নিজের মধ্যকার মতদ্বৈততা কমিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির বৈঠক করেছিল গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে ইতিবাচক খবর প্রকাশের প্রভাব দেখা যাচ্ছে শেয়ারবাজারে।

আজ বুধবার বেশ চাঙ্গা অবস্থায় দিনের শেয়ার কেনাবেচা শুরু হয়। যা লেনদেনের প্রথম আড়াই ঘণ্টা শেষেও অব্যাহত থাকতে দেখা গেছে।

দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে ৩৬৯ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড লেনদেনে এসেছিল। এর মধ্যে ৩৩০টি দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল। বিপরীতে দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল মাত্র ১৮টি এবং দর অপরিবর্তিত অবস্থায় কেনাবেচা হতে দেখা গেছে ২১ শেয়ার ও ফান্ডকে।

সিংহভাগ শেয়ারের দরবৃদ্ধির বেশ প্রভাব ছিল বাজার মূল্য সূচকে। ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স এ সময় ১১৩ পয়েন্ট বেড়ে ৬৮১৬ পয়েন্টে অবস্থান করছিল। এ সময় সূচক বৃদ্ধির হার ছিল ১.৬৯ শতাংশ।

সূচকের এ ঊর্ধ্বমুখী ধারা শুরু হয়েছিল আজ সকাল ১০টায় দিনের স্বাভাবিক লেনদেনে একেবারে শুরু থেকে। ওপেনিং সেশনের শেয়ার কেনাবেচার ওপর ভর করে ১০টায় ডিএসইএক্স ৫৮ পয়েন্ট বেড়ে ৬৭৬১ পয়েন্ট ছাড়িয়েছিল। 

এরপর মিনিটে মিনিটে সূচক বাড়তে থাকে। বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে সূচকটি গতকালের তুলনায় ১৫৪ পয়েন্ট বেড়ে ৬৮৫৭ পয়েন্ট ছাড়ায়। দুপুর সাড়ে ১২টায় সূচকের বৃদ্ধি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এ সময় সর্বাধিক ভূমিকা রাখছিল বেক্সিমকো লিমিটেড। কোম্পানিটির শেয়ারদর গতকালের তুলনায় ১০ টাকা ৮০ পয়সা বাড়তেই সূচক বেড়েছে প্রায় ২৬ পয়েন্ট।

এছাড়া বেক্সিমকো ফার্মা ১১ পয়েন্ট, স্কয়ার ফার্মা, ৯ পয়েন্ট বিট্রিশ আমেরিকান টোবাকো, সাড়ে ৪ পয়েন্ট যোগ করেছিল। খাতওয়ারি লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আজ প্রতিটি খাতেরই সিংহভাগ শেয়ার দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছে। দুপুর সাড়ে ১২টায় খাতওয়ারি হিসেবে সর্বাধিক ৩.৩৬ শতাংশ দরবৃদ্ধি নিয়ে শীর্ষে ছিল চামড়া খাত।

তবে বড় খাতগুলোর মধ্যে বীমা খাতের শেয়ারদর বৃদ্ধি ছিল শীর্ষে। এ খাতের শেয়ারদর এ সময় বেড়েছিল ২.৩৬ শতাংশ। এছাড়া ব্যাংক খাতের শেয়ার গড়ে ১.১১ শতাংশ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ১.৫৮ শতাংশ, প্রকৌশল ১.৪০ শতাংশ, ওষুধ ও রসায়ন ১.৬৩ শতাংশ, বস্ত্র ১.৫২ শতাংশ দর।

তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর দর এ সময় ৪.১৬ শতাংশ বেড়ে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। লেনদেনের প্রথম আড়াই ঘণ্টায় ডিএসইতে প্রায় ৫৫০ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। একক কোম্পানি হিসেবে সর্বাধিক ৮১ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল ওয়ান ব্যাংকের। যদিও এ শেয়ারটির দর কমেছে।

খাতওয়ারি হিসেবে লেনদেনের শীর্ষে যথারীতি রয়েছে ব্যাংক খাত। এ সময় পর্যন্ত এ খাতের ২১২ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। যা ছিল মোট লেনদেনের ৩৬ শতাংশ। 

খাতওয়ারি লেনদেনে এর পরের অবস্থানে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত। মোট লেনদেনে এ খাতের অংশ ছিল প্রায় ১৯ শতাংশ।