ঋণ পরিশোধে আবারও ঢালাও ছাড় চায় ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। আগামী বছরের জুন পর্যন্ত বিনা শর্তে ঋণ শ্রেণীকরণের মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি। 

যত দ্রুত সম্ভব এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষণার অনুরোধ জানিয়েছেন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। 

রোববার অনুষ্ঠিত এফবিসিসিআইর বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) তিনি এ অনুরোধ জানান। 

এফবিসিসিআই এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এজিএমে সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু, সহ-সভাপতি এম এ মোমেন, মো. আমিনুল হক শামীম, মো. আমিন হেলালী, সালাহউদ্দীন আলমগীর, মো. হাবীব উল্লাহ ডন ও এম. এ. রাজ্জাক খান রাজ এবং পরিচালনা পর্ষদের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

করোনার কারণে ২০১৯-২০ অর্থবছরের এজিএম নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হয়নি।


রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে আয়োজিত এজিএমে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, করোনা মহামারিতে অর্থনৈতিক কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা এখনও ভয়াবহ অবস্থা পার করছে। যে কারণে ঋণ শ্রেণীকরণ সুবিধা আগামী বছরের জুন পর্যন্ত বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সুবিধার মেয়াদ বাড়ালে ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি আসবে। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার দ্রুত সম্ভব হবে।

এফবিসিসিআইর সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, চলতি বছর যে পরিমাণ ঋণ পরিশোধ করার কথা আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে অন্তত ২৫ শতাংশ পরিশোধ না করলে খেলাপি করার কথা বলা হয়েছে। তবে করোনা এবং নতুন করে ওমিক্রণের কারণে অনেকে ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারেননি। এর মধ্যে বিশ্ববাজারে শিল্পের কাঁচামাল ও ভোগ্য পণ্যের দাম বেড়েছে। জাহাজ ভাড়াও বেড়ে গেছে। এসব কারণে ব্যবসায়ীদের অনেকের পক্ষে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ২৫ শতাংশ ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব নয়। 

তিনি আরও বলেন, গ্রাহক খেলাপি হলে তো ব্যাংকগুলোর আয়ও কমবে। এসব কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দিয়ে পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণে আগামী জুন পর্যন্ত কোনো টাকা পরিশোধ না করলেও যেন খেলাপি না হয় সে অনুরোধ করা হয়েছে। এর বেশি ঋণের ক্ষেত্রে আগামী জুনের মধ্যে ২ শতাংশ পরিশোধ করেও নিয়মিত রাখার অনুরোধ করা হয়েছে।

করোনার কারণে ২০২০ সালে কেউ এক টাকা পরিশোধ না করলেও তাকে খেলাপি না করার নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি বছর একজন ব্যক্তির যে পরিমাণ ঋণ পরিশোধ করার কথা কেউ ২৫ শতাংশ পরিশোধ করলে খেলাপি হবে না। এ সুবিধার কারণে সামর্থ থাকলেও অনেকে ঋণ পরিশোধ না করায় ব্যাংকারদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।


এজিএমে জসিম উদ্দিন আরও বলেন, বর্তমানে একটি আয়কর আইন প্রযোজ্য আছে। এফবিসিসিআইসহ সব অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত। নতুন আয়কর আইন চূড়ান্ত করতে তাড়াহুড়ো করা ঠিক হবে না। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশকে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ও উন্নয়নশীল দেশের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সব ব্যবসায়ীদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ২০২৬ পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পলিসি অ্যাডভোকেসির অংশ হিসেবে চারটি কর্মকৌশল হ্যান্ডবুক আকারে প্রণয়ন করেছে এফবিসিসিআই। শিগগিরই যা সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে। একই সঙ্গে খাতভিত্তিক সক্ষমতা বাড়াতে এফবিসিসিআইতে ইনোভেশন সেন্টার স্থাপনের প্রক্রিয়া চলমান।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনের দরজা সব ব্যবসায়ীর জন্য খোলা। তাদের যে কোনো সমস্যা সমাধানে এফবিসিসিআই পাশে থাকবে। এরই মধ্যে ৭৮টি স্ট্যান্ডিং কমিটি গঠিত হয়েছে। খাতভিত্তিক সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানে কাজ করবে এসব কমিটি। শিল্প কারখানায় উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এফবিসিসিআই যৌথভাবে কাজ করছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে করোনার সময়ে দেশব্যাপী স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। বিজয়ের সুবর্ণ জয়ন্তীতে স্মরণীয় করে রাখতে ১৬ দিনব্যাপী আয়োজন করা হয়েছে ‘বিজয়ের ৫০ বছর: লাল-সবুজের মহোৎসব’। স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপনে ৫০ জন ব্যবসায়ী বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা দেবে এফবিসিসিআই।