নতুন রপ্তানি নীতিমালা ২০২১-২৪ এ পণ্য ও সেবা মিলিয়ে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৮০ বিলিয়ন ডলার বা আট হাজার কোটি ডলার নির্ধারণ করেছে সরকার। সর্বশেষ রপ্তানি নীতিমালায় এ লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৬০ বিলিয়ন ডলার। যদিও সে লক্ষ্যমাত্রা এখনও অর্জন হয়নি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রপ্তানি খাতের চাহিদা এবং বিশ্ব বাণিজ্য পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপটের সাথে সামঞ্জস্য রেখে রপ্তানি নীতি ২০২১-২০২৪ এর খসড়া তৈরি করেছে। সেখানে এই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। বুধবার সকালে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি বৈঠকে এই নীতিমালার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। কমিটির বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, নতুন রপ্তানি নীতিমালায় সকল খাতে একইরকম নীতি সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে বলা হয়েছে। নারী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা যাতে সহজে রপ্তানি করতে পারেন সে ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে নীতিমালায়। পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং, তথ্য ও প্রযুক্তি খাতের সেবা রপ্তানি যাতে আরও সহজ হয় সে উদ্যোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সবক্ষেত্রে কমপ্লায়েন্স বাড়ানো, মধ্যবর্তী ও রিসাইক্লিং পণ্য রপ্তানি, তৈরি পোশাক খাতকে আরও শক্তিশালী করার কৌশল রয়েছে নতুন নীতিমালায়। পাশাপাশি স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার উদ্যোগও রয়েছে।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ৫১ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের পণ্য রপ্তানি থেকে সাড়ে ৪৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার এবং সেবা খাতে ৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সর্বশেষ ২০২০-২১ অর্থবছরে ৩ হাজার ৮৭৬ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। আর সেবা খাতে রপ্তানি হয়েছে ৬৬১ কোটি ডলার। মোট ৪ হাজার ৫৩৭ কোটি ডলার রপ্তানি আয় করেছে বাংলাদেশ।

আন্তর্জাতিক অর্থনীতি, দেশে এবং দেশের বাইরে করোনার অভিঘাত বিবেচনায় নিয়ে এই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে রপ্তানি খাতের জন্য পরোক্ষ এবং প্রত্যক্ষ সহায়তা, রপ্তানি প্রণোদনার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।