নানা সমালোচনার পরও সেই বীমার শেয়ারদরের উত্থান চলছে। সোমবার এ খাতের শেয়ারদরে বেশ অস্থিরতার পর মিশ্রধারায় দিনের লেনদেন শেষ হলেও আজ লেনদেনের শুরু থেকে এ খাতের শেয়ারদরেই চাঙ্গা ভাব দেখা যাচ্ছে।

ডিএসইর লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টা পর বীমা খাতের ৫০ কোম্পানির মধ্যে ৪৮টিরই দর বেড়ে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। এ সময় দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল এ খাতের মাত্র ২টি শেয়ার। গড়ে এ খাতের সার্বিক শেয়ারদর বেড়েছিল ৪ শতাংশের ওপর।

বীমার খাতের বাইরে এ সময় আর কোনো খাতই ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ছিল না। সোমবার যে ব্যাংক খাতের শেয়ার লেনদেনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী ছিল, আজ সেই খাতের অধিকাংশ শেয়ারই দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছে। 

মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় ব্যাংক খাতের ৩১ কোম্পানির মধ্যে ২২টিকেই দর হারিয়ে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। এ সময় দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল খাতটির ৬ শেয়ার।

প্রায় একই রকম চিত্র ছিল বস্ত্র খাতে। ৩৩ শেয়ার দর হারিয়ে এবং ১৮টি দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল। প্রকৌশল খাতের ১৫ শেয়ারের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ২৫টিকে দর হারিয়ে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে।

ওষুধ ও রসায়ন খাতের ৯ শেয়ারের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ২০টি দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল। অন্য সব খাতে ছিল মিশ্রধারা।

সার্বিকভাবে ডিএসইতে দুপুর ১২টায় ১৫১ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের দরবৃদ্ধির বিপরীতে ১৭৯টিকে দর হারিয়ে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। এ সময় দর অপরিবর্তিত অবস্থায় কেনাবেচা হচ্ছিল ৪০ শেয়ার ও ফান্ড।

বেশিরভাগ শেয়ার দর হারানোর পরও ডিএসইএক্স সূচক ২১ পয়েন্ট বেড়ে ৬০৩৪ পয়েন্টে অবস্থান করতে দেখা গেছে। সূচকের এ বৃদ্ধিতে বড় অবদান ছিল মীর আকতার লিমিটেড, বেক্সিমকো লিমিটেড, গ্রীণ ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স, রেনেটা, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স, এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশনসহ কয়েকটি বৃহৎ মূলধনী কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধি। 

তবে বেশিরভাগ ব্যাংক কোম্পানির শেয়ারদর হারিয়ে কেনাবেচা হলেও দরপতনের হার তুলনামূলক কম হওয়ায় এ খাত সূচকে কম নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এটাও সূচক বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে।

মঙ্গলবার লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টায় ডিএসইতে ৯৮৬ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। এ লেনদেন গতকালের মতই।

ডিএসইর এ লেনদেনে বীমা খাতের অংশই ছিল মোটের ৩২.৬১ শতাংশ। দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ খাতের ৫০ কোম্পানির প্রায় ৩২৩ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। গতকালের লেনদেনে এ খাতের অংশ ছিল ২৪.৪১ শতাংশ।

গতকালের তুলনায় প্রকৌশল খাতের লেনদেনের অংশ এ পর্যন্ত বেশি ছিল। ১২টা পর্যন্ত এ খাতের ৪১ কোম্পানির ১৪০ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে, যা মোটের ১৪.১৪ শতাংশ। গতকালের লেনদেনে এ খাতের অংশ ছিল ৯.৫৪ শতাংশ।

বীমা এবং প্রকৌশল খাতের বাইরে আজ অন্য সব খাতের লেনদেনের অংশ কমছে।

প্রথম দুই ঘণ্টার লেনদেন শেষে সার্কিট ব্রেকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ দর বা এর কাছাকাছি মূল্যে অর্থাৎ ৯ থেকে ১০ শতাংশ দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল ১৪ কোম্পানির শেয়ার।

যার মধ্যে সবার ওপরে ছিল রূপালী ব্যাংক। গতকালের তুলনায় ১০ শতাংশ বেড়ে সর্বশেষ ৪০ টাকা ৭০ পয়সায় শেয়ারটি কেনাবেচা হয়েছে। বিপুল ক্রয় আদেশের বিপরীতে এ শেয়ারের বিক্রেতা নেই।

দরবৃদ্ধির এর পরের অবস্থানে দেখা গেছে- সালভো কেমিক্যাল, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, ইনডেক্স এগ্রো, মুন্নু ফেব্রিক্স, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স, ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স, আরামিট সিমেন্ট, তমিজুদ্দিন টেক্সটাইল, এশিয়া প্যাসিফিক ইন্স্যুরেন্স, সাফকো স্পিনিং, মীর আকতার লিমিটেড, পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, রানার অটোমোবাইলস এবং এমারেল্ড অয়েল।

বিপরীতে ৪ শতাংশ করে দর হারিয়ে দরপতনের শীর্ষে ছিল বিআইএফসি এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং।

বিষয় : বীমা শেয়ারদর ডিএসই

মন্তব্য করুন