গতকালের মতো একই অবস্থা বিরাজ করছে আজ দেশের শেয়ারবাজার লেনদেনে। শুরুতেই সূচকের বড় উত্থান হলেও আধা ঘণ্টার বেশি টিকেনি। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর পর প্রথম ১৫মিনিট শেয়ারদর ও সূচক ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এরপর থেকে যে নিম্নমুখী ধারা শুরু হয়েছিল, তা দুপুর ১২টার পর অব্যাহত থাকতে দেখা গেছে।

আজকের লেনদেন পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর প্রথম ১৫ মিনিটে বেশিরভাগ শেয়ারদর বেড়ে কেনাবেচা হয়। শেয়ারদর বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিএসইএক্স সূচক গতকালের তুলনায় ৫৬ পয়েন্ট বেড়ে ৬৮৫১ ছাড়ায়।

কিন্তু এরপরই বৃহৎ বাজার মূলধনী কয়েকটি কোম্পানির শেয়ার দর কমতে শুরু করলে সূচক নিম্নমুখী হয়। দুপুর ১২টায় ডিএসইএক্স সূচক গতকালের তুলনায় ২৪ পয়েন্ট হারিয়ে ৬৭৭১ পয়েন্টে অবস্থান করছিল।

আজও সূচকের নিম্নমুখীতায় প্রধান ভূমিকা রাখছে বেক্সিমকো লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মা, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ, স্কয়ার ফার্মা, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, ডেল্টা লাইফ, বিকন ফার্মার মত বৃহৎ বাজারমূল্য কোম্পানির শেয়ারদর হ্রাস।

এসময় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ১২৫ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড কেনাবেচা হচ্ছিল। একই সময় দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল ১৭১ শেয়ার ও ফান্ড। দল অপরিবর্তিত অবস্থায় ছিল ৬৮টি।

আজকের লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টায় ডিএসইতে ৪৮৫ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।

শেয়ারবাজারের চলতি নিম্নমুখী ধারার জন্য দুটি কারণ প্রধান বলে মনে করেন শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা। এর একটি হলো রাজনীতিতে সাময়িক অস্থিরতা।  অন্যটি হলো বাংলাদেশ ব্যাংক এবং শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি মধ্যে কিছু বিষয়ে মতদ্বৈততা।

এদিকে আজ বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। প্রচার আছে, উভয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিজেদের মধ্যকার মতদ্বৈততা কমাতে আলোচনা করবে। বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, শেয়ারবাজারে ব্যাংকের এক্সপোজার, বন্ডে বিনিয়োগ এক্সপোজার থেকে বাইরে রাখা ইস্যুতে প্রধান আলোচনা হতে পারে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পুঞ্জিভূত লোকসান থাকলে লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবে কি পারবে না এবং শেয়ারবাজার স্থিতিশীলকরণ তহবিল সংক্রান্ত বিধিমালায় অবন্টিত মুনাফার যে সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তা সংশোধন নিয়ে আলোচনা হবে।