পাপুয়া নিউগিনিকে ৮৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল পর্ব নিশ্চিত করেছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদরা। ম্যাচের শুরুতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৮১ রান সংগ্রহ করে টাইগাররা। জবাবে খেলতে নেমে সাকিব-তাসকিনদের বোলিং তোপে মাত্র ৯৭ রানেই গুটিয়ে যায় পিএনজি। এতে বিশাল ব্যবধানে জয় পায় বাংলাদেশ। 

টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের এটিই সবচেয়ে বড় জয়। এর আগে টি-টোয়েন্টিতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ৭১ রানের ব্যবধানে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়টি ছিলো ওমানের বিপক্ষে। ভারতের মাটিতে হওয়ার ২০১৬ সালের আসরে ওমানের বিপক্ষে ৫৪ রানে জিতেছিলো বাংলাদেশ। 

বাংলাদেশের দেয়া পাহাড় সমান রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ভুগছিল পাপুয়া নিউগিনির দুই ওপেনার। সাইফউদ্দিন ভাঙেন সেই উদ্বোধনী জুটি। ১০ বলে লেগা সিয়াকা এলবিডব্লিউ হন ৫ রানে।

এরপর নিজের প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলে উইকেট তুলে নেন তাসকিন আহমেদ। ৬ রান করা পিএনজি অধিনায়ক আসাদ ভালাকে আউট করেন এই পেসার। তবে এই আউটের কৃতিত্ব সোহানেরও কম না। নিজের ডানদিকে ঝাঁপিয়ে বেশ ভালো ক্যাচ নেন নুরুল হাসান। 

পেসারদের আক্রমণের পর বল হাতে তুলে নেন সাকিব। বোলিংয়ে এসেই নিজের প্রথম বলে উইকেট নেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। উড়িয়ে মারতে গিয়ে বাউন্ডারিতে নাঈম শেখের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হন চার্লস আমিনি। একই ওভারের চতুর্থ বলে আরেকটি উইকেট নেন সাকিব। সিমন আটাই শূন্য রানে মেহেদী হাসানকে ক্যাচ দেন। 

প্রথম ওভারে ২ রানে ২ উইকেট নেওয়ার পর নিজের দ্বিতীয় ওভারে  সাকিব দেন ৪ রান। তৃতীয় ওভারে বল হাতে নিয়ে সেসে বাউকে মোহাম্মদ নাঈমের ক্যাচ বানান সাকিব। ৭ রানে ফেরেন সেসে বাউ। এর পরের ওভারে নিজের প্রথম উইকেট তুলে নেন মেহেদী হাসান। তার বলে আউট হওয়ার আগে কোনো রানই তুলতে পারেননি নরমান ভানুয়া।

১১তম ওভারে নিজেদের সপ্তম উইকেট হারালো পিএনজি। ৭ উইকেটের মধ্যে চারটিই সাকিব আল হাসানের। হিরি হিরিকে আট রানে আউট করে নিজের চতুর্থ উইকেট নেন সাকিব আল হাসান। এই উইকেটের মধ্য দিয়েই সাকিব ছুঁয়ে ফেললেন শহীদ আফ্রিদিকে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখন আফ্রিদির সমান ৩৯ উইকেট সাকিবের। আফ্রিদি ৩৯ উইকেট নিতে খেলেছিলেন ৩৪ ম্যাচ। সাকিবের এটি ২৮তম ম্যাচ।

২৯ রানে ৭ উইকেট হারানোর পর প্রতিরোধ গড়েছিল পাপুয়া নিউগিনি। ২৬ রানের জুটি গড়েন সোপার ও ডোরিগা। সোপারকে ফিরিয়ে সেই জুটি ভেঙে দেন সাইফউদ্দিন। তার বলে ১১ রানে স্ট্যাম্প হারিয়েছেন সোপার।

৫৪ রানে অষ্টম উইকেট হারানোর পর ৯৭ রানে গুটিয়ে যায় পাপুয়া নিউগিনি। শেষ ওভারে তাসকিন আহমেদ দ্বিতীয় উইকেট নেন। আর কোনো ব্যাটসম্যান না থাকায় আক্ষেপে পুড়তে হয় কিপলিন ডোরিগাকে। ৪৬ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি।

সাকিব আল হাসান ৪ ওভার বোলিং করে ৯ রান দিয়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট। ৪ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে উইকেটশূন্য মোস্তাফিজ। সাইফউদ্দিন ২১ রানে নেন ২ উইকেট। তাসকিন ১২ রান দিয়ে নেন দুই উইকেট। ২০ রানে ১ উইকেট নিয়েছেন মেহেদী হাসান।