আজও উত্থানে শুরু হয়ে পরে দরপতনের ধারায় শেয়ারবাজার। তবে লেনদেনের প্রথম পৌনে এক ঘণ্টায় যে দরপতন শুরু হয়েছিল, তা পরের আধা ঘণ্টায় কাটিয়ে উঠার চেষ্টা দেখা গেছে।

রোববার বেশিরভাগ শেয়ারের দরপতনে প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ৩২ পয়েন্ট হারিয়ে ৭০৭৩ পয়েন্টে নেমেছিল। সোমবার লেনদেনের শুরুতে রোববারের তুলনায় ২৮ পয়েন্ট বেড়ে সূচকটি ৭১০১ পয়েন্টে ওঠে।

কিন্তু পরের দেড় ঘণ্টাতে অধিকাংশ শেয়ারের দরপতনে ফের ৭০৪০ পয়েন্ট পর্যন্ত নেমেছিল।

টানা প্রায় দেড় ঘণ্টা দরপতনের ধারা শেষে বেলা সাড়ে ১১টার পর অনেক কোম্পানির শেয়ারকে সকালের হারানো দরের কিছুটা ফিরে পেতে দেখা যায়। এতে সূচকের পতনও কমে।

দুপুর ১২টায় দিনের লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টা শেষে ডিএসইএক্স সূচকটি ৭ পয়েন্ট হারিয়ে ৭০৬৫ পয়েন্টে অবস্থান করতে দেখা গেছে। এ প্রতিবেদন লেখার সময়ও পতন থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা ছিল।

এ সময় দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে ২১১ কোম্পানির শেয়ার দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল। বিপরীতে দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল ১০৬টি এবং দর অপরিবর্তিত অবস্থায় কেনাবেচা হচ্ছিল ৬০টির।

চলতি এ অস্থিরতার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ আছে কি-না, সে বিষয়ে বাজার সংশ্লিষ্টদের কারও কাছ থেকে কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি।

দুপুর ১২টায় ব্যাংক এবং খাদ্য ও আনুসঙ্গিক খাতে মিশ্রধারা দেখা গেছে। বাকি সব খাতের সিংহভাগ শেয়ার দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল।

আজ সর্বাধিক দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছে সরকারি কোম্পানি যমুনা অয়েলের শেয়ার। লেনদেনের দুই ঘণ্টা শেষে গতকালের তুলনায় ১৪ টাকা ৯০ পয়সা বা ৮ শতাংশ দর হারিয়ে ১৬৮ টাকা ১০ পয়সায় কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। 

অবশ্য এ শেয়ারটির দর কমার কারণও আছে। গত হিসাব বছরের জন্য ১২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট শেষে আজ ফের শেয়ারটির লেনদেন শুরু হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে এ দর সংশোধন হতে পারে।

দর হারানো শেয়ারের তালিকায় এর পরের অবস্থানে দেখা গেছে, গোল্ডেন সন; ৫ শতাংশ দর হারিয়ে শেয়ারটি ২০ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছিল। তৃতীয় অবস্থানে ছিল মিথুন নিটিং; সাড়ে ৪ শতাংশ দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছিল ১৩ টাকা ২০ পয়সায়।

৩ শতাংশের ওপর দর হারিয়ে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে, এসিআই ফর্মুলেশনস, জিবিবি পাওয়ার, ফু-ওয়াং ফুডস, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, এসআলম কোল্ড রোল্ড স্টিল, রংপুর ফাউন্ড্রি, আরএসআরএম স্টিল, ফু-ওয়াং সিরামিকের শেয়ার।

সার্বিক দরহ্রাসের ধারার মধ্যে আজ বিডি থাই ফুডের শেয়ার লেনদেন শুরু হয়েছে। নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার হিসেবে এটি আজ সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দর ১১ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে।

শেয়ারদরে সার্কিট ব্রেকার হলো— নির্দিষ্ট দিনে কোনো শেয়ার সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন কোনো দর সীমার মধ্যে কেনাবেচা হতে পারবে।

এর আগে গত ১৬ জানুয়ারি ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স তালিকাভুক্ত হয়। এ শেয়ারটি টানা সপ্তম দিনে এসেও সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচা হচ্ছে। আজ শেয়ারটির দর ১৯ টাকা ১০ পয়সা।

পুরনো শেয়ারগুলোর মধ্যে সর্বাধিক পৌনে ৯ শতাংশ দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছে এপেক্স ফুটওয়্যার। এ শেয়ারটিও আজকের সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দর ৩৮৪ টাকা ৮০ পয়সা কেনাবেচা হচ্ছে। সরকারি কোম্পানি ন্যাশনাল টির ক্ষেত্রেও একই চিত্র বিরাজ করছে। গতকালের তুলনায় শেয়ার প্রতি ৫৬ টাকা দর বেড়ে দিনের সার্কিট ব্রেকার নির্ধারিত ৮০৩ টাকা ৪০ পয়সা দরে শেয়ারটি কেনাবেচা হচ্ছে।

এদিকে দর হারানোর পরও লেনদেনের শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের শেয়ার। দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ কোম্পানির ৮৭ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। ৬১ কোটি টাকার লেনদেন নিয়ে এর পরের অবস্থানে ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড, ২৪ কোটি টাকার লেনদেন নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে ছিল ফু-ওয়াং ফুড। গতকাল সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ দরে কেনাবেচার পর এ সময় ৫০ পয়সা দর হারিয়ে শেয়ারটি ২৩ টাকা ৪০ পয়সায় কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। 

আজ লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টায় ৫৮০ কোটি ৫৬ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। অবশ্য গতকাল একই সময়ে ৬৯৫ কোটি ৭০ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছিল।