রপ্তানি কন্টেইনার নিয়ে মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বন্দর ছাড়ছে এক সঙ্গে সাতটি জাহাজ। এসব জাহাজে প্রায় পাঁচ হাজার রপ্তানি কনটেইনার ও তিন হাজার খালি কন্টেইনার রয়েছে। সোমবার বেসরকারি ১৯টি ডিপোতে ২০ ফুট দীর্ঘ প্রায় ১৬ হাজার পণ্যবোঝাই রপ্তানি কন্টেইনার আটকে ছিল। খালি কন্টেইনার পড়ে ছিল প্রায় ৩১ হাজার। চামড়া, ওষুধ ও খাদ্য সামগ্রীর কারখানা ছাড়া ঈদের পর অন্য সব কলকারখানা বন্ধ রেখে কঠোর লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। 

এতে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য খালাস কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তবে আগেভাগে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, চিটাগাং চেম্বারসহ ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিত্বকারী বড় সব সংগঠনকে বন্দর থেকে পণ্য খালাস কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে চিঠি দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। খালাস কার্যক্রম স্বাভাবিক না থাকলে বন্দরে নতুন করে আমদানি কন্টেইনারেরও জট লাগবে বলে উল্লেখ করা হয় চিঠিতে।

চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান বলেন, ‘সংকট দূর করতে কলম্বোগামী ফিডার ভেসেলগুলোকে অগ্রাধিকারভাবে বার্থিং দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। আবার প্রতিদিন অন্তত ১২টি জাহাজকে নোঙ্গর করার সুযোগ দিচ্ছি জেটিতে। চট্টগ্রাম-কলম্বো রুটে নতুন করে ৬টি জাহাজকে রপ্তানি পণ্য পরিবহনেরও অনুমোদন দিয়েছি। রপ্তানি কন্টেইনার নিয়ে যে সংকট ছিল তা কিছুটা কমেছে এখন। তবে ব্যবসায়ীরা যদি আমদানি কন্টেইনার খালাসে গড়িমসি করে তবে নতুন করে জট লাগবে আমদানি কন্টেইনারেও। বন্দর খোলা থাকবে প্রতিদিন। এখন দরকার বন্দর ব্যবহারকারীদের সহায়তা।

চট্টগ্রাম বন্দরে টার্মিনাল ম্যানেজার কুদরত-ই-খুদা মিলতাত জানান, মঙ্গলবার এক সঙ্গে সাতটি জাহাজ রপ্তানি কন্টেইনার নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর ছেড়ে যাবে। বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগের পর গত সাত দিনে ২৫টি জাহাজে করে ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের ১৯ হাজার কন্টেইনার রপ্তানি পণ্য পরিবহন করা হয়েছে। খালি কন্টেইনার  পরিবহন করা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার। তারপরও চট্টগ্রাম বন্দর ও ১৯টি বেসরকারি ডিপোতে প্রায় ১৬ হাজার রপ্তানি কন্টেইনার রয়েছে। আর খালি কন্টেইনার রয়েছে প্রায় ৩১ হাজার।

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ফিডার ভেসেলে করে কন্টেইনারগুলো প্রথমে কলম্বো, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ার বন্দরে যায়। পরে এই ট্রান্সশিপমেন্ট পোর্ট থেকে বড় মাদার ভেসেলে করে এসব কন্টেইনার যায় ইউরোপ ও আমেরিকার নির্দিষ্ট গন্তব্যে। করোনার কারণে ইউরোপ ও আমেরিকাতে পণ্য পরিবহনের ছক ও ব্যয়ের হার এলোমেলো হয়ে যায়। এতে করে জট তৈরি হয় সিঙ্গাপুর ও কলম্বো বন্দরে। যার প্রভাব পড়ে চট্টগ্রাম বন্দরেও। 

গত এক মাস ধরে রপ্তানি কন্টেইনার ও খালি কন্টেইনারের পরিমাণ ক্রমশ বাড়তে থাকে। চলতি মাসের শুরুতে খালি কন্টেইনারের পরিমাণ ছাড়িয়ে যায় ৪০ হাজারের ঘর। আর রপ্তানি কন্টেইনারের পরিমাণ বেড়ে যায় ২৫ হাজারের বেশি। এতে করে পোশাক মালিকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। ব্যবহারকারীদের নিয়ে দফায় দফায় বৈঠকে বসে বন্দর কর্তৃপক্ষও। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে শতকরা ৫০ ভাগ কন্টেইনার সিঙ্গাপুর, ২৫ ভাগ কলম্বো, ১৫ ভাগ মালয়েশিয়ার বন্দরে যায়। বাকি ১০ ভাগ চীনের সাংহাই, ভিয়েতনাম, কলকাতাসহ অন্যান্য বন্দরে যায়।

ফ্রেইট ফরোয়াডার্স অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বলেন, ‘চট্টগ্রাম-সিঙ্গাপুর রুটে চলাচল করে ৪৬টি ফিডার জাহাজ। এটি এ বন্দরের সবচেয়ে ব্যস্ত রুট। জট কমাতে এখন বিকল্প রুট ভাবা হচ্ছে চট্টগ্রাম-কলম্বোকে। এটির পাশাপাশি অফডকের ওপর একক চাপ কমাতে হবে। বায়ার্স ফোরামের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিজিএমইএ বিশেষ অফডকের উপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে। এ ছাড়া শিপিং লাইনগুলোকে কমন ক্যারিয়ার অ্যাগ্রিমেন্ট করতে হবে। মেইনলাইন অপারেটরদের নিজেদের মধ্যে চালু থাকা ডিরেক্ট ইনটারচেঞ্জ পদ্ধতি বাস্তবায়ন করতে হবে। তাহলে রপ্তানিপণ্য দ্রুত শিপমেন্ট করা যাবে। এ বিষয়গুলোর ওপর জোর দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম গতিশীল রাখতে ব্যবহারকারীদের নিয়ে কয়েক দফা বৈঠকও হয়েছে বলে জানান তিনি।