এম আশিক রহমান নয়, রূপালী ব্যাংকের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) শওকত জাহান খান প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা বা সিআরও পদে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন। ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ সোমবার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর একই দিনে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনও (বিএসইসি) শওকত জাহানের নিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, সিআরও পদে আশিক রহমানকে নির্বাচিত করার পর তার সঙ্গে বেতন-ভাতাসহ আনুসঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা বিষয়ে মতৈক্য হওয়ার পরই বিএসইসির কাছে তার নিয়োগের  প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে অতিরিক্ত বেতন-ভাতাসহ নানা সুযোগ সুবিধা দাবি করায় তাকে এ পদে নিয়োগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পর্ষদ।

শওকত জাহান সমকালকে জানিয়েছেন, সিআরও পদে নিয়োগে প্রস্তুত আছেন তিনি। যদিও তিনি ডিএসইর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাননি। তবে অনানুষ্ঠানিক কথা হয়েছে।

এর আগে নানা বিতর্কের পরও এম আশিক রহমানকে সিআরও পদে নিয়োগের  প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল বিএসইসি। তবে শর্ত দিয়েছিল, বিএসইসির অনাপত্তি চিঠি পাঠানোর ৩০ দিনের মধ্যে তাকে এ পদে যোগ দিতে হবে। অন্যথায় সিআরও পদে যোগ দিতে আগ্রহী রূপালী ব্যাংকের সিএফও শওকত জাহানকে নিয়োগ দিতে পারবে ডিএসই।

ডিএসই সূত্র জানায়, বিএসইসির অনুমোদন পাওয়ার পর আশিক রহমানকে চূড়ান্ত নিয়োগপত্র দেওয়া হলে তা তিনি গ্রহণ না করে বাড়তি সুবিধা দাবি করে স্টক এক্সচেঞ্জ চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমানকে একটি বার্তা পাঠান। ওই বার্তায় তিনি ডিএসইর এমডি পদের জন্য নির্ধারিত বেতন-ভাতার তুলনায় মাত্র ২০ হাজার টাকা কমে বেতন-ভাতা দাবি করেন। একই সঙ্গে এসইউভি (স্পোটর্স ইফটিলিটি ভেহিক্যালস) গাড়ি, সিআরও পদের নাম পরিবর্তনেরও দাবি জানান। এছাড়া সিআরও হিসেবে কোনোভাবেই এমডির কাছে কোনো রিপোর্ট করবেন না বলেও জানিয়ে দেন।

ডিএসইর পর্ষদ সদস্যরা জানান, আশিক রহমানের এমন  প্রস্তাবে বিস্মিত হন স্টক এক্সচেঞ্জ পরিচালকরা। তারা সরাসরি তার প্রস্তাব নাকচ করে বিএসইসির দ্বিতীয় পছন্দ রূপালী ব্যাংকের সিএফও হিসেবে কর্মরত শওকত জাহান খানকে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। এ বিষয়ে বিএসইসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সংস্থাটির পক্ষ থেকেও শওকত জাহানের নিয়োগ প্রস্তাবে তাৎক্ষণিকভাবে সায় দেওয়া হয়। 

বিএসইসি ও ডিএসই সূত্র জানায়, সিআরও পদ এবং এ নাম আইন দ্বারা সৃষ্ট। আশিক রহমানের আবদার শুনতে হলে আইন সংশোধন করতে হবে যা খুবই অযৌক্তিক দাবি। ডিএসই সূত্র জানায়, এমডি পদে তারিক আমিন ভূঁইয়াকে ১০ লাখ টাকা বেতন-ভাতায় নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিআরও পদে আশিক রহমানকে সাত লাখ টাকা বেতন-ভাতা প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছিল। তাতে তিনি সম্মতিও দিয়েছিলেন। চূড়ান্ত নিয়োগের সময় নয় লাখ ৮০ হাজার টাকা বেতন-ভাতা দাবি করে বসেন।

তবে এম আশিক রহমানের দাবি, তিনি সিআরও পদে যোগ দিতে শেষ মুহূর্তে 'না' করেছেন। এ বিষয়ে সমকালকে তিনি জানান, তার একটি বড় অঙ্কের হোম লোন রয়েছে। এর পাওনা নিষ্পত্তি না করলে তার বর্তমান নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান (এনসিসি ব্যাংক) তাকে পদ ছাড়তে অনাপত্তিপত্র দেবে না। এর আগে সিটি ব্যাংক এনএতে থেকে ছাড়পত্র নেওয়ার সময় বেশ বেগ পেতে হয়েছিল। বিষয়টি ডিএসইকেও জানিয়েছেন বলে জানান তিনি।

অতিরিক্ত বেতন-ভাতা ও সুবিধা দাবির বিষয়ে আশিক রহমান বলেন, ইন্টারভিউ দেওয়ার সময় বেতন-ভাতা নিয়ে যে কথা হয়েছিল, ফাইনাল অফার লেটারে ডিএসই ভিন্ন কিছু উল্লেখ করেছে। এমডি এবং সিআরও দুই পদেই ডিএসই পদে কোয়ালিফাই (যোগ্য বলে বিবেচিত) হই। এমডি পদে এক বেতন ছিল, সিআরও পদে অন্য। কিন্তু সিআরও পদে যে বেতন-ভাতার বিষয়ে কথা হয়েছিল তা দিতে চায়নি।

আশিক রহমান আরও বলেন, তারা (ডিএসই) 'সি' লেভেল পদগুলোর জন্য চুক্তিভিত্তিক নির্দিষ্ট বেতন-ভাতার কাঠামো করেছে। সে অনুযায়ী, বেতন-ভাতার প্রস্তাব করেছে। এই বেতন কাঠামোর সঙ্গে আমার সম্পর্ক নেই। কারণ আমার সঙ্গে বেতন-ভাতা নিয়ে অন্য কথা হয়েছিল। নতুন বেতন-ভাতার প্রস্তাবের সঙ্গে অবশ্য ডিএসই বলেছে, বর্তমান বেতন-ভাতায় যোগ দিলে পরে সুবিধা মতো সময়ে বেতন-ভাতা বাড়িয়ে দেবে, হোম লোনের দায়ও নেবে। কিন্তু এভাবে তো হবে না। আমার বর্তমান প্রতিষ্ঠান তো সব জানে। তারা এ অবস্থায় এনওসি দেবে না। এ কারণেই সিআরও পদে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

জানতে চাইলে ডিএসইর কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ আসাদুর রহমান সমকালকে জানান, সিআরও পদে শওকত জাহান খানের নিয়োগের অনাপত্তি বিষয়ে বিএসইসির চিঠি সোমবার শেষ বেলায় পেয়েছি। ফলে গতকালই তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি। ঈদের ছুটির পর তার সঙ্গে সিআরও পদে নিয়োগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হবে।

তবে শওকত জাহানের সঙ্গে বেতন-ভাতা নিয়ে ইতোপূর্বে ডিএসইর আলোচনা হয়নি বলে জানান আসাদুর রহমান। তিনি বলেন, ঈদে ছুটির শেষে এ বিষয়ে আলোচনা করা হবে। একই সঙ্গে আশিক রহমানের প্রস্তাব পর্ষদ যে গ্রহণ করেনি, সে বিষয়টিও তাকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হবে।