কারণ ছাড়াই বাড়ছে লোকসানি কোম্পানি সাফকো স্পিনিংয়ের শেয়ারদর। মাত্র দেড় মাসে শেয়ারটির দর প্রায় আড়াই গুণে উন্নীত হয়েছে।

দরবৃদ্ধির নেপথ্যে কোনো কারণ আছে কি-না জানতে চাইলে সাফকোর কোম্পানি সচিব সমকালকে বলেছেন, এ কারণ আমরাও খুঁজে পাচ্ছি না। সম্প্রতি অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকেও একই কথা জানিয়েছে কোম্পানি।

বুধবারের পর আজও শেয়ারটি সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হচ্ছে। বেলা ১১টায় গতকালের তুলনায় ১০ শতাংশ দর বাড়িয়ে ২৪ টাকা ৯০ টাকা দরে ৭ লাখ ৮৬ হাজার শেয়ার ক্রয় আদেশের বিপরীতে একটি শেয়ারেরও বিক্রেতা ছিল না।

যদিও আজ লেনদেনের প্রথম ঘণ্টাতেই এ কোম্পানির ৩১ লাখ ১৮ হাজার শেয়ার মোট পৌনে ৮ কোটি টাকায় কেনাবেচা হয়েছে।

দেড় মাসে বাজারদর বেড়ে আড়াই গুণ হওয়া শেয়ারটি যদিও গত মার্চ পর্যন্ত চলতি হিসাব বছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটি নিট লোকসান করেছে প্রায় ১৩ কোটি টাকা। শেয়ার প্রতি লোকসান ৪ টাকা ৩১ পয়সা।

৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৯ সালে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান ছিল ৪৯ পয়সা, যা পরের বছর ১১ গুণের বেশি বেড়ে শেয়ার প্রতি লোকসান দাঁড়ায় ৫ টাকা ৬৯ পয়সা।

সর্বশেষ ২০১৮ সালের জন্য কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের মাত্র ৩ শতাংশ (শেয়ার প্রতি মাত্র ৩০ পয়সা) হারে লভ্যাংশ দিয়েছিল। এর পর গত দুই বছরে শেয়ারহোল্ডারদের এখন পর্যন্ত লভ্যাংশ দিতে পারেনি।

গত মে মাসের শুরুতেও শেয়ারটি ১০ টাকার কমে কেনাবেচা হয়েছিল।

কোম্পানি সচিব ইফতেখার আহমেদ জানান, গত ৬ জুন নিয়ন্ত্রক সংস্থা কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের কমিশন কার্যালয়ে ডেকে পাঠিয়েছিল। লোকসানের কারণ এবং কোম্পানিটিকে লাভজনক করতে কী করা হচ্ছে, তা জানতে চেয়েছিল।

তিনি বলেন, ব্যবসা এখন মন্দা। তারপরও তৃতীয় প্রান্তিকে সামান্য মুনাফা হয়েছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে আপ্রাণ চেষ্টা আছে, লোকসান কাটিয়ে মুনাফায় ফেরার। 

এদিকে সকাল ১০টায় দিনের লেনদেন শুরুর পর থেকে সাফকো স্পিনিংয়ের মত আরো মোট ৫ কোম্পানির শেয়ার দিনের সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হতে দেখা যাচ্ছে।

এর মধ্যে সরকারি কোম্পানি বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের শেয়ারদর প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে ৪৭ টাকা ৪০ পয়সা দরে কেনাবেচা হচ্ছে। লেনদেনের প্রথম ঘন্টাতে এ কোম্পানির প্রায় ২১ লাখ শেয়ার হাত বদল হয়েছে।

বেলা ১১টায় এ শেয়ারের বিপুল সংখ্যক ক্রেতার আরো ১১ লাখ শেয়ারের ক্রয় আদেশের বিপরীতে কোনো ক্রেতা ছিল না।

সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হওয়া বাকি শেয়ারগুলো হলো- মুন্নু ফেব্রিক্স, তমিজুদ্দিন টেক্সটাইল এবং বিডি মনোস্পুল পেপার। গত রোববার ওটিসি থেকে মূল বাজারে ফেরার পর টানা ৫দিন শেয়ারগুলো সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে (১০ শতাংশ) হারে বেড়েছে। 

বিডি মনোস্পুল পেপারের শেয়ার এই ৫ দিনেই শেয়ার প্রতি ৩০ টাকা বা ৬০ শতাংশ ওপর বেড়ে ৮০ টাকা ৪০ পয়সায় কেনাবেচা হচ্ছে। এতটা দর বাড়লেও গত ৫ দিনে এই কোম্পানিগুলোর হাতে গোনা কয়েকটি শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। 

একই ধারায় ওটিসি থেকে ফেরার অন্য কোম্পানি পেপার প্রসেসিং। আরো বেশি দর পাওয়ার আসায় এসব কোম্পানির শেয়ারহোল্ডাররা এখনই শেয়ার বিক্রি করতে চাচ্ছেন না।

এদিকে আজকের লেনদেনের প্রথম দেড় ঘণ্টা শেষে ১৭৩ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড দর বেড়ে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। এ সময় দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল ১৪২ শেয়ার এবং দর অপরিবর্তিত দেখা গেছে ৫২ টিকে। 

বেশিরভাগ শেয়ারের দরবৃদ্ধি পাওয়ায় ডিএসইএক্স সূচক ২৯ পয়েন্ট বেড়ে ৬০৮১ পয়েন্টে অবস্থান করতে দেখা গেছে। 

এ সময় পর্যন্ত দেশের প্রধান এ শেয়ারবাজারে ৬৫১ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। 

লেনদেনের প্রথম দেড় ঘণ্টা শেষে ব্যাংক, বীমা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিবিধ খাতের বেশিরভাগ শেয়ার দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল। বিপরীতে দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল প্রকৌশল খাতের শেয়ার। অন্য সব খাতে ছিল মিশ্রধারা।

বিষয় : শেয়ার সাফকো স্পিনিং

মন্তব্য করুন