মহামারী করোনাভাইরাসের নতুন ধরণ ওমিক্রনের ‘এপিসেন্টার’ দক্ষিণ আফ্রিকায় সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। 

দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বিবিসি বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাতে জানিয়েছে, দেশটিতে দৈনিক সাড়ে ১১ হাজারের বেশি মানুষের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন; গত সপ্তাহের চেয়ে যা তিন হাজার বেশি। ‘ওমিক্রন’ এর খবর প্রকাশের আগে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে দেশটিতে দৈনিক দুই বা তিন শতাধিক মানুষের আক্রান্ত হতেন।

দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ‘ওমিক্রন’ সংক্রমণের পর দেশটিতে চতুর্থবারের মতো করোনাভাইরাস মহামারী হানা দিয়েছে। হাসপাতালগুলোতে ধীরে ধীরে বাড়ছে রোগী।

দক্ষিণ আফ্রিকার সংক্রামক রোগ বিষয়ক রাষ্ট্রীয় সংস্থা এনআইসিডি বলছে, যারা সম্প্রতি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তাদের অধিকাংশই এখনও টিকা নেননি। 

দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, মাত্র ২৪ শতাংশ মানুষ টিকার পূর্ণ ডোজ সম্পন্ন করেছেন। 

ওমিক্রন সংক্রমণ যখন ভয়াবহ আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে, তখন দক্ষিণ আফ্রিকা দেশজুড়ে টিকাদান কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, যারা এখনও টিকা নেননি, তাদের অবশ্যই টিকার আওতায় আনা হবে।

দক্ষিণ আফ্রিকার করোনাভাইরাস বিষয়ক টাস্কফোর্সের সদস্য অধ্যাপক সেলিম আব্দুল করিম অবশ্যই এখন আতঙ্কগ্রস্ত হতে নারাজ।

তিনি বিবিসিকে বলেন, ‘মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন, একপর্যায়ে তাদের হাসপাতালেও যেতে হচ্ছে... এটা সাধারণত আক্রান্ত হওয়ার দুই থেকে তিন সপ্তাহ পরে হয়... এখনও হাসপাতালে রোগীর তেমন ভিড় নেই। তাই সংক্রমণ পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে রয়েছে তা বলা মুশকিল। মাঠপর্যায় থেকে তথ্য আসছে, কোথাও এখনও কোনো লাল পতাকা টানানো হয়নি। খুব নাটকীয় পরিবর্তন নেই।’ 

বিবিসি জানিয়েছে, বড়দিন ও নতুন বছর উদযাপনের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসলেও দক্ষিণ আফ্রিকার বড় শহর জোহানেসবার্গের দোকানপাট সব বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। শহরজুড়ে আলোচনার বিষয়বস্তু কেবল একটাই ‘ওমিক্রন’।

চলতি সপ্তাহে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ আফ্রিকার বেশকয়েকটি দেশে বিমান চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রধান তেদ্রোস আধানম গেব্রেইসুস বলেছেন, দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য এটা ‘কড়া শাস্তি’র মতো।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, এখনও পর্যন্ত বিশ্বের ২৪টি দেশে ‘ওমিক্রন’ সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, আগে করোনাভাইরাসের অন্য কোনো ধরনে আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তিরা ‘ওমিক্রনে’ আক্রান্ত হবেন না এমন ধারণার কোনো ভিত্তি নেই। তবে টিকা নেওয়া ব্যক্তিরা অনেকটাই সুরক্ষিত থাকবেন।

দক্ষিণ আফ্রিকায় ‘ওমিক্রন’ গবেষক ও সংক্রামক ব্যাধিবিষয়ক ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটের মাইক্রোবায়োলজিস্ট অ্যান ভন গোটেবার্গ বিবিসিকে বলেন, ‘ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণের চেয়ে এবারের পরিস্থিতি একেবারে আলাদা।’

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানির পর ভারত, ঘানা, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ‘ওমিক্রনে’ আক্রান্ত রোগী শনাক্তের কথা জানিয়েছে সম্প্রতি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘ওমিক্রনকে’ উদ্বেগজনক হিসেবে আখ্যা দেওয়ার পর বিশ্বজুড়ে এখন একটাই প্রশ্ন আলোড়িত হচ্ছে। তা হল, করোনা প্রতিরোধে এর আগে যেসব টিকা দেওয়া হচ্ছে তা কি ‘ওমিক্রন’ প্রতিরোধেও কার্যকর হবে?