বিভিন্ন অভিযোগ থাকায় দেশের মোট ৩৩টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে তিনটি গোয়েন্দা সংস্থা। এর মধ্যে ইভ্যালিসহ ১০টি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব ও লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করেছেন গোয়েন্দারা। নতুন করে ২৩টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এ তালিকায় চীনের ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবার মালিকানাধীন দারাজের মতো প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ও সংশ্নিষ্ট ২৯ ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তলব করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণাধীন বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বা বিএফআইইউ। গত সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিন গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে আলাদাভাবে তালিকা দেওয়া হয় বিএফআইইউকে।
জানা গেছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে তিনটি গোয়েন্দা সংস্থা আলাদা তালিকা দেয়। একটি সংস্থা দিয়েছে ১৯টির তালিকা। বাকি দুটি সংস্থা ১৩টি এবং ১৭টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা দিয়েছে। এরই মধ্যে বিতর্কিত অনেক প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের লেনদেনসহ যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করেছে বিএফআইইউ। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ ও মালিকদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নতুন করে এখন ২৪ ই-কমার্সের লেনদেনের তথ্য চাওয়া হলো। প্রতিষ্ঠানগুলোর অ্যাকাউন্টের লেনদেন, গ্রাহকদের পাওনা, অ্যাকাউন্টে জমার পরিমাণসহ বিভিন্ন তথ্য বিশ্নেষণ করে আগামী ১১ নভেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে দেওয়া হবে। গ্রাহকদের অর্থ ফেরতসহ বিভিন্ন বিষয়ে সেখানে আলোচনা হবে। অ্যাকাউন্ট
তলবের তালিকায় রয়েছে- দারাজ ও এর স্বত্বাধিকারী আলিবাবা ডটকম এবং প্রিয়শপ ও প্রতিষ্ঠানটির প্রধান আশিকুল আলম খান। এ ছাড়া রয়েছে বাংলাদেশ ডিল ও এ কোম্পানির ফারজানা কবির ইশিতা ও ফিদা মাহমুদ আশফাক। ইনফিনিটি মার্কেটিং ও এর চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের হিসাব তলব করা হয়েছে। অন্যদের মধ্যে রয়েছে ওয়ালমার্ট ও এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ ফরিদ আহম্মদ, আলীফ ওয়ার্ল্ড ও এর এমডি রাশেদুল ইসলাম রেয়ন, পরিচালক মিজানুর রহমান, সাজ্জাদ ও সাইফ, অ্যামস বিডি ও এর এমডি আশেকুল ইসলাম তানজীল, চেয়ারম্যান কায়সার হাবিব, পরিচালক মো. আবদুর রউফ বারেক, আহনাফ তাহমিদ নাহিয়ান ও মো. কামরুজ্জামান, এ্যানেক্স ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ও এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী রিমন, এমডি মোহাম্মদ জুলফিকার আলী, পরিচালক মো. মোফাজ্জেল হোসেন ও মো. ফিরোজ আলম এবং ব্রাইট হ্যাশ ও এর মালিক মো. ছালেকিন।
তালিকায় আরও আছে স্বাধীন ও এর পরিচালক শাদমান ওয়াই, শামীরা ও ডেডরিক ভ্যান ওম্মেরেন, আকাশ নীল ও এর এমডি মসিউর রহমান ও পরিচালক ইফতেখার উজ জামান রনি, গেজেট মার্ট ডটকম ও এর মালিক হারুন অর রশিদ। শেরেস্ত ডটকম ও এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান ইমরান রাসেল, পরিচালক মো. শামীম রেজা, ইরফান হোসাইন, জুনায়েদ হোসাইন, রাহাত হোসাইন চৌধুরী ও শেখ আহমেদ, আস্থার প্রতীক ও এর মালিক রুশো তালুকদার, টিকটিকি, শপ আপ ই-লোন, বাড়ি দোকান ডটকম, ই-শপ ইন্ডিয়া, বিডি লাইক, সান টিউন, চলন্তিকা, সুপম প্রোডাক্ট এবং নিউ নাভানা।
উচ্চ ছাড়ে পণ্য বিক্রির কথা বলে গ্রাহকের কাছ থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে কয়েকটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান। অর্ডার নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে পণ্য সরবরাহ না করায় সমালোচনার মুখে পড়েছে পুরো ই-কমার্স খাত। অনেকে গ্রাহক বা মার্চেন্টের অর্থ নিয়ে পালিয়েছে। এরই মধ্যে ১০ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টের তথ্য সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- ইভ্যালি, আলেশা মার্ট, কিউকম, ই-অরেঞ্জ, ধামাকা শপিং, সিরাজগঞ্জ শপ, আলাদিনের প্রদীপ, বুমবুম, আদিয়ান মার্ট ও নিডস ডট কম বিডি।