উন্নয়নের জন্য শিল্পায়ন দরকার। আবার পরিবেশ ঠিক রাখাও অপরিহার্য। উন্নত বিশ্বে এখন একজনের বর্জ্য আরেকজন কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করছে। এভাবে প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার কমানোর মাধ্যমে পরিবেশ ঠিক রাখতে হবে। তবে এক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। সরকার, ব্যবসায়ীসহ সবার সম্মিলিত উদ্যোগে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উন্নতি আনতে হবে।

রোববার ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই আয়োজিত এক সেমিনারে এমন মতামত তুলে ধরেন বক্তারা। রাজধানীর এফবিসিসিআই মিলনায়তনে 'বাংলাদেশে সার্কুলার ইকোনমির বর্তমান অবস্থা:সমস্যা ও সামাধান' শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, বর্ধিত নগরায়নের সঙ্গে সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন রাসায়নিক বর্জ্যে পরিবেশ, বায়ু, পানি দূষিত হচ্ছে। ই-বর্জ্য থেকেও পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি বেড়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ২০১৮ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে বছরে চার লাখ টন ইলেকট্রনিক বর্জ্য জমা হয়। এর মধ্যে মাত্র তিন শতাংশ পুনরায় ব্যবহার করা হয়। ই-বর্জ্যসহ সব ধরনের বর্জ্যের পুনঃব্যবহারের ওপর জোর দিতে হবে। ব্যবসায়ীকভাবে বর্জ্যের ব্যবহার করতে পারলে সবাই উপকৃত হবে। এ জন্য নীতি প্রণয়ণসহ সরকারের দিক থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, দেশে সার্কুলার অর্থনীতির বাস্তবায়ন হলে প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার কমে কাঁচামালের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী গ্রীন হাউজ গ্যাস নিঃসরনের পরিমাণও কমবে।

এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, উন্নত দেশের কাতারে যেতে রপ্তানি ও কর্মসংস্থান অনেক বাড়াতে হবে। এজন্য ব্যাপক শিল্পায়ন দরকার। আবার পরিবেশও ঠিক রাখতে হবে। প্লাস্টিক, ধাতবসহ কিছু পণ্য শতভাগ পুনঃব্যবহারযোগ্য। অথচ রাজধানীতেই এখনও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ঠিকভাবে করা যায়নি। উন্নত বিশ্বে এখন একজনের বর্জ্য কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করছে আরেকজন।

মূল প্রবন্ধে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির পরিবেশ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সুজাউদ্দিন বলেন, শিল্পায়নের সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব বেড়ে যাচ্ছে। এজন্য পণ্যের পুনঃব্যবহারের মাধ্যমে প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার কমানোর মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর জোর দিতে হবে। এক শিল্পের বর্জ্য আরেক শিল্পে ব্যবহারের ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে হবে।

আলোচনায় আরও অংশ নেন ইস্টওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এনামুল হক, আইসিসিসিএডির উপপরিচালক অধ্যাপক ড. মিজান আর খান, ন্যাচারাল রিসোর্স অ্যান্ড ব্লু ইকোনমি গ্লোবাল প্রাকটিসের সিনিয়র পরিবেশ বিশেষজ্ঞ মিসেস ইয়ান জু আলিসন ই এবং আইএফইএস চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন।