রপ্তানিমুখী সব খাতে সমান নীতি সুবিধা দেবে সরকার। তিন বছর মেয়াদি নতুন রপ্তানি নীতির ( ২০২১-২৪) খসড়ায় এমন অবস্থানের কথা রয়েছে। রপ্তানি নীতিতে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সালের জুন শেষে পণ্য ও সেবা মিলিয়ে দেশের রপ্তানি আয় ৮০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নতুন রপ্তানি নীতির চূড়ান্ত খসড়ার অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্ব বাণিজ্যের প্রেক্ষাপট এবং দেশীয় সক্ষমতা বিবেচনা করেই রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সব খাতকে সমান সুবিধা দেওয়া হবে। এজন্য প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সমন্বয় করা হবে।

বর্তমানে ২০১৮-২০২১ মেয়াদের রপ্তানি নীতি কার্যকর রয়েছে। যতদিন নতুন নীতি চূড়ান্ত না হচ্ছে ততদিন এ নীতি কার্যকর থাকবে। চলতি নীতিতে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬০ বিলিয়ন ডলার, যদিও তা অর্জন সম্ভব হয়নি। ২০২০-২১ অর্থবছরে পণ্য ও সেবা মিলিয়ে মোট ৪৫ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা ৫১ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি থেকে ৪৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার এবং সেবা খাত থেকে ৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার আয় হবে বলে সরকার আশা করছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণ পরবর্তী সময়ের চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখেই নতুন নীতি করা হয়েছে। যে কারণে কিছু কৌশলগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নীতিতে অগ্রাধিকারমূলক খাতে সম্ভাবনাময় কিছু পণ্য ও সেবা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কৌশল গ্রহণ করে রপ্তানি বাণিজ্য কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত কর্মসূচি থাকবে। নতুন নীতিতে উল্লেখযোগ্য দিকের মধ্যে থাকবে- পণ্য উৎপাদনে টেকসই নীতিকৌশল গ্রহণে উৎসাহিত করা, আইসিটি ও ফ্রিল্যান্সিংসহ অন্যান্য সেবাখাতে সুবিধা দেওয়া, রপ্তানিমুখী সব খাতে একইভাবে নীতি সুবিধা দেওয়া, নারী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো, আমদানি নীতি আদেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখা এবং ব্যবসা ও বিনিয়োগ সহজ করতে বিশেষ নজর দেওয়া ইত্যাদি।

মুস্তফা কামাল বলেন, 'কমপ্লায়েন্স ও স্ট্যান্ডার্ড' প্রতিপালনে খাতভিত্তিক সুপারিশ করা হয়েছে। মধ্যবর্তী ও পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ পণ্য উৎপাদন গুরুত্ব পাবে। পণ্য ও সেবা বহুমুখীকরণের সুপারিশ করা হয়েছে। গবেষণা ও উন্নয়ন, হালাল পণ্য উৎপাদন ইত্যাদি প্রসঙ্গেও দিক নির্দেশনা রয়েছে। সব মিলিয়ে 'মেড ইন বাংলাদেশ' ব্র্যান্ডিং জোরদার করা হয়েছে।

খসড়ায় বলা হয়েছে, শতভাগ রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠান নমুনা হিসেবে বিনামূল্যে বছরে ৩০ হাজার ডলারের পণ্য দেশের বাইরে পাঠাতে পারবে, যা এখন রয়েছে ২০ হাজার ডলার। নতুন নীতিতে কৃত্রিম তন্তুর পোশাক তৈরিতে জোর দেওয়া হচ্ছে। সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে কৃত্রিম তন্তুর একটি বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের কথা বলা হয়েছে। এ ধরনের শিল্প স্থাপনে কম সুদে ও সহজ শর্তে ঋণ এবং কর ছাড় দেওয়া হবে। কৃত্রিম আঁশের সুতা ও তুলার সুতার ভ্যাট একই করার প্রস্তাব রয়েছে।