কারখানা খোলার দিন ১ আগস্ট থেকেই স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে পরিপালন করবে প্রতিটি পোশাক কারখানা। এ ব্যাপারে দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান। এ ব্যাপারে কঠোর সুরক্ষা পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো অবহেলা না করার জন্য সংগঠনের সব সদস্য কারখানাকে গতকালই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল ১ আগস্ট থেকে কারখানা খোলার সরকারি সিদ্ধান্ত জানার পর সমকালকে এসব কথা বলেছেন বিজিএমইএ সভাপতি।

ফারুক হাসান বলেন, কারখানায় প্রবেশের সময় প্রত্যেক শ্রমিকের তাপমাত্রা মাপা হবে। শরীরের তাপমাত্রা বেশি হলে শ্রমিক-কর্মকর্তা, এমনকি কারখানা মালিককেও কারখানায় প্রবেশ করতে না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হাত ধোয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকবে। কারখানার ভেতর নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে মেশিনে শ্রমিকদের বসানো হবে। শ্রমিকদের কারখানা থেকে বের হওয়ার ক্ষেত্রেও বিশেষ সতর্ক ব্যবস্থা থাকবে। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হবে।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, লকডাউন পুরোপুরি প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত কোনো শ্রমিক বা কর্মকর্তা কারখানায় অনুপস্থিত থাকলে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। কারও চাকরি হারানোর ভয় নেই। এ মুহূর্তে কারখানায় আসার জন্য কাউকে জোর করা হবে না। যেসব শ্রমিক স্বতঃস্ম্ফূর্তভাবে কারখানায় আসতে পারেন, শুধু তাদের নিয়েই উৎপাদন কার্যক্রম চলবে। সেটা যত কমই হোক না কেন। তবে এবারের ঈদে ছুটি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের একটা বড় অংশই শহর ছেড়ে যায়নি। তারা সহজেই কাজে যোগ দিতে পারবে। তিনি বলেন, সাভার, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ভালুকা- এরকম বেশিরভাগ অঞ্চলের কারখানায় সাধারণত স্থানীয় শ্রমিকরাই কাজ করেন। তাই লকডাউনের মধ্যে কারখানা খোলার দিন ভালো উপস্থিতিই আশা করছেন তারা।

শ্রমিকদের নিরাপত্তায় করোনার টিকা দেওয়া প্রসঙ্গে বিজিএমইএ সভাপতি জানান, এ ব্যাপারে তারা যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহযোগিতা চেয়েছেন। ঢাকায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতদের মাধ্যমে চিঠি দিয়ে এই সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্য সরকারের কাছেও সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে পরিমাণে বেশি পোশাক নেয়, এরকম ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠানের কাছেও সহযোগিতা চেয়েছেন তারা। শ্রমিকদের টিকার একটা ভালো সুরাহা শেষ পর্যন্ত হয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন। তার মতে, রপ্তানি বাণিজ্যে গতি ধরে রাখতে শ্রমিকদের শতভাগ টিকার আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি। না হলে বিদেশি ক্রেতারা পুরোপুরি আস্থা পাচ্ছেন না। এ জন্য সব শ্রমিকের জন্য টিকা নিশ্চিত করার প্রতি জোর দিচ্ছেন তারা।

বিদেশি ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে ফারুক হাসান জানান, তারা উৎফুল্ল। খবরটি শোনামাত্রই অনেকেই স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রত্যাশা করেন, তাদের কোনো ক্রেতা হারাতে হবে না। আলোচনা পর্যায়ে স্থগিত থাকা রপ্তানি আদেশগুলোও আবার ফিরবে। তবে সরবরাহ চেইনে ইতোমধ্যেই যে সংকট দেখা দিয়েছে, সেটি কাটিয়ে উঠতে হয়তো কিছুটা সময় লাগবে উদ্যোক্তাদের।

সরবরাহ চেইন বিঘ্নিত হওয়ার উদাহরণ দিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, কারখানা খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে অনেক উদ্যোক্তাই তাদের আমদানি করা কাঁচামাল খালাস করেননি। এতে বন্দরে দীর্ঘ জট তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন খাত-উপখাতে ব্যয় বেড়েছে। উৎপাদন ব্যয়ে সেটা যুক্ত হবে। কারখানায় উৎপাদন বন্ধ থাকার পাশাপাশি এটাও অনেক বড় সমস্যা। কারণ, গত ৫০ বছরে আমদানি-রপ্তানি কয়েকগুণ বাড়লেও বন্দরের সক্ষমতা বলতে গেলে ৫০ বছরের আগের অবস্থানেই রয়ে গেছে।