আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের দাম আরও বাড়তে পারে। ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে প্রাথমিক সম্মতি দিয়েছে। তবে বাণিজ্যমন্ত্রী অনুমোদন করলেই নতুন দাম নির্ধারণ করা হবে। প্রতি লিটার সয়াবিনে সাত টাকা দাম বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ব্যবসায়ীরা।

রোববার ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী বিভিন্ন কোম্পানি ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও আমদানি বিভাগ। এতে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও আমদানি) এএইচএম সফিকুজ্জামান সমকালকে বলেন, ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব পর্যালোচনার জন্য ব্যবসায়ী, ট্যারিফ কমিশন ও এনবিআরকে নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আলোচনার পর একটি প্রস্তাব বাণিজ্যমন্ত্রীকে দেওয়া হয়েছে। তবে কী প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে তা বলা যাবে না। কাল (মঙ্গলবার) এ বিষয়ে মন্ত্রী ঘোষণা দেবেন।

এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর লিটারে ৪ টাকা বাড়িয়ে ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তখন দেশের বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল সর্বোচ্চ ১২৯ টাকা এবং এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৫৩ টাকা এবং প্রতি পাঁচ লিটার সয়াবিন তেল খুচরা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৭২৮ টাকা দর নির্ধারণ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। আর প্রতি লিটার পাম সুপার ওয়েল খুচরা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ১১৬ টাকা দর নির্ধারণ করা হয়। যদিও নির্ধারিত দরে ভোজ্যতেল তেমন বেচাকেনা হচ্ছে না।

এরপর পুনরায় দেশের ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রোববার বৈঠক ডাকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এতে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১৩৬ টাকা, এক লিটারের সয়াবিনের বোতল ১৬০ টাকা, ৫ লিটারের সয়াবিনের বোতল ৭৬০ টাকা এবং প্রতি লিটার পাম অয়েলের দাম ১১৯ টাকা নির্ধারণের বিষয়ে ব্যবসায়ী ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একমত হয়েছে।

কিন্তু বিশ্ববাজারে বর্তমানে ভোজ্যতেলের দাম কমছে। নিত্যপণ্যের বাজার বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের দাম কমছে। সেপ্টেম্বর মাস শেষে প্রতি টন অপরিশোধিত সয়াবিন তেল এক হাজার ৩৯৮ ডলারে বেচাকেনা হয়েছে। গত আগস্টে যার প্রতি টনের দাম ছিল এক হাজার ৪৩৪ ডলার। তার আগে জুলাইয়ে প্রতি টন অপরিশোধিত ভোজ্যতেলের দাম ছিল এক হাজার ৪৬৮ ডলার, জুনে এক হাজার ৫১৮ ডলার এবং মে মাসে এক হাজার ৫৭৪ ডলার। চলতি অক্টোবরে দাম আরও কমেছে। অথচ দেশের বাজারে পণ্যটির দাম বাড়ছেই।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, দেশে বছরে ২০ লাখ টন ভোজ্যতেলের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে দেশে উৎপাদিত সরিষা, সূর্যমুখীসহ অন্যান্য তেলবীজ থেকে সোয়া দুই লাখ টন তেল পাওয়া যায়। বাকিটা আমদানি করতে হয়। মালয়েশিয়া, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে থেকে এসব তেল আমদানি হয়ে থাকে। হাতেগোনা কয়েকটি কোম্পানি পরিশোধিত ও অপরিশোধিত ভোজ্যতেল আমদানি করে বাজারজাত করছে।