যুক্তরাষ্ট্রের মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসীর তালিকায় থাকা তালেবান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজুদ্দিন হাক্কানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন জাতিসংঘের দূত দেবোরাহ লিওনস। বৃহস্পতিবার তালেবানের মুখপাত্র সুহাইল শাহিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। খবর ডন ও হিন্দুস্তান টাইমসের।

তালেবান মুখপাত্র টুইটবার্তায় জানান, আফগান জনগণের জন্য জরুরি ভিত্তিতে মানবিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে বুধবার কাবুলে নিযুক্ত জাতিসংঘ মিশনের প্রধান দেবোরাহ লিওনস ও সিরাজুদ্দিন হাক্কানির মধ্যে বৈঠক হয়েছে।

আফগান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘ দূতকে বলেন, কোনো বাধা ও ভয়ভীতি ছাড়াই জাতিসংঘের কর্মীরা আফগানিস্তানে কাজ করতে পারবেন। জনগণকে সহায়তা করতে পারবে জাতিসংঘ। তবে বৈঠকটি কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছে তা স্পষ্ট করেননি তালেবানের মুখপাত্র।

দুই দশক ধরে বিদেশি সহায়তার ওপরই নির্ভর করে আসছে আফগানিস্তান। তবে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর সম্প্রতি সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছে বিশ্বের বহু দেশ। ফলে গভীর সংকটের মুখে পড়েছে আফগানরা। এমন পরিস্থিতিতে তাদের সহায়তার বিষয় নিয়ে এ বৈঠক হয়।

এদিকে, তালেবান নিযুক্ত এই আফগান মন্ত্রীর নাম এখনও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসীর তালিকায় রয়েছে। তার মাথার দাম ৫০ লাখ ডলার ধরা আছে।

অন্যদিকে, দূতাবাস সচল রাখার অর্থ ফুরিয়ে যাওয়ায় বিদেশে বিপদে পড়েছেন প্রায় তিন হাজার আফগান কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। তাদের অনেকেই বিদেশে শরণার্থী হিসেবে থেকে যাওয়ার আবেদন করেছেন।
এরই মধ্যে মঙ্গলবার তালেবান কর্তৃপক্ষ সব দূতাবাসে চিঠি দিয়ে নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে। তবে এ আহ্বানে মাঠ পর্যায়ের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি উত্তরণের কোনো নির্দেশনা নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আটটি দূতাবাসের কর্মীরা নিজ নিজ দূতাবাসের স্থবিরতা এবং কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে কথা বলেছেন। বার্লিনের এক দূতাবাস কর্মী বলেন, 'এখানে আমার সহকর্মী এবং আরও বহু দেশের কর্মীরা সংশ্নিষ্ট দেশগুলোকে তাদের গ্রহণের আবেদন করেছেন।' তবে তিনি এখনও আবেদন করেননি। কারণ হিসেবে জানান, এখনও কাবুলে থেকে যাওয়া স্ত্রী ও চার মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।

কানাডায় থাকা এক কর্মী বলেন, 'অর্থ নেই। এ অবস্থায় কাজ চালানো সম্ভব নয়। এই মুহূর্তে আমাকে বেতন দেওয়া হচ্ছে না।'