দেশে ওমিক্রনের কারণে সংক্রমণ বেশি হচ্ছে। এর জন্য একটি ক্লিনিক্যাল গাইডলাইন চূড়ান্ত করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে করোনাবিষয়ক নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে এসব কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম। 

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা গেছে, দেশে ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে। আইইডিসিআর, আইসিডিডিআরবি ও বিএসএমএমইউয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, করোনার ডেল্টা ধরনের পাশাপাশি অধিকতর সংক্রামক ধরন ওমিক্রন শনাক্ত হচ্ছে। এই ওমিক্রনের কারণে বেশি সংক্রমণ হচ্ছে। এর জন্য ক্লিনিক্যাল গাইডলাইন ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে। সেটি চূড়ান্ত হয়ে গেছে। অল্প সময়ের মধ্যেই অন্যান্য স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিষ্ঠানকে এটি দেওয়া হবে।’

ওমিক্রনের ধরন প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই মুখপাত্র বলেন, ‘ওমিক্রনের অন্য উপসর্গ কী আছে, তা বের করতে কাজ চলছে। রোগ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

সারা বিশ্বের করোনা রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, ‘বিশ্বে ৩৫ কোটি ২৮ লাখ মানুষ ইতোমধ্যেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং মৃত্যুর সংখ্যা ৫৬ লাখ ছাড়িয়েছে।’

বিগত সাত দিনে দেশে সামগ্রিকভাবে করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে জানান অধ্যাপক নাজমুল। 

তিনি বলছেন, দেশে করোনা রোগীর সংখ্যা ও শতকরা হিসাবে শনাক্তের হার একটু একটু করে বেড়েছে। ১৯ জানুয়ারি ৯ হাজার ৫০০ রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং শনাক্তের হার ছিল ২৫ শতাংশের একটু বেশি। ২৫ জানুয়ারি রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৬ হাজার ৩৩ জন এবং শতকরা হার দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৪০ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র বলেন, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে এই সময়ে মোট রোগী ছিল ২১ হাজার ৬২৯ জন। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে ইতোমধ্যেই তা ১লাখ ৩০ হাজারের বেশি রোগী ছাড়িয়েছে। এত বেশিসংখ্যক তথা সর্বশেষ লাখের ওপরে রোগী ছিল গত বছরের আগস্টে ২ লাখ ২৩ হাজারের বেশি, জুলাই মাসে ৩ লাখ ৩৬ হাজারের বেশি এবং সেপ্টেম্বরে ৫৫ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছিল। তারপর এটি ক্রমাগত কমছিল।

অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৯ হাজার ৬৯৭টি এবং ৪৯ হাজার ৪৯২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। শনাক্তের হার ওঠে ৩২ দশমিক ৪০ শতাংশ। ৮০৭টি পরীক্ষাগারে আরটিপিসিআর, জিন এক্সপার্ট ও র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করা হচ্ছে। 

প্রতি ১০০ জন শনাক্তের বিপরীতে সুস্থতার হার প্রায় ৯১ শতাংশ। মারা যাচ্ছেন ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ। মোট মৃত্যুর মধ্যে ৬১ থেকে ৭০ বছর ও ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সী বেশি।

সরবরাহ লাইনের মাধ্যমে হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন সরবরাহ চলছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, ১২৯টি সরবরাহ লাইন আছে। পাশাপাশি ২৯ হাজারের বেশি অক্সিজেন সিলিন্ডার, ২ হাজারের বেশি ক্যানোলা এবং ২ হাজার ৩০০–এর বেশি অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর বিভিন্ন হাসপাতালে সরবরাহ করা হয়েছে। এর বাইরেও পর্যাপ্ত মজুদ আছে।

টিকা কার্যক্রম অব্যাহত আছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত ৯ কোটি ৫৪ লাখের বেশি মানুষ প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছেন। দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিয়েছেন ৫ কোটি ৫৭ লাখের বেশি। আর বুস্টার ডোজের টিকা পেয়েছেন ১২ লাখ ৬৪ হাজারের বেশি মানুষ।

১ কোটি ৩৬ লাখের বেশি শিক্ষার্থী পেয়েছে প্রথম ডোজের টিকা

অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার পর্যন্ত ১ কোটি ৩৬ লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে প্রথম ডোজের টিকা দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ডোজের টিকা দেওয়া হয় ১৭ লাখ ৪৬ হাজার শিক্ষার্থীকে। 

তিনি বলেন, ‘স্কুলগুলোতে টিকাপ্রাপ্তি নিয়ে সমস্যা নেই। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত টিকা মজুত আছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথ চাহিদা ঠিকমতো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে পৌঁছে দিলে চাহিদা অনুযায়ী টিকা সরবরাহের প্রস্তুতি ও সক্ষমতা আছে।’ 

বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মানার ওপর জোর দিয়ে নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘করোনা প্রতিরোধে টিকা নেওয়া, সঠিক নিয়মে নাক-মুখ ঢেকে মাস্ক ব্যবহার করা, নিয়মিত হাত ধোয়া, হ্যান্ড স্যানিটাইজ করা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে প্রাত্যহিক কাজ করা সম্ভব হলে অতিমারি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে। মাস্ক আমার, সুরক্ষা সবার। তিনি বলেন, ‘দেশবাসীর কাছে আবেদন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে কোনো অবস্থাতেই শিথিলতা দেখানো যাবে না। রোগীর সংখ্যা বাড়লে চাপ বাড়বে। আমাদের যে সীমিত সম্পদ আছে, তার সর্বোত্তম ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়বে।’