জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আবহাওয়ার অস্বাভাবিক আচরণ চলছে। অতিবৃষ্টি কিংবা অনাবৃষ্টি, আগাম-অকাল বন্যা যেন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বিগড়ে যাওয়া আবহাওয়ার প্রভাব পড়ছে কৃষিতে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন চাষিরা। ১০ বছর আগে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় কৃষির এই ঝুঁকি চিহ্নিত করা হয়। কৃষির ঝুঁকি প্রশমনে অর্থ সহায়তারও প্রতিশ্রুতি দেয় বিশ্বব্যাংক। সে আলোকে এবং কৃষির মাধ্যমে দারিদ্র্য কমাতে একটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সরকার।

প্রকল্পের আওতায় কৃষির বহুমুখীকরণের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রযুক্তির উন্নয়ন ও কৃষকের জীবিকা উন্নয়নের উদ্যোগ থাকবে। চাষাবাদে সেচসহ অন্যান্য ব্যয় বর্তমানের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্যও আছে এতে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের বীজ উৎপাদন করা হবে অন্তত ২০০ টন। দেশের ১৭টি উপজেলার ২৭টি উপজেলায় বাস্তবায়ন করা হবে এ প্রকল্প।

'ক্লাইমেট স্মার্ট এগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট (সিএসএডব্লিউএমপি)' নামের এই প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনা করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আজ মঙ্গলবার একনেক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে। কমিশন বলেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে তা কৃষির বহুমুখীকরণ ও প্রান্তিক চাষির জীবনযাত্রা উন্নয়নের মাধ্যমে সার্বিক দারিদ্র্য বিমোচনে অবদান রাখবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের নেওয়া প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)। ২০২৬ সালে প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা। ব্যয় ধরা হয়েছে ১০৬ কোটি টাকা। এই অর্থের ৮৫ কোটি টাকা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। প্রকল্প প্রস্তাব চূড়ান্ত করার আগে এর সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। ডিএই, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি মাঠ পর্যায়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে।

প্রকল্প উন্নয়ন প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুসারে, প্রকল্প এলাকায় অন্তত ১২টি স্মার্ট প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করা হবে। এর মাধ্যমে কৃষিতে প্রয়োজনীয় সেচের পানির ব্যবহার এখনকার তুলনায় অর্ধেকে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। প্রকল্প এলাকায় প্রতিবছর ১২০ টন দানাদার বীজ, ৪০ টন ডাল ও সমপরিমাণ তেলজাতীয় শস্যের বীজ উৎপাদন করা যাবে। দেশে কৃষিতে বীজ সংকট প্রকট। পাটসহ অন্যান্য ফসলের প্রায় সব বীজই আমদানি করতে হয়। তাই উৎপাদিত এই বীজ খুবই কাজে আসবে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে একটি হলো বিভিন্ন ধরনের তিন হাজার ২০০টি যন্ত্রপাতি কৃষকের মাঝে বিতরণ। এসব যন্ত্রপাতির মধ্যে রয়েছে- বারিড পাইপ, সোলার সিস্টেম, কম্বাইন্ড হারভেস্টার, মেইজ সেলার মেশিন, বীজের আর্দ্রতা পরিমাপক যন্ত্র, বীজ আলাদাকরণ চালুনি, রাইস ট্রান্সপ্লান্টার, বীজ সংরক্ষণ পাত্র ও ডিজিটাল ওয়েট মেশিন ইত্যাদি। ২৩ হাজার সোলার সিস্টেম রাইস ট্রান্সপ্লান্টারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহারের বিষয়ে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া সোলার সিস্টেম সেচ এবং কৃষিপণ্য সংগ্রহ কেন্দ্র থাকবে প্রকল্পের অধীনে।