দেশের শেয়ারবাজারের প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স এক মাস পর ফের ৭ হাজার পয়েন্টের মাইলফলক পার করেছে। কিন্তু এর ওঠানামায় অস্থিরতা কমেনি, বরং ক্রমে বাড়ছে।

মঙ্গলবারের মতো বুধবার সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর ২০ মিনিট পর বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধির ওপর ভর করে ৭০৯২ পয়েন্টের ঘরে উঠেছিল। এরপর আবার কিছু শেয়ারের দরবৃদ্ধির ধারায় লাগাম পড়ে। ফলে ফের সূচকও কমতে শুরু করেছে। 

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় সূচকটি সকালের ৭০৯২ পয়েন্ট থেকে প্রায় ৫০ পয়েন্ট হারিয়ে ৭০৪৩ পয়েন্ট পর্যন্ত নেমেছিল। অবশ্য লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টা শেষে দুপুর ১২টা ডিএসইএক্স সূচকটি মঙ্গলবারের তুলনায় ১৩ পয়েন্ট বেড়ে ৭০৬২ পয়েন্টে অবস্থান করতে দেখা গেছে। অর্থাৎ শুরুর উত্থানের তুলনায় সূচকটি হারিয়েছে ৩০ পয়েন্ট।

এর আগে গত ৭ ডিসেম্বর সূচকটি ৭০০০ পয়েন্টের ওপর উঠেছিল। কিন্তু পরদিনই শেয়ারদরের দরপতনে ওই অবস্থান হারায়। আগের দুই মাসেও একই ঘটনা ঘটেছিল।

২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে চালুর পর ডিএসইএক্স গত অক্টোবরে সর্বোচ্চ ৭৪১২ পয়েন্ট পর্যন্ত উঠেছিল।

শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, মূল্য সূচকটির এ অবস্থানে আসতেই শেয়ারদরে অস্থিরতা শুরু হয় এবং শেষ পর্যন্ত কমে যায়। শেয়ারের দরপতনের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত সূচকটি এ অবস্থান হারায়।

এদিকে টানা বৃদ্ধির পর সরকারি কোম্পানির শেয়ারদরে আজ কিছুটা লাগাম পড়েছে। দুপুর ১২টায় দরপতনের শীর্ষ পাঁচ কোম্পানির সবগুলোই ছিল সরকারি কোম্পানি।

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের শেয়ার মঙ্গলবারের ক্লোজিং প্রাইসের সমান দরে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে বুধবার দুপুর ১২টায়। এসময় শেয়ারটি ১২৭ টাকা ৫০ পয়সা দরে কেনাবেচা হচ্ছিল।

একই চিত্র ছিল তিতাস গ্যাসের শেয়ারে। গতকালের তুলনায় ৯০ পয়সা দর বেড়ে এ শেয়ার ৫০ টাকা ৫০ পয়সায় কেনাবেচা হচ্ছিল।

তবে পাওয়ার গ্রিড, বাংলাদেশ সাবমেরিন কোম্পানির শেয়ার দর হারিয়ে কেনাবেচা হতে দেখা যায়। পাওয়ার গ্রিডের শেয়ার ১ টাকা দর হারিয়ে ৭৪ টাকা ৪০ পয়সায় এবং সাবমেরিন কেবলসের শেয়ার ৫ টাকা ৫০ পয়সা দর হারিয়ে ২৩২ টাকা ১০ পয়সায় কেনাবেচা হচ্ছিল।

সার্বিকভাবে এ সময় ডিএসইতে ২০২ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়ে কেনাবেচার হতে দেখা যায়। বিপরীতে দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল ১২০টি এবং দর অপরিবর্তিত অবস্থায় ছিল ৫০টি শেয়ার।

এ সময় পর্যন্ত ডিএসইতে কেনাবেচা হয় ৭৩৮ কোটি টাকার শেয়ার। যা গতকালের তুলনায় ৩০০ কোটি টাকা কম।

খাতওয়ারি লেনদেন পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, এ সময় অধিকাংশ বীমা কোম্পানির শেয়ার দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল। একই ধারায় ছিল বস্ত্র, তথ্য ও প্রযুক্তি, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং সিরামিক খাত। 

বিপরীতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে দরবৃদ্ধি পাওয়া শেয়ারের তুলনায় দর হারানো শেয়ার সংখ্যা ছিল বেশি। অন্য সব খাতে মিশ্রধারা দেখা গেছে।

বুধবার দুপুর ১২টায় ৯ থেকে প্রায় ১০ শতাংশ দর বেড়ে দরবৃদ্ধির শীর্ষে ছিল লাভেলো, রবি, তাল্লু স্পিনিং, আরএকে সিরামিক এবং মিথুন নিটিং।

বিপরীতে ৩ শতাংশের ওপর দর হারিয়ে এ সময় দরপতনের শীর্ষে ছিল রূপালী ব্যাংক। সাড়ে ৩ শতাংশ দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল ৩৪ টাকা দরে। দরপতনে এর পরের অবস্থানে ছিল এটলাশ বাংলাদেশ, ডেসকো, ন্যাশনাল টিউবস এবং সাবমেরিন কেবলস।

৬৫ কোটি টাকার লেনদেন নিয়ে একক কোম্পানি হিসেবে লেনদেনের শীর্ষে আরএকে সিরামিক। ৪৫ কোটি টাকার লেনদেন নিয়ে এর পরের অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন। তিতাস গ্যাস, রবি ও পাওয়ার গ্রিড ছিল এর পরের অবস্থানে।