করোনাভাইরাসের টিকার আমদানি যাতে কোনোভাবেই বেসরকারি খাতে না দেওয়া হয় সেজন্য জোর সুপারিশ করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। পাশাপাশি টিকা আমদানির আগে তার মেয়াদ যাচাইয়ের কথাও বলেছে কমিটি। 

বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়।

কমিটির সভাপতি ফারুক খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, নুরুল ইসলাম নাহিদ, গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স, আব্দুল মজিদ খান এবং হাবিবে মিল্লাত অংশ নেন।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি ফারুক খান বলেন, বেসরকারিভাবে টিকা দেওয়ার জন্য মোবাইলে এসএমএস দেওয়া হচ্ছে। তিনি নিজেও এ ধরনের একটি এসএমএস পেয়েছেন। কোন কোন টিকা পাওয়া যায় সেটাও জানানো হচ্ছে। কমিটি বলেছে- কোনোভাবেই যেন বেসরকারিভাবে টিকা আমাদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া না হয়।

বেসরকারি খাতে টিকা আমদানিতে চরম অব্যবস্থাপনার আশঙ্কা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দেখা যাবে মেয়াদোত্তীর্ণ টিকা নিয়ে আসবে। পানি ভরে টিকা দেওয়া হবে। আর সব দোষ পড়বে সরকারের ওপর। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পর্যন্ত টিকা বিক্রিতে নেমে পড়বে। এ ব্যাপারে খুব সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই টিকা কমিটির মেম্বার। তাকে বলা হয়েছে- ওই কমিটিকে যেন সংসদীয় কমিটির পর্যবেক্ষণ জানানো হয়।

দেশে এখন চারটি কোম্পানির কোভিড-১৯ টিকা দেওয়া হচ্ছে। এগুলো হলো- অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রোজেনেকা, ফাইজার-বায়োএনটেক, মডার্না ও সিনোফার্মের টিকা। বুধবার পর্যন্ত বিভিন্ন উৎস থেকে এসব কোম্পানির মোট দুই কোটি ৯০ লাখ ৪৩ হাজার ৯২০ ডোজ টিকা এসেছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত এক কোটি ৯৬ লাখ ৭১ হাজার ৬২০ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। আর মজুদ আছে ৫৯ লাখ ৭২ হাজার ৩০০ ডোজ।

টিকার মেয়াদের বিষয়ে ফারুক খান বলেন, যদিও এটা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়। তারপরও কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে- টিকার মেয়াদ কতদিন আছে সেটা আনার আগে দেখে নিতে। সে টিকা যেভাবেই পাওয়া যাক। উপহার হিসেবে হোক বা কিনে আনা হোক। দেখা গেল, বাংলাদেশে এসে যখন পৌঁছালো তার মেয়াদ ১৫ থেকে ২০ দিন রয়েছে। ওই টিকা পরে মাঠ পর্যায়ে যেতে যেতে আর মেয়াদই থাকবে না। রোল আউট করতে করতে ডেট চলে যাবে। এ বিষয়ে তাদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে বিভিন্ন দেশ বা প্রতিষ্ঠান থেকে টিকা আমদানির ক্ষেত্রে  মেয়াদ যাতে ছয় মাস থাকে তা নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি পাইপলাইনে থাকা টিকা দ্রুততম সময়ে আনার জন্য তৎপরতা অব্যাহত রাখতে কমিটি থেকে মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেওয়া হয়।

দশ বছর বয়স পর্যন্ত বিদেশে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।