দেশে প্রতি বছর বাড়ছে আমের উৎপাদন। বিশ্বে আম উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। ২০১৯-২০ সালে দেশে প্রায় ১৫ লাখ টন আম উৎপান হলেও রপ্তানি হয়েছে মাত্র ২৭৯ টন। যার আর্থিক মূল্য প্রায় এক হাজার ২০০ মার্কিন ডলার। রপ্তানি না বাড়ালে আমের কাঙ্খিত দাম পাবেন না চাষিরা। তাতে ভালো আম উৎপাদনে আগ্রহ ধরে রাখা কঠিন হবে। ফলে রপ্তানি বাজার ধরতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও সাতক্ষীরা জেলায় বসছে 'ভেপর হিট ট্রিটমেন্ট' (ভিএইচটি) প্লান্ট তথা পরিশোধন কেন্দ্র।

রোববার বিকেলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে 'আম রপ্তানি বৃদ্ধিতে করণীয়' শীর্ষক অনলাইন মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি বক্তব্যে এ তথ্য জানান কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক।

মন্ত্রী বলেন, আমকে ব্যাপকভাবে বিশ্ববাজারে নিয়ে যেতে রপ্তানি বাধাগুলো চিহ্নিত করে তা নিরসনে কাজ চলছে। ইতোমধ্যে নিরাপদ আমের নিশ্চয়তা দিতে তিনটি ভ্যাকুয়াম হিট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপনের কাজ চলছে। উৎপাদন থেকে শিপমেন্ট পর্যন্ত আম নিরাপদ রাখতে উত্তম কৃষি চর্চা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। ফাইটোস্যানিটারি সার্টিফিকেট দেয়ার কাজ চলছে। এর ফলে আগামী বছর আম রপ্তানির পরিমাণ অনেক বাড়বে।

সভায় জানানো হয়, ২০২০ সালে থাইল্যান্ড সর্বোচ্চ ৭৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের আম রপ্তানি করেছে। বাংলাদেশের প্রতিবেশী ভারত ১৩৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ও পাকিস্তান ১০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের আম রপ্তানি করেছে। সেখানে বাংলাদেশ মাত্র ৫০ হাজার ডলারের আম রপ্তানি করেছে। উত্তম কৃষি চর্চার অভাব, রপ্তানিযোগ্য উন্নতজাতের অভাব, সেলফ লাইফ কম, সংগ্রহোত্তর পর্যায়ে শনাক্তকরণের ব্যবস্থা না থাকা, আন্তর্জাতিক মানের প্যাকেজিং না থাকা, ব্র্যান্ডিং ইমেজ সৃষ্টি না হওয়া, রপ্তানি কার্যক্রমে দক্ষতা, সচেতনতা ও প্রশিক্ষণের অভাবকে আম রপ্তানিতে বাধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

এপিএ চূড়ান্ত মূল্যায়নে কৃষি মন্ত্রণালয় দ্বিতীয়: ২০১৯-২০ অর্থবছরের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির (এপিএ) চূড়ান্ত মূল্যায়নে কৃষি মন্ত্রণালয় ৫১টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে ২য় স্থান অর্জন করেছে। গতকাল রোববার সকালে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মন্ত্রণালয়ের পক্ষে এপিএ পুরস্কার গ্রহণ করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসাবে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন।