যে তালিকাভুক্ত ৯ কোম্পানির অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেই কোম্পানিগুলোর মধ্যে একটি (বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স) বাদে বাকি ৮ শেয়ারের দরপতন হয়েছে।

অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির নেপথ্যে মূল্য কারসাজি রয়েছে-এমন বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পাওয়ার পর শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি মঙ্গলবার একটি তদন্ত কমিটি করেছে।

তদন্ত কমিটি গঠনের পরদিন বুধবার সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর প্রথম ঘণ্টা পর বেলা ১১টার এসব শেয়ারের দরবৃদ্ধির ধারা পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এ সময় সর্বাধিক সাড়ে ৩ শতাংশ দর হারিয়ে ন্যাশনাল ফিড মিলস কোম্পানির শেয়ার ৩১.৯০ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছিল।

দরপতনে এর পরের অবস্থানে ছিল এমারেল্ড অয়েল। প্রায় ৩ শতাংশ দর হারিয়ে শেয়ারটি কেনাবেচা হচ্ছিল ৩৩ টাকা দরে।

২ শতাংশের ওপর দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল পেপার প্রসেসিং, ঢাকা ডাইং এবং বিকন ফার্মা। দেড় শতাংশ দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল জিবিবি পাওয়ার। দরপতনের খবরে দরপতনের হার ১ শতাংশের কম ছিল আনোয়ার গ্যালভানাইজিং এবং ফু-ওয়াং সিরামিকের। 

অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি পাওয়া অপর শেয়ার বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর কমেনি। বরং বেলা ১১টায় গতকালের তুলনায় আড়াই শতাংশ বেড়ে ১২১ টাকায় কেনাবেচা হতে দেখা গেছে।

অবশ্য লেনদেন শুরুর পর বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স ছাড়া বাকি আট শেয়ারের বড় দরপতন হয়েছিল। সর্বনিম্ন ৪ থেকে ৯ শতাংশ পর্যন্ত দর হারিয়ে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে।

গত ২ থেকে ১১ মাসের মধ্যে এসব শেয়ারের বাজারদর ৪ থেকে ১১ গুন হয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এই প্রতিটি শেয়ারের দরবৃদ্ধির ক্ষেত্রে মূল্য কারসাজি হয়েছে।

কারসাজির সঙ্গে বাজারের কয়েকটি কারসাজি চক্র যেমন জড়িত রয়েছে, তেমনি এসব কোম্পানির মূল মালিকপক্ষেরও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অনেকে বিশ্বাস করেন। এমনকি দর বাড়াতে কোম্পানির মুনাফা ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ আছে।

এই সবগুলো বিষয় খতিয়ে দেখতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সংস্থাটির এক পরিচালককে প্রধান করে বিএসইসি, ডিএসই ও সিডিবিএলের কর্মকর্তার সমন্বয়ে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে। কমিটিকে আগামী ২ মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

তদন্ত কমিটি গঠনের খবরে আজ সকালে দরপতন হলেও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কেউ কেউ অবশ্য এ তদন্ত উদ্যোগকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

গতকাল রাতে নিজেকে ‘টেকনিক্যাল এনালিস্ট’ দাবি করা এ ব্যক্তি তার অনুসারীদের অভিমত জানতে তার ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়েছিলেন - এ তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি তারা কীভাবে দেখছেন।

এর জবাবে মোহাম্মদ মহসিন নামের এক ব্যক্তি বলেছিলেন ফরচুন সুজের বাজারদর যখন ২৩ টাকা থেকে ৩৩ টাকা হলো, তখন এই রকম তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। এখন (শেয়ারটি) কত দরে চলে তা সবারই জানা।

নির্দিষ্ট আরও কিছু শেয়ারের নাম উল্লেখ করে আরও কিছু ব্যক্তি ওই পোস্টের নিচে মন্তব্য করেছেন, শুধু এই ৯ কোম্পানি নয়, আরও অনেক কোম্পানির শেয়ারদর অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। কিন্তু সেগুলোর দরবৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত করা হচ্ছে না। তবে একজন এই তদন্ত কমিটি গঠনকে স্বাগত জানিয়েছেন।