বেলারুশের উত্তর-পশ্চিম এলাকা দক্ষিণ গ্রোদনোর কুজনিকা দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ঢুকতে চাওয়া শরণার্থীদের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে পোল্যান্ডের পুলিশ। 

গত মঙ্গলবার বেলারুশ সীমান্ত হয়ে পোল্যান্ডে ঢুকতে চাওয়া শরণার্থীরা মারমুখী হয়ে উঠলে পুলিশ জলকামান ও টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করতে বাধ্য হয় বলে দাবি করেছে পোল্যান্ড।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, পোল্যান্ড সরকারের এক ভিডিওতে দেখা গেছে, শরণার্থীরা সীমান্তের কাঁটাতারে ঢিল ছুঁড়ছে, কেউবা গাছের গুড়ি দিয়ে কাঁটাতারে বেড়া ছিঁড়ে ফেলার চেষ্টা করছেন। এসময় সংঘাতে একজন বিক্ষোভকারী নিহত হন, যিনি সিরিয়ার নাগরিক বলে জানা গেছে। তাকে পোল্যান্ডের বোহিনিকি গ্রামে সমাহিত করা হয়েছে। শরণার্থীদের এই বিক্ষোভে অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন বলে খবর এসেছে পোল্যান্ড ও বেলারুশের গণমাধ্যমে। 

ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের নানা দেশ থেকে আসা এই শরণার্থীরা বেলারুশ সীমান্ত হয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোতে ঢুকতে চাইছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। ইইউ জোটভুক্ত লিথুনিয়া,লাটভিয়াও অভিযোগ করেছে, বেলারুশ শরণার্থীদের ক্রমাগত সীমান্তে ঠেলে দিচ্ছে যা গত গ্রীষ্মকাল থেকে ক্রমাগত বাড়ছে। 

বিবিসি জানায়, কয়েক সপ্তাহ ধরে হাজার হাজার শরণার্থী ইউরোপীয় ইউনিয়নে ঢোকার চেষ্টায় বেলারুশ সীমান্তে জড়ো হচ্ছে। এই শরণার্থীদের বেশিরভাগই মধ্যপ্রাচ্যের।

শীতের এই সময়ে বেলারুশ সীমান্তের অস্থায়ী ক্যাম্পে বাস করছে শিশুসহ বহু শরণার্থী। সম্প্রতি কয়েকদিনে হাজার হাজার শরণার্থী উত্তর-পশ্চিম বেলারুশের দক্ষিণ গ্রোদনোর কুজনিকা ক্রসিং এ জড়ো হয়েছে।

সোমবার শরণার্থীরা সীমান্ত বেষ্টনী ভেঙে বেলারুশের অংশের একটি ক্রসিং জড়ো হয়। পোলিশ সীমান্তরক্ষী সেনারা তাদেরকে পোল্যান্ডে ঢুকতে বাধা দিলে সংঘর্ষ বেধে যায়। মঙ্গলবার সেই বিক্ষোভ ভয়াবহ আকার নেয়।

এই সংঘাতের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, গত বছর বেলারুশের দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট অ্যালেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো নির্বাচনে জয় ঘোষণা করা, দেশে ভিন্নমত দমন এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের গ্রেপ্তার করার পর ইইউ-বেলারুশ সম্পর্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ইইউও বেলারুশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সীমান্ত সংকটের প্রেক্ষাপটে তা আরও জোরদারও করা হতে পারে।

ইইউ বলছে, এবার তারা বিমানপথেও বেলারুশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে।

ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল জেনস স্টলটেনবার্গ ব্রাসেলসে ইউউ দেশগুলোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের বৈঠকে বলেছেন, ‘বেলারুশ নেতা আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কু হতভাগ্য শরণার্থীদের তার প্রতিশোধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। আমরা এ বিষয়ে খুব উদ্বিগ্ন। যাই হোক, আমরা এই ইস্যুতে পোল্যান্ডের পাশে আছি। হতভাগ্য শরণার্থীদের সঙ্গেও আমরা রয়েছি।’

কাউন্সিল অফ ইউরোপের মানবাধিকার কমিশনার ডুঞ্জা মিজাতোভিচ বলেছেন, ‘সম্প্রতি পোল্যান্ড ও বেলারুশের সীমান্ত ঘুরে এসে আমরা দেখলাম, সেখানে শরণার্থীরা মারাত্মক সঙ্কটে রয়েছেন। দুর্ভোগ ক্রমশ বাড়ছে। এই সঙ্কট মোচনের জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমাদের একটি উপায় খুঁজে বের করতে হবে।’  

বেলারুশের মিত্র দেশ রাশিয়াকে এই সঙ্কট মোচনে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়েছে ইইউ ও ন্যাটো। 

ফরাসি সশস্ত্র বাহিনী মন্ত্রী ফ্লোরেন্স পার্লি বলেছেন, ইউরোপ বেলারুশ-পোলিশ সীমান্ত এবং ইউক্রেন সীমান্তে রাশিয়ার কার্যকলাপে নজর রাখছে। 

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস ক্রেমলিন জানিয়েছে, বেলারুশ সীমান্তে শরণার্থী সঙ্কট নিয়ে গত মঙ্গলবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বেলারুশ প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কো।