শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ওয়ালটনের উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের ৯ দশমিক ০৩ শতাংশ নয়, ৪ দশমিক ০৩ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করতে হবে। অর্থাৎ ফ্রি-ফ্লোট শেয়ার ৫ শতাংশে উন্নীত করলেই চলবে। এজন্য কোম্পানিটির উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা নিজেদের শেয়ার বিক্রি করতে দুই বছর সময় পাবেন।

শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজের মধ্যে এ বিষয়ে মৌখিক সমঝোতা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এর আগে গত রোববার ওয়ালটনসহ শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত তিন কোম্পানিকে তাদের ফ্রি-ফ্লোট শেয়ারের পরিমাণ অন্তত ১০ শতাংশে উন্নীত করতে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের বিদ্যমান শেয়ার বিক্রি করতে চিঠি দিয়েছিল বিএসইসি।

ফ্রি-ফ্লোট শেয়ার হলো, সেই শেয়ার, যার মালিকরা কোনো ঘোষণা ছাড়াই সেকেন্ডারি শেয়ারবাজারে তা বিক্রি করতে পারেন। সাধারণত কোনো কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের বাইরে বাকি সব শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ারকে ফ্রি-ফ্লোট শেয়ার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র রেজাউল করিম সমকালকে বলেন, ওয়ালটনের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলাম না। তাই এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।

ওয়ালটনের কোম্পানি সচিব মো. রফিকুল ইসলামও কিছু খোলাসা করেননি। তবে তিনি বলেন, আমাদের কাছে কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ আগে। আবার ফ্রি-ফ্লোট শেয়ার বাড়ানোর বিষয়েও কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের নীতিগত অসম্মতি নেই। কিন্তু শেয়ার বিক্রি করতে গিয়ে যদি শেয়ারের দরপতন হয়, তাতে বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডাররাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। বিষয়টি বিবেচনায় নিতে কমিশনের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আশা করছি কমিশন সবার বৃহত্তর স্বার্থে তা বিবেচনা করবেন।

নতুন সমঝোতা অনুযায়ী, কোম্পানিটির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের আগামী ২ বছরে ১ কোটি ২২ লাখ শেয়ার বিক্রি করতে হবে। প্রতি মাসে বিক্রি করতে হবে গড়ে ৫ লাখ ৯ হাজার শেয়ার।

সমঝোতার পর এখন কোম্পানিটির পক্ষ থেকে কমিশনকে লিখিত চিঠি দিয়ে শেয়ার বিক্রির পরিমাণ কমানো এবং সময় বাড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হবে। মঙ্গলবার বা বুধবারের মধ্যে এ চিঠি দেওয়া হতে পারে।

শেয়ারবাজার লেনদেন সংক্ষেপ:

এদিকে সোমবারের মতো মঙ্গলবারও দরপতনে শেয়ারবাজারের লেনদেন শেষ হয়েছে। প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে ৩০০ শেয়ারের দরপতনের বিপরীতে মাত্র ৫২টির বেড়েছে। অপরিবর্তিত ২৪টির দর।

ছোট-বড় মিলে প্রায় সব খাতের সিংহভাগ শেয়ার দর হারানোয় প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ৭৭ পয়েন্ট হারিয়ে ৭১৪০ পয়েন্টে নেমেছে। এছাড়া দিনব্যাপী কেনাবেচা হয়েছে দুই হাজার ৯২ কোটি টাকার শেয়ার।