টি। 

বস্ত্র খাতেও বাজেটের পর ভালো প্রভাব দেখা যাচ্ছে। এ খাতের ৫৬ শেয়ারের মধ্যে ৪৬টিরই দর বেড়েছে। দর হারিয়ে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে ৬ শেয়ার। যদিও এ দরবৃদ্ধির সঠিক কারণ জানা নেই। কারণ বাজেটে এ খাতের করহার অপরিবর্তিত। 

খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের ২০ শেয়ারের মধ্যে ১৩টি দর বেড়ে এবং ৬টি দর হারিয়ে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে।

শেয়ারদর ছাড়াও লেনদেনের পরিমাণেও বড় পরিবর্তন আছে।

রোববার লেনদেনের প্রথম ঘণ্টা পর্যন্ত ডিএসইতে ১ হাজার ৮৯৮ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংক খাতের লেনদেন ছিল ১৪২ কোটি টাকার, যা এ সময় পর্যন্ত মোট লেনদেনের ৭.৬৭ শতাংশ। আগের দিন ব্যাংক খাতের মোট লেনদেনের হার ছিল মোটের ১৪.১ শতাংশ। অর্থাৎ এ খাতের লেনদেন অর্ধেকে নেমেছে।

বীমায় দুপুর ১টা পর্যন্ত ৫৫৩ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে, যা মোট লেনদেনের ২৯ শতাংশ। বৃহস্পতিবারের লেনদেনে বীমা খাতের অংশ ছিল ৩৬ শতাংশ।

প্রকৌশল খাতের লেনদেন বেড়ে মোটের ১১.৫৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা আগের দিন ছিল ৭.৪১ শতাংশ।  বস্ত্র খাতের লেনদেনও বেড়েছে।

এদিকে নতুন করে ৩০ কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার পর প্রথম দিনে এসব শেয়ারের প্রায় সবগুলোই সার্কিট ব্রেকারের সর্বনিম্ন দরে (নতুন নিয়মে সর্বোচ্চ ২ শতাংশ) কেনাবেচা হচ্ছে।