আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির দায়-দেনা নির্ধারনের জন্য নতুন পর্ষদ গঠনে সাবেক তিন সচিবের নাম প্রস্তাব করে আদালতে দাখিল করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক হাইকোর্ট বেঞ্চে বুধবার এই তিন জনের নাম দাখিল করা হয়।

প্রস্তাবনায় রয়েছেন-ভূমি মন্ত্রণালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সচিব মাকছুদুর রহমান পাটওয়ারী, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত সচিব মো. রেজাউল আহসান, ভূমি সংস্কার বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান সচিব ইয়াকুব আলী পাটোয়ারী। এ তিন জনের মধ্যে একজনের নাম পর্ষদ গঠনে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন হাইকোর্ট।

কমিটি গঠনের জন্য প্রস্তাবিত ব্যক্তিদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনা করে আদালত আগামী সপ্তাহের যেকোন দিন আদেশ দেবেন বলে জানিয়েছেন রিটকারী আইনজীবী সৈয়দ মাহসিব হোসাইন। আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এএম মাছুম ও সৈয়দ মাহসিব হোসেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বল।

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ইভ্যালির সব নথি তলব করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির সব ধরনের সম্পদ বিক্রি-হস্তান্তরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেন হাইকোর্ট। এছাড়া রুলে ইভ্যালিকে কেন অবসায়ন করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। অবসায়ন ও অবসায়নের আগে ইভ্যালির ব্যবসা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য একটি পরিচালনা পর্ষদ গঠনের নির্দেশনা চেয়ে করা এক রিটের শুনানি নিয়ে এসব আদেশ দেন আদালত।

ইভ্যালির গ্রাহক ফরহাদ হোসেন রিটটি দায়ের করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইভ্যালিতে পণ্য অর্ডার করার পাঁচ মাস পরও তা বুঝে পাননি। এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর, ই-ক্যাব, ভোক্তা অধিকারে বার বার অভিযোগ করেন। কিন্তু তাতে কোন প্রতিকার হয়নি। এ জন্য ইভ্যালির অবসায়ন চেয়ে হাইকোর্টে রিটিটি করা হয়।

রিটে ইভ্যালি লিমিটেড, রেজিস্ট্রার জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, কনজুমার রাইটস প্রটেকশন ব্যুরো, নগদ, বিকাশ, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন, ই-ক্যাব অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, বেসিস, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্য সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইতিমধ্যে ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও তার স্ত্রী ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে রাসেল ও শামীমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে কারাগারে আছেন এই দম্পতি।