তালিকাভুক্ত ৯ কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি করেছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কোম্পানিগুলো হলো- আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, জিবিবি পাওয়ার, এমারেল্ড অয়েল, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স, ন্যাশনাল ফিড, পেপার প্রসেসিং অ্যান্ড প্যাকেজিং,ঢাকা ডাইং, ফু-ওয়াং সিরামিক এবং বিকন ফার্মা।

এসব শেয়ারের দর গত ৪ থেকে ১১ মাসে সর্বনিম্ন ৩ থেকে ১১গুণ হয়েছে। শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এসব কোম্পানির অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির নেপথ্যে কারসাজির ঘটনা রয়েছে। এতে কোম্পানির মালিকদেরও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে জোর গুঞ্জন আছে। দর বাড়াতে আর্থিক প্রতিবেদনে জালিয়াতি করে মুনাফা বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ আছে।

এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে পরিচালক শেখ মাহবুব উর রহমানকে প্রধান করে মঙ্গলবার চার সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। কমিটির বাকি তিন সদস্য হলেন- বিএসইসির সহকারি পরিচালক জিয়াউর রহমান, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) উপমহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি প্রতিষ্ঠান সিডিবিএলের এপ্লিকেশন সাপোর্ট বিভাগের প্রধান মো. মঈনুল হক। কমিটিকে আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

কমিটি এসব কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনের অসঙ্গতি, মূল্য কারসাজি, ইনসাইডার ট্রেডিং,বেআইনি শেয়ার কেনাবেচাসহ শেয়ারবাজার বিষয়ক যেকোনো আইন লঙ্ঘনের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখবে। এই ৯ শেয়ারের মধ্যে ওটিসি থেকে ফেরা পেপার প্রসেসিং কোম্পানিটির শেয়ার মাত্র দুই মাসেরও কম সময়ে ১১ গুণের বেশি দর বেড়েছে। ১৬ টাকা বাজার মূল্য নিয়ে গত ১৩ জুন মূল বাজারে ফিরেছিল। কিন্তু এই অল্প সময়েই শেয়ারটির দর ১৭৯ টাকা ৭০ পয়সা পর্যন্ত উঠছে। মঙ্গলবার শেয়ারটি সর্বশেষ ১৫৫.৩০ টাকায় কেনাবেচা হয়েছে।

এরপর সর্বাধিক প্রায় ৭ গুণ বাজারদর বেড়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের। গত ১১ মাসে শেয়ারটির দর ২৩ টাকা থেকে ১৫৮ টাকা ছাড়িয়েছিল, অর্থাৎ প্রায় সাত গুণে উন্নীত হয়েছে। গত কিছুদিন শেয়ারটির দর কমছে। মঙ্গলবার সর্বশেষ লেনদেন হয় ১১৮ টাকায়।

গত সাড়ে ৫ মাসে এমারেল্ড অয়েলের শেয়ারদর ৪ গুণ হয়েছে। মাত্র সাড়ে ৯ টাকা থেকে শেয়ারটির সর্বোচ্চ দর উঠেছে ৩৮ টাকা ৪০ পয়সা। এছাড়া আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, জিবিবি পাওয়ার, ন্যাশনাল ফিড মিলস, ঢাকা ডাইং, ফু-ওয়াং সিরামিক এবং বিকন ফার্মার বাজারদর গত ৪ থেকে ৮ মাসে বাজারদর তিনগুণের বেশি উন্নীত হয়েছে।

এর মধ্যে আনোয়ার গ্যালভানাইজিংয়ের বাজারদর সোয়া চার মাসে ৯৫ টাকা থেকে ৩৩৯ টাকায় উন্নীত হয়েছিল। মঙ্গলবার সর্বশেষ কেনাবেচা হয় ৩১৩ টাকায়। জিবিবি পাওয়ার বাজারদর আট মাসে ১৩.৬০ টাকা থেকে ৪০ টাকায় উন্নীত হয়েছিল। সর্বশেষ কেনাবেচা হয় ৩৫.৬০ টাকায়।

ন্যাশনাল ফিড মিলসের বাজারদর গত চার মাসে ১৪ টাকা থেকে ৪৪ টাকায় উন্নীত হয়েছিল। মঙ্গলবার সর্বশেষ কেনাবেচা হয় ৩৩.১০ টাকায়। 

ঢাকা ডাইং কোম্পানির শেয়ারের বাজারদর গত চার মাসে ৭ টাকা থেকে ২৮.৪০ টাকায় উন্নীত হয়েছিল। মঙ্গলবার সর্বশেষ কেনাবেচা হয় ২৪.৪০ টাকায়।

ফু-ওয়াং সিরামিক কোম্পানির শেয়ারের বাজারদর চার মাসে ৯ টাকা থেকে ২৮ টাকায় উন্নীত হয়েছিল। সর্বশেষ কেনাবেচা হয় ২৪.৯০ টাকায়। বিকন ফার্মার বাজারদর গত সাড়ে ৬ মাসে ৭০ টাকা থেকে ২৩৫ টাকায় উঠেছে। মঙ্গলবার ডিএসইতে শেয়ারটি সর্বশেষ ২০৯.২০ টাকায় কেনাবেচা হয়েছে।