দেশব্যাপী কঠোর লকডাউনের মধ্যে দুই সপ্তাহ পর আজ রোববার খুলছে রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি নিয়েছেন তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা। কারখানাগুলো জীবাণুনাশক দিয়ে ধুয়েমুছে নিরাপদ করার চেষ্টা করা হয়েছে। বিজিএমইএ নেতারা বলছেন, তারা এই মুহূর্তে গ্রামে থাকা শ্রমিকদের না আসার আহ্বান জানাচ্ছেন। তারা চাইছেন, কারখানার আশপাশে বসবাস করা শ্রমিকদের নিয়েই উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হোক। লকডাউন শিথিল কিংবা প্রত্যাহার হলে বাকি শ্রমিকরা কাজে যোগ দেবেন। যদিও শ্রমিকরা অনেকেই আসা শুরু করেছেন।

কয়েকজন উদ্যোক্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত দেড় বছর ধরে করোনা সুরক্ষা নীতিমালা মেনে কাজ চলছে কারখানায়। এর মধ্যে রয়েছে- কারখানায় প্রবেশ এবং বের হয়ে আসার সময় নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা, প্রবেশমুখে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা এবং শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক হলে কাউকে কারখানায় প্রবেশ করতে না দেওয়া ইত্যাদি।

জানতে চাইলে ম্যায়সিস গার্মেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশিকুর রহমান তুহিন সমকালকে বলেন, পুরোনো ব্যবস্থার সঙ্গে নতুন করে কারখানার প্রবেশপথে জীবাণুমুক্ত করার টানেল রাখা বাধ্যতামূলক করেছে বিজিএমইএ। এ ছাড়া সংগঠনের নির্দেশনা অনুযায়ী যেসব কারখানায় স্থায়ী চিকিৎসক নেই সেসব কারখানায় স্থায়ী চিকিৎসকের ব্যবস্থা থাকতে হবে। প্রতিটি ফ্লোরে শ্রমিক কল্যাণ কর্মকর্তা আছে তার মাধ্যমে শ্রমিকদের সুবিধা-অসুবিধা আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জীবাণুনাশক দিয়ে গতকালই কারখানার প্রতিটি ফ্লোর এবং মেশিন পরিস্কার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ সমস্যা কাটাতে শ্রমিকদের কর্মস্থলে পৌঁছতে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। জাতীয় গার্মেন্ট শ্রমিক কর্মচারী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রনী সমকালকে বলেন, গতকাল প্রায় এক লাখ শ্রমিক কর্মস্থলের উদ্দেশে গ্রাম ছেড়েছেন। শ্রমিকদের নিরাপদে কর্মস্থলে ফিরতে বাংলাদেশ রেলওয়ে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করলে ঝুঁকি ও বিড়ম্বনা অনেকটাই এড়ানো যেত। এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

এখনই না ফেরার অনুরোধ বিজিএমইএর: ঈদ এবং লকডাউনকে কেন্দ্র করে গ্রামেফেরা শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিলে চাকরি হারানোর কোনো ভয় নেই বলে জানিয়েছেন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান। গ্রাম থেকে এখনই না ফিরতে শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। লকডাউন শিথিল কিংবা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিকদের অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি জানিয়েছেন, যারা ঈদে গ্রামে যাননি, তাদের নিয়েই আপাতত উৎপাদন কার্যক্রম চালানো হবে। গতকাল সমকালকে তিনি বলেন, 'বিজিএমইএর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই আমি বলছি, লকডাউনের কারণে কাজে ফিরতে না পারা কোনো শ্রমিকের চাকরি যাবে না। কোনো শ্রমিকের পক্ষ থেকে চাকরি যাওয়ার কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে আমি নিজে তাদের চাকরির ব্যবস্থা করব।' এ ব্যাপারে সংগঠনের সিদ্ধান্ত অমান্য করলে অভিযুক্ত কারখানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান ফারুক হাসান।

ঢাকামুখী শ্রমিকের ঢল সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শ্রমিকদের অনেকেই আগ্রহে কাজে যোগ দিতে চান। পোশাক কারখানায় করোনা থেকে সুরক্ষার পদক্ষেপ আগে থেকেই আছে। এবার তা আরও বাড়ানো হচ্ছে। সব কারখানায় চিকিৎসক আছেন। প্রতিটি ফ্লোরে কল্যাণ কর্মকর্তা আছেন। শ্রমিকদের চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে।