ঈদুল আজহার পরের লকডাউনের সময় সাবান, হ্যান্ডওয়াশ, স্যানিটাইজারেরমত করোনা সুরক্ষা সামগ্রীর উৎপাদন ঠিক রাখতে কারখানা চালু রাখার অনুমতি চেয়ে সরকারকে অনুরোধ করেছে এসব পণ্যের শীর্ষস্থানীয় উৎপাদক প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড (ইউবিএল)।

রোববার বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষের কাছে এক চিঠিতে এ অনুরোধ জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সিইও এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাভেদ আখতার। একই বিষয়ে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের কাছে চিঠি দিয়েছে বহুজাতিক এ কোম্পানি।

আগামী ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগষ্ট পর্যন্ত টানা ১৪ দিন সার্বিক কার্যক্রম ও চলাচলে বিধি নিষেধ আরোপ করে ইতোমধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। এর আগে লকডাউনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কলকারখানা খোলা রাখার সুযোগ ছিল। সকল প্রকার কলকারখানা বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় ইউনিলিভার বাংলাদেশ তাদের কারখানার উৎপাদন, মজুদ, পরিবহণ, বিতরণ ও বিপনন নিয়ে চিন্তিত। কারণ এ ধরনের কারখানা দীর্ঘদিনের জন্য বন্ধ করা হলে, তা পুনরায় চালু করতেও বাড়তি সময় লাগে।

ইউনিলিভারের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলেন, বাজারের সাবানের ৭৫ ভাগ সরবরাহ করে ইউনিলিভার। স্যানিটাইজার ও হ্যান্ডওয়াশেরও বড় সরবরাহকারী তারা। করোনার এই সময়ে এসব পণ্যের উৎপাদন বন্ধ হলে বাজারে সরবরাহে সংকট দেখা দিতে পারে। এই মহামারিকালে সাবানকে করোনার বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকরী পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফলে সাবানসহ অন্যান্য সুরক্ষা সামগ্রীর সংকট করোনা মোকাবেলার চ্যালেঞ্জ বড় করে তুলবে।

চিঠিতে জাভেদ আখতার বলেছেন, নিত্যদিনের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজন হয় ইউনিলিভার এমন অনেক ধরনের পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ করে থাকে। এরমধ্যে লিকুইড হ্যান্ডওয়াশ, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সাবান অন্যতম। এছাড়া ডিটারজেন্ট, শ্যাম্পু, টুথপেষ্টও রয়েছে তাদের।

চিঠিতে বলা হয়, ইউনিলিভারের মত ভারী শিল্প কারখানা দুই সপ্তাহ বন্ধ রাখার পর তা পুনরায় চালু করতে গেলেও বাড়তি সময় লাগবে। কারণ এ ধরনের পণ্য উৎপাদনকারি কারখানা চালু করার আগে মেশিনপত্র স্যানিটাইজ করতে হয়। ১৪ দিন বন্ধ থাকলে তা প্রকৃতপক্ষে ২৪ দিনের বন্ধে পরিনত হবে। আর এই সময় বন্ধের কারণে ৩ কোটি পিচ সাবান উৎপাদন কম হবে। ৯০ লাখ পিস লন্ড্রি বার (কাপড় কাঁচার সাবান), ৪০ লাখ লিকুইড হ্যান্ডওয়াশ, সাড়ে ৬ কোটি পিস কাপড় পরিস্কার করার পাউডারের প্যাক এবং এক কোটি ১০ লাখ পিচ বাসন পরিস্কার করার বার উৎপাদন কম হবে। সরকার দৈনিক ভ্যাট ও সম্পূরক লোকসান করবে এক কোটি ৩৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকার। এ পরিস্থিতিতে তিনি উৎপাদন ও সরবরাহ ঠিক রাখতে কারখানা এবং সরবরাহ ব্যবস্থা চালু রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। 

বর্তমানে ইউনিলিভার বাংলাদেশের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ২০ হাজার মানুষ জড়িত। চট্টগ্রামের কালুরঘাট শিল্প এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির কারখানা অবস্থিত। এই কারখানার কর্মীরা বৈশ্বিক ও দেশিয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করছেন। সামগ্রিক উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সামাজিক দূরত্ব ও মাস্ক ব্যবহার কঠোরভাবে পরিপালন করা হয়। ফলে কারখানা চালু থাকলে কর্মীরা স্বাস্থ্যঝুঁকি মুক্ত থাকবেন।

বিষয় : সুরক্ষা সামগ্রী ইউবিএল উৎপাদন চালু

মন্তব্য করুন