করোনাভাইরাস বিপর্যয়ের অভিঘাতে বস্ত্রখাতকে রক্ষায় অবদানের জন্য জাতীয় বস্ত্র দিবসে সাতটি সংগঠনকে সম্মাননা দেবে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে জাতীয় বস্ত্র দিবস-২০২১ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী বীরপ্রতীক গোলাম দস্তগীর গাজী।

তিনি জানান, বস্ত্র খাতে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঘোষিত বিশেষ প্রণোদনার কারণে এ খাত জাতীয় রপ্তানির ধারাকে করোনাভাইরাসের ক্ষতিকর প্রভাবমুক্ত রাখতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্বব্যাপী চলমান করোনাভাইরাস বিপর্যয়ের অভিঘাতে বস্ত্রখাতকে রক্ষায় অবদানের জন্য জাতীয় বস্ত্র দিবসে সাতটি সংগঠনকে সম্মাননা জানানো হবে।

এবার সম্মাননা পেতে যাচ্ছে- বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচার এ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নীটওয়ার ম্যানুফ্যাকচার এন্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন (বিকেএমইএ), বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস এসোসিয়েশন (বিটিএমএ), বাংলাদেশ গার্মেন্টস বায়িং হাউজ এসোসিয়েশন (বিজিবিএ), বাংলাদেম স্পেশালাইজড টেক্সটাইল মিলস্ এন্ড পাওয়ার লুম ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশন (বিএসটিএমপিআইএ), বাংলাদেশ টেরিটাওয়েল এন্ড লিলেন ম্যানুফ্যাকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন (বিটিটিএলএমইএ) ও বাংলাদেশ জাতীয় তাঁতী সমিতি।

এগুলোর মধ্যে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ, বিজিবিএ, বিএসটিএমপিআইএ ও বিটিটিএলএমইএ- এই ছয়টি সংগঠন গতবারও সম্মাননা পেয়েছিল। এবার নতুন যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় তাঁতী সমিতি। আর গতবার এই ছয়টি সংগঠনের সঙ্গে বুটেক্স, বিসিএ ও এনসিসিবি সম্মাননা পেয়েছিল।

২০১৯ সালে ৪ ডিসেম্বরকে জাতীয় বস্ত্র দিবস হিসেবে পালনের ও বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিবছর সম্মাননার সিদ্ধান্ত হয়।

আগামী ৪ ডিসেম্বর রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে জাতীয় বস্ত্র দিবসের মূল অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মির্জা আজম উপস্থিত থাকবেন।

গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, বস্ত্র শিল্পের ধারাবাহিক উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের গতি বেগবান করা এবং অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা লক্ষ্য সামনে রেখে ০৪ ডিসেম্বর ‘জাতীয় বস্ত্র দিবস’ দেশব্যাপী উদযাপন করা হবে। এবারের জাতীয় বস্ত্র দিবসের প্রতিপাদ্য বস্ত্রখাতের বিশ্বায়ন; বাংলাদেশের উন্নয়ন ।

তিনি বলেন, বস্ত্র শিক্ষার সম্প্রসারণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল সৃষ্টি ও আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন কারিগরী জ্ঞানের সমাবেশ ঘটিয়ে বস্ত্রশিল্পকে বিশ্বায়নের পথে এগিয়ে নিতে এ মন্ত্রণালয় সার্বিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। বাংলাদেশের সোনালী ঐতিহ্য মসলিনকে বড় পরিসরে বাণিজ্যিক রূপদানের জন্য ‘ঢাকাই মসলিন হাউজ’ প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব মো.আব্দুর রউফ, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম, অতিরিক্ত সচিব এস.এম.সেলিম রেজা, বস্ত্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. নুরুজ্জামানসহ বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধতন কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।