আজ সোমবারও দরপতন হচ্ছে শেয়ারবাজারে। দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে লেনদেনে আসা ৩৭৪ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ২৫৩টি বা তিন ভাগের দুইভাগই দর হারিয়ে কেনাবেচা হয়েছে। এর বিপরীতে ৬৬ শেয়ার দর বেড়ে এবং ৫৬টি দর অপরিবর্তিত অবস্থায় কেনাবেচা হয়েছে।

সিংহভাগ শেয়ারের দর কমায় বেশ নেতিবাচক প্রভাব ছিল বাজার মূল্য সূচকে। আজকের লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টাতেই প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স এ সময় ৬৪ পয়েন্ট হারিয়ে অবস্থান করছিল ৬৮৫৬ পয়েন্টে। বেলা পৌনে ১১ টা থেকে সূচক একটানা পতনের মধ্য দিয়ে এ অবস্থানে এসেছিল। দুপুর ১২টা পর্যন্ত পতনের ধারা অব্যাহত থাকতে দেখা গেছে।

গতকাল রোববার পুরো সাড়ে চার ঘণ্টার লেনদেনে সূচকটি ৬৪ পয়েন্ট হারিয়ে ৬৯২০ পয়েন্টে নেমেছিল। ওই অবস্থান থেকে আজ যাত্রা শুরু করেছিল সূচকটি। দরপতনের ধারায় আজ শেয়ার কেনাবেচার পরিমাণ খুবই কম। লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টায় ডিএসইতে মাত্র ২৮১ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। গতকাল সাড়ে চার ঘণ্টার লেনদেনে এ বাজারে ১ হাজার ১৪৮ কোটি টাকারও বেশি শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল।

গতকাল অধিকাংশ শেয়ারের দরপতন হলেও স্বল্প মূলধনী কোম্পানি, বিশেষত ৩০ কোটি টাকার কম মূলধনী সব কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছিল। এ ধরনের কোম্পানিগুলো আগামী এক বছরের মধ্যে কে কোন পদ্ধতিতে পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি টাকায় উন্নীত করবে, তা জানিয়ে এক মাসের মধ্যে পরিকল্পনা জানাতে আদেশ দিয়েছিল শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। এ আদেশের প্রভাবেই শেয়ারগুলোর দর বেড়েছিল।

কিন্তু এ ঘটনা একদিন বৃদ্ধির পরই আজ এ ধরনের সিংহভাগ শেয়ার দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছে। অবশ্য ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে, বহুজাতিক রেকিট বেনকিজার, রাষ্ট্রিয় মালিকানাধীন ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস কোম্পানির ক্ষেত্রে।

রেকিট বেনকিজারের পরিশোধিত মূলধন মাত্র ৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আজ দুপুর ১২টায় শেয়ারটি গতকালের তুলনায় ২০৪ টাকা বেড়ে ৫ হাজার ৬৫৯ টাকায় কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। অন্যদিকে ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস কোম্পানির পরিশোধিত ১ কোটি টাকারও কম। দুপুর ১২টায় শেয়ারটির দর ৬১ টাকা বেড়ে ২ হাজার ৮১০ টাকা দরে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে।

ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধনের ইস্যুতে আদেশ জারির আগে যেসব কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশের কম শেয়ার ধারণ করছেন, তাদের এক মাসের মধ্যে এ সংক্রান্ত শর্ত পরিপালনের চূড়ান্ত সময় বেধে আদেশ দিয়েছিল। এর প্রভাবে গত সপ্তাহে এ ধরনের ২০টির অধিক শেয়ারের বাজারদর বেড়েছিল। আজ ওই সব শেয়ারের দরও নিম্নমুখী।