অসাধু ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের কারসাজিতে এবার ঘ্রাণ ছড়াচ্ছে রসুন। দেশের ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে আমদানি করা রসুনের দাম বেড়েছে প্রতি কেজিতে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। কয়েকদিন আগেও যেসব রসুন পাইকারিতে ৯০ থেকে ৯৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেই রসুনই বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায়। খুচরা বাজারে যার দাম দাঁড়াচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা।

খাতুনগঞ্জের কাঁচা পণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান গোপাল বাণিজ্যালয়ের স্বত্বাধিকারী বলাই কুমার পোদ্দার সমকালকে বলেন, 'কয়েকদিনের ব্যবধানে চীন থেকে আমদানি করা রসুনের দাম প্রতি কেজিতে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। কারণ বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম। দেশি রসুন থাকলেও ক্রেতাদের পছন্দ এই চীনা রসুন। বাজারে আসা প্রায় ৯০ শতাংশ ক্রেতা চায়না রসুন কেনেন।'

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, 'বাজারে প্রতি কেজি দেশি রসুন মানভেদে ৩০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হলেও বেশিরভাগ ক্রেতাই তা কিনতে আগ্রহী নন। তাছাড়া প্রক্রিয়াজাত করে দীর্ঘদিন রাখার ব্যবস্থা না থাকায় উৎপাদনের তিন-চার মাসের মধ্যে এ রসুনের মজুদ শেষ হয়ে যায়। কিন্তু চীনা রসুন আকারে বড়- সংরক্ষণও করা যায় দীর্ঘদিন। তাই বাজারে বছরজুড়েই চাহিদা আর আধিপত্য থাকে চীনা রসুনের। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী আমদানি না হওয়ায় এর দাম অনেক বেড়েছে।'

সরেজমিনে খাতুনগঞ্জের বেশকিছু কাঁচা পণ্যের আড়তে গিয়ে দেখা গেছে, চীন থেকে আমদানি করা রসুনের কমতি নেই সেখানে। অথচ বিক্রেতারা দাম হাঁকাচ্ছেন বেশি। নাম প্রকাশ না করা শর্তে খাতুনগঞ্জের এক আমদানিকারক জানান, রসুনের দাম কেজিপ্রতি ১৫০ টাকার ওপর চলে যাওয়ার মতো অবস্থা এখনও তৈরি হয়নি। এখনও অনেক আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীর আড়তে বাড়তি রসুন মজুদ রয়েছে। কিন্তু ক্রেতার পকেট কাটতে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে। এক ব্যবসায়ী বলেন, 'বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন ছড়িয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চীন থেকে পর্যাপ্ত রসুন আমদানি হচ্ছে না- এই অজুহাত দেখাচ্ছেন কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও আমদানিকারক।'

প্রসঙ্গত, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতেও খাতুনগঞ্জে একশ্রেণির ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকের কারসাজিতে রসুনের দাম কয়েক দফায় বেড়ে কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ২২০ টাকায় ঠেকেছিল। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ টিম অভিযানে নেমে কারসাজির প্রমাণও পেয়েছিল। তখনও অসাধু ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা করোনা পরিস্থিতিকে মূল্যবৃদ্ধির অজুহাত হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা চালিয়েছিলেন।

ক্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, 'অসাধু ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা ছোট কোনো অজুহাত পেলেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয় কয়েক গুণ। কৃত্রিম সংকট ও কারসাজি করেই হঠাৎ রসুনের দাম কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তারপরও প্রশাসন নীরব রয়েছে। বাজার মনিটরিং জোরদার করা হলে আসল দৃশ্য নিশ্চয়ই উঠে আসবে।'

খাতুনগঞ্জে পাইকারিতে রসুনের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট, ফিরিঙ্গী বাজার, বক্সির হাট, কর্ণফুলী বাজার, দেওয়ান বাজার, চকবাজারসহ প্রায় সবখুচরা বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা।

বহদ্দারহাটে আসা নগরের মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা চাকরিজীবী রোখসানা আক্তার বলেন, 'দুইদিন আগেও প্রতি কেজি রসুন কিনেছি ১০০ টাকায়। কিন্তু এখন দাম নাকি ১৬০ টাকা!'
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক বলেন, 'কারসাজি করে রসুনের দাম হঠাৎ বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পেয়েছি। এর সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে শিগগিরই বাজার মনিটরিং কার্যক্রম শুরু হবে।'