ঢাকা শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪

টেকসই অর্থায়নে জোর দিচ্ছে ব্যাংক এশিয়া

টেকসই অর্থায়নে জোর দিচ্ছে ব্যাংক এশিয়া

.

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০২৩ | ২২:৩১

ব্যাংক এশিয়া ২০৫০ সালের মধ্যে নেট জিরো লক্ষ্য অর্জনের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রশমিত করার জন্য পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ উৎসাহিত করতে সবুজ এবং টেকসই উভয় কার্যক্রমে বিনিয়োগের ওপর জোর দিয়েছে। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বিরূপ প্রভাব এড়াতে ব্যাংক এশিয়া এরই মধ্যে টেকসই আর্থিক কার্যক্রম জোরদার করতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১০টি শাখায় ‘ডেডিকেটেড সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স হেল্প ডেস্ক’ স্থাপন করেছে। এ ছাড়া এক্ষেত্রে ব্যাংকের ঋণ পোর্টফোলিও বাড়ানোর জন্য নীতি এবং প্রাসঙ্গিক নির্দেশিকার ওপর আলোচনার মাধ্যমে এ ধরনের অর্থায়ন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে ব্যাংক তার কর্মকর্তাদের জন্য নিয়মিত লার্নিং সেশনের আয়োজন করছে।
ব্যাংক এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) শাফিউজ্জামান ব্যাংকের ভবিষ্যৎ কৌশল ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, ‘টেকসই অর্থায়নের সম্ভাবনাগুলো খুঁজে বের করার জন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি এবং এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমরা আমাদের প্রচেষ্টাকে সর্বোচ্চ স্তরে প্রসারিত করব।’ 

তিনি আরও বলেন, ব্যাংক এশিয়া দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালনের পাশাপাশি আগামী দিনে সবুজ ও টেকসই উদ্যোগে বিনিয়োগ বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ব্যাংকটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শূন্য লক্ষ্য অর্জনেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে ব্যাংক এশিয়া বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনেক নতুন উদ্যোগের পথপ্রদর্শক। এর মধ্যে রয়েছে ২০১৭ সালে জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলায় সরিষাবাড়ী সেলস অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন অব পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (পিডিপি) স্থাপিত দেশের প্রথম অন-গ্রিড সোলার প্লান্ট, এনগ্রিন সরিষাবাড়ী সোলার প্লান্টে অর্থায়ন উল্লেখযোগ্য। প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন ৪৫ শতাংশ কমাতে হবে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে নিট জিরোতে পৌঁছাতে হবে।

ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে দেশকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সহায়তা করার লক্ষ্যে ব্যাংক এশিয়া সবসময় টেকসই উন্নয়নের বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। এটি শুধু ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়; বরং পরিবেশ, সামাজিক ও সুশাসন (ইএসজি) নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।’
গত অর্থবছরে ব্যাংক এশিয়ার গ্রিন ফাইন্যান্স ৫০ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রায় ৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ব্যাংকটি ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রায় ১ লাখ ঋণগ্রহীতাকে ১৩৫টি শাখা, ১৫টি উপশাখা, পাঁচটি ইসলামিক ব্যাংকিং উইন্ডো এবং সারাদেশে প্রায় ৫ হাজার ৫০০টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের মাধ্যমে এ ধরনের আর্থিক সুবিধা দিয়েছে। এর আগের  অর্থবছরে এ খাতে ঋণগ্রহীতার সংখ্যা ছিল প্রায় ১২ হাজার ৫০০ জন।

সবুজ অর্থায়নের অংশ হিসেবে ব্যাংক এশিয়া এখন পোশাক খাত, বায়োগ্যাস প্লান্ট, সৌরবিদ্যুৎ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বর্জ্য শোধনাগার এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী ইটভাটাসহ বিভিন্ন টেকসই উদ্যোগে বিনিয়োগ করছে। ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ব্যাংকটি নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ২০৩ কোটি টাকার পাশাপাশি এনার্জি ও রিসোর্স দক্ষতা বাড়াতে ৫৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ঋণ প্রদান করেছে। এ ছাড়া ব্যাংকটি এ সময় ১ লাখ ৫ হাজার ৩২১ জন গ্রামীণ কৃষকের কাছে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ বিতরণ করেছে, যার মধ্যে ৯০ কোটি টাকা ১৫ হাজার ৪২৪ জন কৃষকের মাঝে অনলাইন ক্রেডিট অ্যাপ্রুভাল সিস্টেমের (ওকাস) মাধ্যমে অনুমোদিত হয়েছে। বিতরণ করা অর্থ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর অপারেটিং ব্যয় অনেকাংশে কমানোর পাশাপাশি তাদের জ্বালানি ও সম্পদের উৎকর্ষতা বাড়াতে সাহায্য করেছে।
টেকসই খাতে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্যাংক এশিয়া পরপর দুই বছর (২০২০ ও ২০২১) বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালিত টেকসই রেটিংয়ে শীর্ষ দশটি ব্যাংকের মধ্যে স্থান পেয়েছে।
সব তপশিলি ব্যাংককে নিজ নিজ ক্ষেত্রে এসডিজি লক্ষ্য অর্জনের জন্য ইনটেনটেড ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশন (আইএনডিসি) বাস্তবায়নে অংশগ্রহণ করতে হবে। আইএনডিসিতে বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে স্বাভাবিক ব্যবসায়িক (বিএইউ) স্তর থেকে নিঃশর্তভাবে ৫ শতাংশ গ্রিনহাউস গ্যাস (জিএইচজি) নির্গমন হ্রাস বা বিএইউ স্তর থেকে শর্তসাপেক্ষ ১৫ শতাংশ জিএইচজি নির্গমন কমাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আরও পড়ুন

×