আয়কর ও ভ্যাটে জাতীয় পুরস্কার পাচ্ছেন ১৫০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। ২০২০-২১ কর বছরে সর্বোচ্চ আয়কর দেওয়ার জন্য ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য মিলিয়ে ১৪১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে 'ট্যাক্স কার্ড' দেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। অন্যদিকে সর্বোচ্চ ভ্যাট প্রদানকারী হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে উৎপাদন, ব্যবসা ও সেবা খাতে তিনটি করে মোট ৯টি প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট দিবসে সম্মাননা জানানো হবে। 

জাতীয় পর্যায়ের বাইরে জেলা পর্যায়ে ১০২টি প্রতিষ্ঠানকে শীর্ষ ভ্যাটদাতার পুরস্কার দেওয়া হবে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য সর্বোচ্চ ভ্যাটদাতা এসব প্রতিষ্ঠান বাছাই করা হয়েছে। 

বুধবার সর্বোচ্চ আয়কর ও ভ্যাট প্রদানকারীদের তালিকা সংবলিত আলাদা গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।

আগামী ২৪ নভেম্বর জাতীয় কর দিবসের অনুষ্ঠানে ১০ জনকে ট্যাক্স কার্ড দেওয়া হবে। বাকি ১৩১ জন নিজ কর অঞ্চল থেকে ট্যাক্স কার্ড পাবেন। আর ১০ ডিসেম্বর রাজধানীর আইডিইবি ভবনে জাতীয় ভ্যাট দিবস, ২০২১-এর অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুরস্কার দেওয়া হবে।

ব্যক্তি পর্যায়ে ৭৫টি, কোম্পানি ৫৪টি এবং অন্যান্য ক্যাটাগরিতে ১২টি ট্যাক্স কার্ড দেওয়া হবে। এ বছর কোম্পানি পর্যায়ে যেসব প্রতিষ্ঠান শীর্ষ করদাতা হিসেবে ট্যাক্স কার্ড পাচ্ছে তাদের মধ্যে রয়েছে- তৈরি পোশাক ক্যাটাগরিতে রিফাত গার্মেন্ট, হা-মীম ডেনিম, জাবের অ্যান্ড জোবায়ের, ইউনিভার্সেল জিন্স, ইয়াংওয়াং হাইটেক, স্কয়ার ফ্যাশন ও জিএমএস কম্পোজিট। 

স্পিনিং ক্যাটাগরিতে বাদশা টেক্সটাইল, নোমান টেক্সটাইল, নাহিদ কম্পোজিট, কোটস বাংলাদেশ, ইসমাইল আঞ্জুমানআরা ফেব্রিকস, প্রিমিয়ার ১৮১৮ ও নাহিদ কটন মিলস ট্যাক্স কার্ড পাচ্ছে। পাট ক্যাটাগরিতে পাচ্ছে আকিজ জুট মিলস, আইয়ান জুট ও আইআর খান জুট। চামড়া শিল্পে বাটা শু, এপেক্স ফুটওয়্যার ও লাইমাই ফুটওয়্যার।

ব্যাংক খাতে পাচ্ছে ইসলামী ব্যাংক, এইচএসবিসি, ব্র্যাক ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংক। অ-ব্যাংকিং আর্থিক ক্যাটাগরিতে রয়েছে আইসিবি, ডিবিএচ, বিআইএফএল ও ইডকল। টেলিকমিউনিকেশনে গ্রামীণফোন, প্রকৌশল ক্যাটাগরিতে উত্তরা মোটর্স, মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি, উত্তরা অটোমোবাইলস ট্যাক্স কার্ড পাচ্ছে। খাদ্য ক্যাটাগরিতে পাচ্ছে নেসলে বাংলাদেশ, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্র্রিজ ও প্রাণ ডেইরি। জ্বালানি ক্যাটাগরিতে তিতাস গ্যাস, গ্যাস ট্রান্সমিশন ও পেট্রোম্যাক্স। 

ওষুধ ও রসায়ন ক্যাটাগরিতে ইউনিলিভার, স্কয়ার ফার্মা, ইনসেপ্টা, রেনেটা ফার্মা ট্যাক্স কার্ড পাবে। রিয়েল এস্টেট খাতে পাবে বের আরসি, রিজভি কনস্ট্রাকশন ও বে ডেভেলপমেন্ট।

এ ছাড়া ব্যক্তিগত পর্যায়ে যারা ট্যাক্স পাবেন তাদের মধ্যে রয়েছেন সিনিয়র সিটিজেন ক্যাটাগরিতে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, ট্রান্সকম লিমিটেডের প্রয়াত ব্যবস্থাপনা পরিচালক লতিফুর রহমান, ব্যবসায়ী ক্যাটাগরিতে হাজী মো. কাউজ মিয়া, নজরুল ইসলাম মজুমদার, নাফিস সিকদার, শওকত আলী চৌধুরী ও আলহাজ আনোয়ার হোসেন। 

সাংবাদিক ক্যাটাগরিতে পাচ্ছেন চ্যানেল আইয়ের ফরিদুর রেজা, আব্দুল মুকিত মজুমদার, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান এবং চট্টগ্রামের মোহাম্মাদ আব্দুল মালেক।

আইনজীবী ক্যাটাগরিতে ট্যাক্স কার্ড পাচ্ছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, কাজী মোহাম্মাদ তানজীবুল আলম, আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার নিহাদ কবির ও তৌফিকা আফতাব।

খেলোয়াড়দের মধ্যে মাহমুদ উল্লাহ, তামিম ইকবাল খান ও সৌম্য সরকার, অভিনেতা ও অভিনেত্রীদের মধ্যে সুবর্ণা মোস্তফা, বিদ্যা সিনহা মিম ও বাবুল আহমেদ, গায়ক ও গায়িকাদের মধ্যে তাহসান রহমান খান, এসডি রুবেল ও কুমার বিশ্বজিৎ দে ট্যাক্স কার্ড পাচ্ছেন। এ ছাড়া নতুন করদাতা, অ্যাকাউন্ট্যান্ট, স্থপতি, প্রকৌশলী, চিকিৎসক, বেতনভোগী, তরুণ (যাদের বয়স ৪০ বছরের নিচে), মহিলা, প্রতিবন্ধী ও গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ক্যাটাগরিতে ট্যাক্স কার্ড পাবেন আরও কয়েকজন।

জাতীয় পর্যায়ে শীর্ষ ভ্যাটদাতা প্রতিষ্ঠান : উৎপাদন খাতে জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কারের জন্য মনোনীত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে- এরিস্টোফার্মা লিমিটেড, স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেড ও রংপুরের মায়া বিড়ি ফ্যাক্টরি। ব্যবসা খাতে জাতীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ ভ্যাটদাতা খুলনার এস এম মটরস, সিলেটের এমকো বাজাজ ইন্টারন্যাশনাল ও ঢাকার ম্যাবস ইউনিয়ন মটরস। আর সেবা খাতে শীর্ষ ভ্যাটদাতা হয়েছে- বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার কোম্পানি লিমিটেড, গ্রে অ্যাডভারটাইজিং (বাংলাদেশ) লিমিটেড ও বরার্ট বস (বাংলাদেশ) লিমিটেড।

এ বিষয়ে এসবিআরের সদস্য (মূসক বাস্তবায়ন) ড. আব্দুল মান্নান শিকদার সমকালকে বলেন, ভ্যাট দেওয়াকে উৎসাহিত করতে এনবিআরের বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম রয়েছে। এর মধ্যে শীর্ষ ভ্যাট পরিশোধকারীদের জাতীয় ও জেলা পর্যায়ে সম্মাননা জানানো অন্যতম। অন্যান্য বছরের মতো এ বছরও জাতীয় ভ্যাট দিবসে সম্মাননা জানানো হবে।

উল্লেখ্য, এনবিআর যত রাজস্ব সংগ্রহ করে তার বড় অংশ আসে ভ্যাট থেকে। এরপরই রয়েছে আয়কর। চলতি অর্থবছরে এনবিআর আয়কর থেকে এক লাখ ৫ হাজার ৩২৫ কোটি এবং ভ্যাট থেকে এক লাখ ২৮ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। এনবিআর মনে করে, আয়কর ও ভ্যাট থেকে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানোর অনেক সুযোগ রয়েছে। করদাতাদের কর দিতে এবং সাধারণ মানুষকে ভ্যাট দিতে উৎসাহিত করতে এনবিআর বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি নিয়েছে। 

এই ট্যাক্স কার্ড ও ভ্যাটদাতা সম্মাননা তারই অংশ। খুচরা কেনাকাটার বিপরীতে ভ্যাট প্রদানকারীদের লটারির মাধ্যমে প্রতি মাসে পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।