মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার শুল্ক্ক ফাঁকি ও পাচারের ঘটনায় ৩০টি মামলা করেছে কাস্টম গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। চারটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত মিথ্যা ঘোষণায় ১৩৪ কন্টেইনার পণ্য আমদানির ঘটনায় এসব মামলা হয়েছে। এতে শুল্ক্ক ফাঁকি ঘটেছে এক হাজার ৫৩৯ কোটি টাকার। আর এ প্রক্রিয়ায় পাচার হয়েছে প্রায় এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা।
গতকাল বুধবার কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, তারা ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত এগ্রো বিডি অ্যান্ড জেপি, হেনান আনহুই এগ্রো, হেভ্রা ব্র্যানকো ও চায়না বিডিএল নামের চারটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৩০টি মামলা করেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো এলসিতে যে পণ্য আমদানির ঘোষণা দিয়েছে, তা না এনে অন্য পণ্য এনেছে দেশে। আমদানি নিষিদ্ধ ও নিয়ন্ত্রিত পণ্যও এনেছে তারা। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো অস্তিত্ব খুুঁজে পাওয়া যায়নি। এদের কোনো কারখানা বা উৎপাদন কার্যক্রম কিছুই নেই।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানগুলো ২০১৭ সালের মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ৩১টি এলসি খুলে ১৩৪ কন্টেইনার পণ্য আমদানি করেছে। প্রতিটি এলসি খোলার সময়ই কারখানায় স্থাপনের জন্য মেশিনারিজ আমদানির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কাস্টমস গোয়েন্দাদের হাতে আটক এসব প্রতিষ্ঠানের আমদানি করা কন্টেইনারে মদ, সিগারেট, এলইডি টেলিভিশন, ফটো কপিয়ার মেশিন ইত্যাদি পাওয়া গেছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, প্রতিষ্ঠানগুলো আলাদা নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করলেও একটি নির্দিষ্ট চক্র এগুলো পরিচালনা করে। এ চক্রের অন্যতম সদস্য সুরুজ মিয়া ওরফে বিল্লাল হোসেন খান। সম্প্রতি তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার আদালতে তাকে সোপর্দ করে রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। তিনি আশা করেন, সুরুজ মিয়ার কাছ থেকে এই অর্থ পাচার ও অবৈধ আমদানির নেপথ্যে থাকা চক্রের অন্যান্য সদস্য সম্পর্কে জানা যাবে।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, পোলট্রি ফিড তৈরি কারখানার যন্ত্রপাতির নামে হেনান আনহুই এগ্রো এবং এগ্রো বিডি অ্যান্ড জেপি নামের দুটি প্রতিষ্ঠান ১২ কন্টেইনার ভরে বিপুল পরিমাণ এলইডি টেলিভিশন, ফটোকপিয়ার মেশিন, সিগারেট ও মদ আমদানি করেছে। এতে প্রতিষ্ঠান দুটি একদিকে শুল্ক্ক ফাঁকি দিয়েছে, অন্যদিকে ১৪০ কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাচার করেছে। এ দুটি প্রতিষ্ঠান আগেও ৭৮টি কন্টেইনারে মেশিনারিজ আমদানির ঘোষণা দিয়ে অন্য পণ্য আমদানি করেছে। এভাবে তখন ৮৭৪ কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাচার করে প্রতিষ্ঠান দুটি। এসব কারণে প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে পল্টন থানায় মোট ১৬টি মামলা করা হয়।
হেভ্রা ব্র্যানকো নামের একটি প্রতিষ্ঠান সাতটি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে ৩১ কন্টেইনার মেশিনারিজ আমদানির নামে মদ, সিগারেট, এলইডি টেলিভিশনসহ অন্যান্য বাণিজ্যিক পণ্য আমদানি করেছে। এতে বিপুল পরিমাণ শুল্ক্ক ফাঁকির পাশাপাশি ২৯১ কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাচারের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় সাতটি মামলা করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা অধিদপ্তর। হেভ্রা ব্র্যানকো ব্যবহার করেছে ঢাকার খিলগাঁওয়ের শেখেরটেক এলাকার ঠিকানা। কিন্তু কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের তদন্তে দেখা গেছে, ওই ঠিকানায় ওই নামের কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নেই।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লাহর নন্দলালপুরের ঠিকানা ব্যবহার করছে কাগুজে প্রতিষ্ঠান চায়না বিডিএল। সাতটি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে ২৫ কন্টেইনারে নিষিদ্ধ ও নিয়ন্ত্রিত পণ্য আমদানি করেছে এই প্রতিষ্ঠান। এসব পণ্য চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাস করা হয়। এসব আমদানিতেও বিপুল শুল্ক্ক ফাঁকির ঘটনা ঘটেছে এবং ২৩৪ কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাচারের ঘটনা ঘটেছে।

মন্তব্য করুন