নতুন করে মূলধনের প্রয়োজন না থাকলেও তালিকাভুক্ত কিছু কোম্পানি বছরের পর বছর লভ্যাংশের নামে বোনাস লভ্যাংশ (স্টক ডিভিডেন্ড) দিয়ে আসছে। এবার আইন করে অযথা বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণার পথ বন্ধ করার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, কিছু কোম্পানি বছরের পর বছর বোনাস লভ্যাংশ দিয়ে অযথা পরিশোধিত মূলধন বাড়াচ্ছে। এতে কোম্পানিগুলো নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সক্ষমতা হারাচ্ছে। প্রয়োজনের তুলনায় মূলধন বেশি হওয়ায় কোম্পানির শেয়ার প্রতি মুনাফাও ব্যাপকভাবে কমছে। এ ধারা বন্ধ করতে সুনির্দিষ্ট আইন করা হচ্ছে।

সংস্থার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিগগিরই এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করবে সংস্থাটি। নির্দেশনাটির জারির আগে বর্তমানে এর আইনি বিষয়াদি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।

নতুন কমিশনের এমন উদ্যোগ নেওয়ার আগে ২০১৯ সালে নগদ লভ্যাংশ প্রদানে উৎসাহ প্রদান এবং বোনাসে নিরুৎসাহিত করার লক্ষ্যে বিশেষ কর বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

ওই বছর নগদ লভ্যাংশের তুলনায় বোনাস লভ্যাংশের পরিমাণ বেশি হলে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে সংশ্নিষ্ট কোম্পানির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ কর ধার্য করেছিলেন তিনি। তবে ওই সিদ্ধান্ত ছিল এক বছরের।

অযথা বোনাস লভ্যাংশ প্রদান নিরুৎসাহিত করতে সাবেক কমিশনও আইন করেছিল। ২০১৯ সালের ১৫ জুলাই জারি করা এক নির্দেশনায় বলেছিল, বিএমআরই বা ব্যবসা সম্প্রসারণের প্রয়োজন ছাড়া কোনো কোম্পানি বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবে না।

এ নিয়ম মেনে কোনো কোম্পানি বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করার ক্ষেত্রে, বোনাস শেয়ার ইস্যু করলে যতটা মূলধন বৃদ্ধি পাবে, তার সমপরিমাণ অর্থের ব্যবহার সম্পর্কিত পরিকল্পনা (আইপিও/রাইট ব্যবহারের ঘোষণার অনুরূপ) ঘোষণা দিতে হবে।

কমিশনের ওই নির্দেশনা অনুযায়ী, পুঞ্জিভূত মুনাফা বা শেয়ার প্রিমিয়ামের টাকা থেকে বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করা যাবে। তবে মূলধন রিজার্ভ বা সম্পদ পুনঃমূল্যায়নজনিত মুনাফা বা কোনো আনরিয়েলাইজড মুনাফা থেকে বা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যবসা শুরু না করেই কোনো কার্যক্রম থেকে মুনাফা পেলে, সেই মুনাফা থেকে বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করা যাবে না। সাবেক কমিশনের জারি করা নির্দেশনা এখনও বহাল আছে।

নতুন কমিশন নতুন কী করতে যাচ্ছে:

বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা আরো যৌক্তিক করার জন্যই নতুন নির্দেশনা আনতে যাচ্ছে বিএসইসি।

নতুন নির্দেশনাটি জারি হলে আইপিও প্রক্রিয়ায় বা রাইট শেয়ার ইস্যু সংগ্রহ করা মূলধন ব্যবহার না করে নতুন করে বোনাস শেয়ার ইস্যু করতে পারবে না। অর্থাৎ আইপিওতে আসার এক থেকে তিন বছরের মধ্যে বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা বন্ধ হতে যাচ্ছে।

আগে দেখা গেছে, কিছু কোম্পানির বাণিজ্যিক বা উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকার পরও বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। কমিশন যে নতুন নিয়ম করতে যাচ্ছে, সেখানে বলা হচ্ছে, কোনো কোম্পানির উৎপাদন বা বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলে অর্থাৎ তার মূল ব্যবসায়িক আয়ের কার্যক্রম বন্ধ থাকলে বোনাস শেয়ার ইস্যু করে নতুন করে মূলধন বাড়াতে পারবে না।

এছাড়া যেসব কোম্পানি লভ্যাংশ দিতে না পারার ব্যর্থতায় বা উৎপাদনে না থাকার কারণে ইতিমধ্যে জেড ক্যাটাগরিভুক্ত হয়েছে বা ওটিসিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে, সেসব কোম্পানিও বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবে না।

এসব নির্দেশনা জারি হলে শেয়ার কারসাজির উদ্দেশ্যে যেসব বোনাস লভ্যাংশ দেওয়া হত, তা বন্ধ হবে।