পণ্যের মতো সেবা রপ্তানি আয় দেশে আনার সময়সীমা বেঁধে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। পণ্যের মতো এখন থেকে সেবা রপ্তানির আয়ও সর্বোচ্চ চার মাসের মধ্যে দেশে আনতে হবে। এ ধরনের আয়ের জন্য ক্রিপ্টোকারেন্সি বা এ ধরনের মুদ্রায় হিসাব খোলা যাবে না। 

এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে ব্যাংকগুলোতে পাঠানো হয়।

সেবা রপ্তানি ও ফ্রিল্যান্সারদের আয় সহজে দেশে আনতে এর আগে গত অক্টোবরে আন্তর্জাতিক মার্কেট প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ছাড়া অন্য দেশের লাইসেন্সপ্রাপ্ত পেমেন্ট গেটওয়েতে অনানুষ্ঠানিক বা 'নোশনাল' অ্যাকাউন্ট খোলারও সুযোগ দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক মার্কেট প্ল্যাটফর্ম বা বিদেশি পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে পাওয়া বৈধ আয় প্রথমে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংকের 'নস্ট্রো' হিসাবে জমা করতে হয়। এরপর গ্রাহকের হিসাবে জমা করার নিয়ম রয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, রপ্তানি আয় চার মাসের মধ্যে দেশে আনার বাধ্যবাধকতা সেবা রপ্তানির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। সেবা রপ্তানিকারকের বিদেশে পরিচালিত নোশনাল হিসাব কিংবা মার্চেন্ট হিসাবের মাধ্যমে এ আয় আনতে হবে। এর বাইরে ক্রিপ্টোকারেন্সিসহ অন্য কোনো মুদ্রায় দেশের বাইরে হিসাব খোলা যাবে না। রপ্তানি আয় বাবদ পাওয়া অর্থ দিয়ে বিদেশে মূলধনি বিনিয়োগ কিংবা পোর্টফোলিও বিনিয়োগ, স্থায়ী বা ভার্চুয়াল সম্পদ কেনা যাবে না।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে সফটওয়্যারসহ বিভিন্ন আইটি ও ফ্রিল্যান্সিং সেবা রপ্তানি বাড়ছে। এক সময় এ ধরনের আয় দেশে আনার কোনো সুযোগ ছিল না। তবে ২০১১ সালে প্রথমবারের মতো বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংকগুলোকে ক্ষুদ্র পরিসরে সেবা খাতের আয় প্রত্যাবাসনের জন্য বিদেশে অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সেবা সরবরাহকারীর (ওপিজিএসপি) সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ দেয়। পর্যায়ক্রমে নীতিমালা সহজ করা হচ্ছে।