জনগনের স্বার্থ রক্ষার জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আইন আছে কিন্তু বাস্তবায়ন নেই। জ্বালানি বিভাগের নির্দেশেই মূলত বিইআরসি চলে। কমিশন অনকেটা দন্তহীন বাঘে পরিণত হয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে 'ভোক্তার জ্বালানি অধিকার সংরক্ষণে বিইআরসি আইন ও বিইআরসির ভূমিকা' শীর্ষক মূল্যায়ন প্রতিবেদনের ওপর নাগরিকদের মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

কনজুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এই সভার আয়োজন করে। মতবিনিময় সভায় মূল্যায়ন প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ূয়া।

তিনি বলেন, বিইআরসির যে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে তার প্রয়োগ না করে তারা মন্ত্রণালয় বা সরকারমুখী হয়ে আছেন। তারা স্বাধীন একটা প্রতিষ্ঠান কিন্তু স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। আইনে আছে গণশুনানির মাধ্যমে ভোক্তার কথা শুনতে হবে। কিন্তু বিইআরসি তা শোনে না। 

ক্যাব সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, বিইআরসি সরকার এবং মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের বাহিরে কিছু বলতে বা কিছু করতে পারে না। কারণ বিইআরসি তো মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্য একটি স্থিতিশীল অবস্থায় থাকা উচিত। বিশ্ব বাজারে দাম বাড়লে আমাদের মত দেশে হঠাৎ করে দাম বাড়িয়ে দেয়াটা ঠিক হয়নি। এখন বিশ্ব বাজারে দাম কমেছে। এখন সরকারের উচিত হবে জ্বালানি তেলের দাম পুনঃবিবেচনা করা। তবে সরকার হয়তো তেলের দাম কমাতে পারবে কিন্তু তেলের দাম বাড়াতে যেসব পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে সেগুলোর দাম কি কমাতে পারবে? বাস ভাড়া, নিত্য পণ্যের দাম তো কমবে না।
ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম বলেন, বিইআরসি আইন ও বিইআরসির ভূমিকা কতটা জ্বালানি অধিকার সংরক্ষণ করছে সে ব্যাপারে মূল্যায়ন প্রতিবেদন বলা হয়েছে। আগামী ৩০ ডিসেম্বর ভোক্তাদের পক্ষ থেকে একটি পলিসি সরকারের কাছে দাখিল করা হবে। তিনি বলেন, বিইআরসি কে তুলে দেবার যড়যন্ত্র হচ্ছে। সচিবরা বলছেন বিইআরসি'র দরকার কি? যদি কেউ বলে বিচার বিভাগের দরকার নেই তাহলে ভাবুন কি ধরণের অভয়ারণ্য সৃষ্টি হবে।

মতবিনিময় সভায় স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট হুমায়ুন কবীর ভুঁইয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সুশান্ত কুমার দাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এনার্জি ইন্সটিটিউটের শিক্ষক ড. এস এম নাফিস শামস, এনার্জিপ্যাকের পরিচালক হুমায়ুন রশীদ, ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপচার্য (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. মঞ্জুর-ই-খোদা তরফদার, অটোগ্যাস স্টেশন মালিক সমিতির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ সিরাজুল মওলা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।