বাজার থেকে টাকা তুলতে দীর্ঘদিন পর ৭ ও ১৪ দিন মেয়াদী 'বাংলাদেশ ব্যাংক বিল' ছাড়া হচ্ছে। আড়াই বছর বন্ধ থাকার পর আগামী সোমবার থেকে এ বিলের নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়ে এমন তথ্য জানানো হয়। 

এর আগে সর্বশেষ ২০১৯ সালের ৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক বিলে নামমাত্র সুদে লেনদেন হয়েছিল। ওইদিন একটি ব্যাংক মাত্র শুন্য দশমিক শুন্য ২ শতাংশ সুদে ৭ দিনের জন্য ১৫০ কোটি টাকা রেখেছিল। এরপর থেকে নিলাম বন্ধ আছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আশানুরূপ ঋণ চাহিদা না থাকায় গত জুন শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকে ব্যাংকগুলোর অলস পড়ে আছে ৬২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। একই সময়ে উদ্বৃত্ত অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। করোনার এই সময়ে রেমিট্যান্সে ৩৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি, ব্যাংকগুলোর নগদ জমার হার কমানো, প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার পুন:অর্থায়ন তহবিলসহ বিভিন্ন কারণে বিপুল পরিমাণের অর্থ পড়ে আছে। দীর্ঘদিন এ অবস্থা চলতে থাকলে অলস টাকা অনুৎপাদনশীল খাতে গিয়ে মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। যে কারণে বিকল্প উপায়ে কিছু টাকা তোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, চাহিদার তুলনায় ব্যাংক খাতে নগদ টাকা বাড়লে সিআরআর বাড়িয়ে, রিভার্স রেপো ও স্বল্পমেয়াদী বিলের মাধ্যমে টাকা তোলা হয়। করোনা শুরুর পর সিআরআর সাড়ে ৫ শতাংশ থেকে ৪ শতাংশে নামানো হয়। বর্তমান তারল্য পরিস্থিতিতে সিআরআর বাড়ানোর চিন্তা থাকলেও এখনই তা করলে টাকার টান পড়তে পারে। আবার রিভার্স রেপোতে ৪ শতাংশ সুদ নির্ধারিত থাকায় এ উপায়ে টাকা তুলতে গেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের খরচ অনেক বাড়বে। সার্বিক বিবেচনায় ৭ ও ১৪ দিন মেয়াদী বাংলাদেশ ব্যাংক বিল ছাড়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডাকা নিলামে অংশ নিয়ে কোন ব্যাংক কী পরিমাণ টাকা রাখতে চায় তা উল্লেখ করে। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি সুদ অফার করে মোট কতো টাকা তুলবে তা বলে দেয়।