ব্রয়লার মুরগির দামও চলে যাচ্ছে স্বল্প আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে। এক মাসের ব্যবধানে ৫০ থেকে ৬০ টাকা বেড়ে গরিবের আমিষের চাহিদা পূরণ করার অন্যতম উৎস এই ব্রয়লার মুরগির দাম এখন দুইশ টাকা ছুঁইছুঁই। তবে আমদানিতে শুল্ক প্র্রত্যাহারের ঘোষণার পরদিনই অস্থির হওয়া পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে।

শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হলেও এক দিনের ব্যবধানে ১০ টাকা বেড়ে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকায়। অথচ মাস খানেক আগেও এর দর ছিল ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা।

ব্রয়লারের পাশাপাশি পাকিস্তানি কক, লেয়ার ও সোনালি জাতের মুরগির দামও বেড়েছে। বাজারে লেয়ার মুরগি ২৫০ থেকে ২৭০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩৬০ টাকা, পাকিস্তানি কক ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি বিক্রি হয়েছে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায়।

কয়েক মাস ধরে মুরগির খাদ্যের প্রধান উপাদান সয়াবিন মিল রপ্তানির অজুহাতে দাম বেড়েছিল ব্রয়লারের। কিন্তু বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গত ১৪ অক্টোবর থেকে বন্ধ রয়েছে সয়াবিন মিল রপ্তানি।

দফায় দফায় কেন দাম বাড়ছে- জানতে চাইলে ব্যবসায়ীরা জানান, খামারিরা এখন করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিচ্ছেন, তাই দাম বাড়ছে। কাঁঠালবাগান বাজারের এক মুরগি ব্যবসায়ী সমকালকে বলেন, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় স্কুল-কলেজ খুলেছে, বিয়ে-শাদিসহ সব ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন বাড়ছে। এতে মুরগির চাহিদাও বেড়ে গেছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় মুরগি সরবরাহ অনেক কম। তাই দাম বাড়ছে।

ব্যবসায়ীদের এসব যুক্তি মানতে নারাজ ভোক্তারা। তাদের অভিযোগ, খোঁড়া যুক্তি দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা মানুষের পকেট কাটছে।

কারওয়ান বাজারে সাপ্তাহিক বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আব্দুল আলী বলেন, এক সপ্তাহের ব্যবধানে ২০ টাকার মতো বেড়ে গেল ব্রয়লারের দাম। শুধু মুরগি নয়, বাজারে এমন কোনো পণ্য নেই, যার দামে বাড়েনি। তার অভিযোগ, ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করেই একের পর এক পণ্যের দাম বাড়াচ্ছেন।

এদিকে, উৎপাদন-বণ্টন ও ভোক্তাদের প্রতিনিধিত্বমূলক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নিত্যপণ্যের যৌক্তিক দাম নির্ধারণের পাশাপাশি বাজার তদারকির দাবি জানিয়েছে অদলীয় রাজনৈতিক সামাজিক মঞ্চ নামের একটি সংগঠন।

বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পেঁয়াজের ওপর থেকে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করায় বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। ফলে কোনো কারণ ছাড়াই বাড়তে থাকা পেঁয়াজের দাম কমতির দিকে।

বাজারে দেশি প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৬৫ টাকা এবং আমদানি করা পেঁয়াজের কেজি ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। আগের তুলনায় বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ায় দাম কমছে বলে জানান কারওয়ান বাজারের পেঁয়াজের আড়তদার খলিল মিয়া।

তবে বাজারে শীতকালীন কিছু সবজি এলেও দাম চড়া। অধিকাংশ সবজির দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা। কিছুটা কমে প্রতি পিস ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। এ ছাড়া কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।