বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের অংশ হিসেবে ৪-৭ আগস্ট বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টার (বিওয়াইএলসি) কর্তৃক আয়োজিত হচ্ছে ইয়ুথ লিডারশিপ সামিট-২০২১। বিশিষ্টজনদের অংশগ্রহণে নির্ধারিত বিষয়ে আলোচনার মধ্য দিয়ে সপ্তমবারের মতো আয়োজিত এই সামিটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয় বুধবার। 

'বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা : আমি থেকে আমরা' এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবারের সামিটে সরকারি, বেসরকারি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে তরুণদের অন্তর্ভুক্তিতে বাঁধা সৃষ্টি করে এমন সব সমস্যা বা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ওপর আলোকপাত করা হবে। প্রতিযোগিতামূলক বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সারাদেশের নির্বাচিত তিন শতাধিক শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবীর পাশাপাশি বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রি এক্সপার্ট ও নীতিনির্ধারকরা অংশগ্রহণ করছে এবারের সামিটে।

সামিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বক্তারা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ নিশ্চিত করতে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। 

উদ্বোধনী বক্তৃতায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, 'অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীনতার গুণাবলি গড়ে তোলা ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান বা দেশে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের জন্য এসব গুণাবলি অর্জন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।'

প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী বলেন, 'ভিন্ন ভিন্ন মত বা গোষ্ঠীর মানুষ যেকোনো ক্ষেত্রে সহাবস্থানে থেকে একে অপরের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করবে এবং পরস্পরের মধ্যে আলোচনা করবে। এর মাধ্যমেই আমরা পারস্পরিক বোঝাপড়া স্থাপন করতে সক্ষম হব।'

সামিটের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো বিভিন্ন প্যানেল আলোচনা ও পর্যালোচনায় প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী, দলিত, মাদ্রাসা শিক্ষার্থী, নিম্নআয়ের, সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী ও প্রান্তিক তরুণদের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে আলোকপাত করা। একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে এ তরুণদের জন্য সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান, সমঅধিকারের অনুশীলন, উন্নত স্বাস্থ্য, জীবিকা, শিক্ষা এবং দক্ষতা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি ও অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতকরণে সহায়তা করা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিওয়াইএলসির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ইজাজ আহমেদ বলেন, 'আমরা আশা করি এই সামিটের মধ্য দিয়ে তরুণদের এমন একটি দেশ গড়ে তোলার প্রতি অনুপ্রাণিত করা যাবে যেখানে সর্বস্তরে শুধু সমাজের বিশেষ শ্রেণী বা গোষ্ঠী নয় বরং সব নাগরিকের অন্তর্ভুক্তির সুযোগ ও ব্যবস্থা থাকবে।'

সামিটের উদ্বোধনী আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ড্রা বার্গ ভন লিন্ডে, ইউএসএআইডির ভারপ্রাপ্ত মিশন ডিরেক্টর মিলান পাভলোভিক এবং এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক কে এম তরিকুল ইসলাম।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এবং যুক্তরাজ্য সরকারের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের (এফসিডিও) পৃষ্ঠপোষকতায় অনলাইনে আয়োজিত এই সামিটের উদ্বোধনী দিনে ৪৫টি জেলার ১৪৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে তিন শতাধিক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।