নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার অভাব ও সমন্বয়হীনতার কারণে ই-কমার্স খাতে আজকের অবস্থা তৈরি হয়েছে। কয়েকটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের প্রতারণার দায় এখন সব পক্ষকে নিতে হবে। এ খাতের সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে আলাদা আইন কোনো সমাধান নয়। আলাদা আইন করতে গেলে দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হবে। ফলে সেদিকে না গিয়ে সমন্বিতভাবে বিদ্যমান আইনের প্রয়োগ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোকেও যে যার অবস্থান থেকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

শনিবার বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডি আয়োজিত এক ভার্চুয়াল আলোচনায় এমন অভিমত উঠে আসে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্যারিস্টার তানজীব উল আলম বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের টাকা ফেরতে সরকার কোনো উদ্যোগ নিলে তা হবে সংবিধান বিরোধী। কেননা, জনগণের করের টাকা সরকারের কাছে আমানত। সেই অর্থ বেসরকারি উদ্যোগে বিনিয়োগ করে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিদের দায় নেওয়ার সুযোগ নেই। বরং ইভ্যালিসহ এ ধরনের প্রতিষ্ঠান কোথায় কীভাবে টাকা নিয়েছে তা বের করতে হবে। অস্বাভাবিকভাবে যাদের টাকা দিয়েছে তা ফেরত আনার উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি বলেন, কোনো সঙ্কট তৈরি হলেই নতুন আইনের কথা বলা হয়। তবে আজকের আলোচনায় সবাই মোটামুটি একমত নতুন আইন না করে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে। প্রতিযোগিতা কমিশন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী- সব পর্যায়ে সক্ষমতা বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে আর্থিক জালিয়াতি ধরার জন্য আলাদা একটা উইং করতে হবে।

সিপিডির নির্বাহী পরিচাল ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কারণে পুরো ই-কমার্স খাতের আস্থায় চিড় ধরেছে। বিভিন্ন মানুষের আটকে থাকা হাজার-হাজার কোটি টাকা ফেরত দেওয়ার মতো অবস্থায় অনেক প্রতিষ্ঠান নেই। এখন কীভাবে অর্থ ফেরত পাবে সে প্রশ্ন সামনে আসছে।

বিডি জবসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিম মাশরুর বলেন, ৫-১০ হাজার নয়, অনেকে ইভ্যালিতে ৪০-৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে ধরা খেয়েছেন। কোনোভাবেই এটা ই-কমার্সের ধারণার সঙ্গে যায় না। সবার সামনেই এটা ঘটেছে যা বিনিয়োগ কিংবা সঞ্চয় স্কিমের মতো। বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনেই এটা ঘটেছে। আবার একটি ব্যাংক হিসাবে হঠাৎ করে ৩/৪ হাজার কোটি টাকা লেনদেন হলেও কেউ প্রশ্ন করলো না, এটা হতে পারে না। ফলে এ খাতের আজকের অবস্থার দায় বাংলাদেশ ব্যাংক, পেমেন্ট গেটওয়ে, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, প্রতিযোগিতা কমিশন, ই-কমার্স খাতের অ্যাসোসিয়েশন সবাইকে নিতে হবে।

ইক্যাবের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ইভ্যালিসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান একজন থেকে টাকা নিয়ে আরেকজনকে দিয়েছে। এখানে টাকার ঘাটতি থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তবে কার কাছে কত টাকা আটকে আছে পরিষ্কার না।

তিনি বলেন, এ খাতের জন্য নতুন আইন করলে তা কার্যকরে সময় লাগবে। বিদ্যমান আইন প্রয়োগ করে কীভাবে এ খাতের সমস্যা সমাধান করা যায় দেখতে হবে।

তিনি জানান, ই কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইক্যাব) পক্ষ থেকে বেশ আগেই এ খাতের সমস্যা সমাধানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে ডিজিটাল মনিটরিং পদ্ধতি চালু, উপদেষ্টা ও কারিগরি কমিটি গঠনসহ বিভিন্ন সুপারিশ করা হয়। তবে আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি। অ্যাসোসিয়েশন হিসেবে বেশি কিছু তাদের করার থাকে না।