শেয়ারবাজারের প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স গত তিন সপ্তাহ ৭০০০ পয়েন্টে আটকে আছে। কোনোভাবেই ৭১০০ পয়েন্ট পার করে উপরে উঠতে পারছে না। অর্থাৎ সার্বিকভাবে সিংহভাগ শেয়ারের দর এক জায়গায় থমকে আছে। এর মধ্যেও কিছু শেয়ারের দর তরতর করে বাড়ছে।

গত ৬ জানুয়ারি ৭০০০ পয়েন্ট পার করার পর ২০ জানুয়ারি সর্বোচ্চ ৭১৩৬ পয়েন্টে অবস্থান করে সূচক। এর মধ্যে প্রতিদিনই সূচকের বড় উত্থান-পতন হয়েছে।

নতুন তালিকাভুক্ত ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির শেয়ারদর গত এক সপ্তাহে ৬০ শতাংশ বেড়ে বৃহস্পতিবার ২৫ টাকা ৬০ পয়সায় কেনাবেচা হচ্ছে। বিডি থাই ফুডের দর এ সময়ে পৌনে ৩৩ শতাংশ বেড়ে আজ ১৪ টাকা ৬০ পয়সায় কেনাবেচা হচ্ছে।

তালিকাভুক্তির দ্বিতীয় দিনে ইউনিয়ন ব্যাংকও রয়েছে একই ধারায়। 

দুইদিনে ২১ শতাংশ দর বেড়ে আজ ১২ টাকা ১০ পয়সায় কেনাবেচা হচ্ছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, এই তিন শেয়ারের এখনও ক্রেতার অভাব নেই, সংকট বিক্রেতায়। কারণ যাদের কাছে এসব আইপিওর শেয়ার রয়েছে, তারা আরও বেশি দরে শেয়ারগুলো বিক্রির আশা করছেন। 

নতুন শেয়ারগুলোর বাইরে পুরনো শেয়ারগুলোর মধ্যে বস্ত্র খাতের কুইনসাউথ টেক্সটাইলের শেয়ারদর সর্বাধিক ২৭ শতাংশ বেড়েছে। শেয়ার প্রতি ৭ টাকা দর বেড়ে এ কোম্পানির শেয়ারদর আজ দাঁড়িয়েছে ৩২ টাকা ৬০ পয়সায়। মূলত গত তিন দিনে এ দর বেড়েছে।

২৪ শতাংশ দর বেড়ে এর পরের অবস্থানে আছে বিডি ল্যাম্পস। গতকালের তুলনায় ৭ শতাংশ দর বেড়ে শেয়ারটি আজ কেনাবেচা হচ্ছে ২৭৬ টাকায়। মূলত গত নভেম্বরের শেষ থেকে ১৭০ টাকা থেকে শেয়ারটির দর বাড়তে থাকে। দুই সপ্তাহ দর বেড়ে ২২৩ টাকা উঠার পরের দুই সপ্তাহে দর হারিয়েছিল। গত এক মাস ক্রমাগত দর বাড়ছে।

ইয়াকিন পলিমারের দরও গত এক সপ্তাহে ২২ শতাংশ বেড়েছে। গত কালের তুলনায় আজ ১ শতাংশ দর বেড়ে ১৭ টাকা ৬০ পয়সায় কেনাবেচা হচ্ছে। এ কোম্পানিটির শেয়ার গত দুই মাস ধরে একটু একটু করে বাড়ছে। এ সময়ে ১০ টাকা থেকে আজকের দরে উঠে এসেছে।

এসব শেয়ারের বাইরে গত এক সপ্তাহের বিবেচনায় সর্বাধিক প্রায় ১৬ শতাংশ দর বেড়েছে বিচ হ্যাচারির, তাকাফুল ইন্স্যুরেন্সের ১৫ শতাংশ, মালেক স্পিনিংয়ের ১৬ শতাংশ, সোনারগাঁ টেক্সটাইলের ১৫ শতাংশ, স্কয়ার টেক্সটাইলের ১২ শতাংশ, মতিন স্পিনিংয়ের ১২ শতাংশ দর বেড়েছে।

গত দুই সপ্তাহের হিসাবে পুরনো শেয়ারগুলোর মধ্যে ইয়াকিন পলিমারের দর ৪২ শতাংশ, বিডি ল্যাম্পসের ৩৭ শতাংশ, ফু-ওয়াং ফুডের ৩৪ শতাংশ, ফার্মা এইডসের ৩৩ শতাংশ, জেমিনি সী ফুডের ৩৩ শতাংশ, ন্যাশনাল টির ৩২ শতাংশ, কুইন সাউথ টেক্সটাইলের ৩২ শতাংশ, শমরিতা হাসপাতালের ২৮ শতাংশ, মতিন স্পিনিংয়ের ২৭ শতাংশ, মালেক স্পিনিংয়ের ২৮ শতাংশ ও অগ্নি সিস্টেমসের ২১ শতাংশ দর বেড়েছে।

বিপরীতে টানা বৃদ্ধির পর ইস্টার্ন ল্যুব্রিকেন্টসের শেয়ারদর সর্বাধিক ১৭ শতাংশ দর হারিয়ে ২৫০০ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। অবশ্য এর মধ্যে লভ্যাংশ পরবর্তী দর সংশোধনও রয়েছে।

এদিকে আজ পুরনো শেয়ারগুলোর মধ্যে দরবৃদ্ধির শীর্ষে আছে বিবিএস, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, কুইনসাউথ, বেঙ্গল উইন্ডসর, ন্যাশনাল লাইফ, ফু-ওয়াং ফুডস, বিডি ল্যাম্পস। এসব শেয়ারের দর ৬ থেকে ১০ শতাংশ বেড়ে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টা পর দুপুর ১২টায় ডিএসইতে ১৮৪ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল। বিপরীতে ১২৪টির দর কমে এবং ৬৯টি দর অপরিবর্তিত অবস্থায় কেনাবেচা হতে দেখা যায়।

এ সময় ডিএসইএক্স সূচকটি প্রায় ১৩ পয়েন্ট বেড়ে ৭০৪৫ পয়েন্টে অবস্থান করছিল।

অবশ্য গত কয়েকদিনের মতো আজও লেনদেনের শুরুতে (সকাল ১০টা ১৯ মিনিটে) সূচকটি গতকাল থেকে ২৩ পয়েন্ট বেড়ে ৭০৫৫ পয়েন্ট ছাড়িয়েছিল। পরের আধা ঘণ্টায় সূচকটি আগের অবস্থান থেকে ২১ পয়েন্ট কমে ৭০৩৪ পয়েন্ট পর্যন্ত নেমেছিল।

এ সময় বেশিরভাগ বিমা কোম্পানির শেয়ারদর কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। ৩৪ শেয়ারের দরবৃদ্ধির বিপরীতে এ খাতের ১৩ শেয়ার দর হারিয়ে এবং ৬টি দর অপরিবর্তিত অবস্থায় কেনাবেচা হচ্ছিল।

প্রায় একই চিত্র ছিল খাদ্য ও আনুষঙ্গিক, সিরামিক এবং ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে। প্রকৌশল খাতেও দর হারানো শেয়ার থেকে দরবৃদ্ধি পাওয়া শেয়ার সংখ্যা বেশি ছিল।

বিপরীতে সিমেন্ট খাতের সাত কোম্পানির মধ্যে ছয়টিকে দর হারিয়ে কেনাবেচা হতে দেখা যায়।

আজ লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টায় ৫১৯ কোটি ১৪ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।