ঢাকা সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি বিবৃতিতে জুন নাগাদ প্রক্ষেপণ

উন্নতি হবে বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যে

উন্নতি হবে বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যে

প্রতীকী ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৪ | ১৩:২২

আগামী জুন মাস নাগাদ বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যে উন্নতি হবে। রিজার্ভও এখনকার চেয়ে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার বাড়বে। গত বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতির বিবৃতিতে এমন প্রত্যাশার কথা জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, আগামী কয়েক মাসে বেসরকারি খাতে বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ কমে আসতে পারে। অন্যদিকে, চলতি অর্থবছর আমদানি আরও কমিয়ে আনা হচ্ছে। এ ছাড়া চালু হচ্ছে বিনিময় হারের নতুন ব্যবস্থা ‘ক্রলিং পেগ’। এসব কারণেই উন্নতি ঘটবে সামগ্রিক পরিস্থিতির। 

মুদ্রানীতির বিবৃতিতে দেওয়া প্রক্ষেপণে বলা হয়েছে, আগামী জুন শেষে বাণিজ্য ঘাটতি আরও কমে ১০ দশমিক ২০ বিলিয়নে নামবে। গত অর্থবছর যেখানে ঘাটতি ছিল ১৭ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার। ২০২১-২২ অর্থবছরে ছিল ৩৩ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার। গত নভেম্বর পর্যন্ত বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে ৪ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার। 

চলতি অর্থবছরের জন্য দেওয়া প্রক্ষেপণের পেছনে রপ্তানি ৪ শতাংশ বাড়ার প্রত্যাশা রয়েছে। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত অবশ্য রপ্তানি বেড়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৮৪ শতাংশ। এ ছাড়া এই অর্থবছর আমদানি ৭ শতাংশ কমার প্রত্যাশা রয়েছে মুদ্রানীতি বিবৃতির প্রক্ষেপণে। নভেম্বর পর্যন্ত আমদানি কম রয়েছে প্রায় ২১ শতাংশ। গত অর্থবছর কমেছিল ১৫ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবমতে, চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত রেমিট্যান্স বেড়েছে ২ দশমিক ৯১ শতাংশ। তবে অর্থবছরে শেষ পর্যন্ত এ প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশ টিকবে। আর চলতি হিসাবে এখনকার মতো উদ্বৃত্ত থাকবে না। আগামী জুন শেষে চলতি হিসাবে ঘাটতি হবে ৩৩ কোটি ডলার। গত নভেম্বর পর্যন্ত যেখানে উদ্বৃত্ত আছে ৫৮ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের জুন পর্যন্ত অবশ্য ঘাটতি ছিল ২৬৬ কোটি ডলার। আর ২০২১-২২ অর্থবছরে ১ হাজার ৮২০ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত ছিল।

বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন ভারসাম্যে উন্নতির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা করা হয়েছে আর্থিক হিসাবের উদ্বৃত্তের ক্ষেত্রে। আগামী জুন নাগাদ আর্থিক হিসাবে ২০ কোটি ডলার উন্নতির আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত নভেম্বর পর্যন্ত যেখানে আর্থিক হিসাবে ঘাটতি ছিল ৫ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছর ঘাটতি ছিল ২ দশমিক শূন্য ৮ বিলিয়ন ডলার। এর আগে ২০২১-২২ অর্থবছরে উদ্বৃত্ত ছিল ১৬ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আগামী জুন নাগাদ এখনকার চেয়ে প্রায় ৪ বিলিয়ন বাড়ার আশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর সমকালকে বলেন, জুনের মধ্যে বিভিন্ন প্রকল্প ঋণের ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার হয়তো আসবে। প্রকল্প ঋণের টাকা হওয়ায় এসব আবার খরচ হয়ে যাবে। ফলে এখনকার চলতি হিসাবে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি ঘাটতি থেকে উদ্বৃত্ত করাটা খুবই কঠিন। কেননা, বেসরকারি খাতে অনেক ঋণ পরিশোধ করতে হবে। সরকারি খাতেও অনেক ঋণের কিস্তি দিতে হবে। যে কারণে যত সহজে আর্থিক হিসাবে উদ্বৃত্তের কথা বলা হয়েছে, সেটি আসলে অনেক চ্যালেঞ্জিং। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ প্রক্ষেপণ একটি আশাবাদ। আশা থাকা ভালো, সেটি বাস্তবায়ন করতে পারলে আরও ভালো।

আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী, গতকাল বৃহস্পতিবার বৈদেশিক মুদ্রার গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক শূন্য ৩ বিলিয়ন ডলার। সংস্থাটির হিসাবে নিট রিজার্ভ রয়েছে সাড়ে ১৫ বিলিয়ন ডলারের মতো। সংস্থাটির চলমান ঋণ কর্মসূচির সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, আগামী মার্চে নিট রিজার্ভ ১৯ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ও জুনে ২০ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ রাখতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এতদিন যে পদ্ধতিতে হিসাব করে আসছে, সে অনুযায়ী গতকালের রিজার্ভ ছিল ২৫ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার। এখান থেকে রিজার্ভ বেড়ে আগামী জুন শেষে ২৯ বিলিয়নে গিয়ে ঠেকবে বলে প্রক্ষেপণ করেছে বাংলাদেশে ব্যাংক।

এ ছাড়া ডলারের বিনিময় হারের নতুন ব্যবস্থা ক্রলিং পেগ চালু হলে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারে স্থিতিশীলতা ফিরবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ক্রলিং পেগ ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি মধ্যবর্তী দর ঘোষণা করবে। এর সঙ্গে সর্বোচ্চ কত শতাংশ বাড়ানো বা কমানো যাবে, তা ঠিক করে দেওয়া হবে।

মুদ্রানীতি ঘোষণা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সুদহার অনেক বেড়ে যাওয়ায় বেসরকারি খাতে স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ তৈরি হয়েছে। আগামী দু-তিন মাস পরে বেসরকারি খাতে বিদেশি ঋণ অনেক কমবে। তখন আর্থিক হিসাব ইতিবাচক হওয়ার আশা করা হচ্ছে। 

আরও পড়ুন

×