আগামী অর্থবছরের বাজেটে ব্যবসা ও বিনিয়োগের বিভিন্ন খাতে উৎসে আয়করের হার কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে মেট্রোপলিটন চেম্বার অবকমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)। সংগঠনটি বলছে, উৎসে আয়কর যৌক্তিকভাবে কমালে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো লোকসান থেকে রক্ষাপাবে। এতে সামগ্রিক অর্থনীতি গতিশীল হবে এবং সরকারের রাজস্বসংগ্রহ বাড়বে।

গতকাল বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় আয়কর, মূল্য সংযোজন কর ও আমদানি শুল্ক্ক বিষয়ে এমসিসিআইর প্রস্তাবনাগুলো তুলে ধরেন সংগঠনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম। এনবিআরের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম এতে সভাপতিত্ব করেন।

সাইফুল ইসলাম উৎপাদনমুখী শিল্পে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে করপোরেট কর কমানো,রাজস্ব-সংক্রান্ত কার্যক্রম ও বিরোধ নিষ্পত্তিরক্ষেত্রে অনলাইন শুনানি চালু করা, সম্পূরক শুল্ক্ক কমানো, অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিল আরওসহজ করার প্রস্তাব করেন। এমসিসিআই সার্বিক বাজেট প্রস্তাবনায় আয়কর বিষয়ে ৪৪টি,


মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক্ক আইনবিষয়ে ৩৩টি এবং কাস্টমস আইন বিষয়ে আটটি প্রস্তাব পেশ করে।
বিভিন্ন পণ্য সরবরাহ, কৃষিজাত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী সরবরাহ, কাঁচামাল, সঞ্চয়পত্র, ব্যাংকের আমানতের সুদ, বিদেশে কনসালট্যান্সিসহ বিভিন্ন
প্রকারের সেবার ফি পাঠানো, আমদানি ও রপ্তানি পর্যায়ে, রপ্তানির প্রণোদনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উৎসে কর নেওয়া হয়। শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত উৎসে কর নেওয়া হয়ে থাকে। এনবিআর বলছে, দেশে যত আয়কর আদায় হয়, তার ৭০ শতাংশের বেশি আসে উৎসে পর্যায় থেকে।

এমসিসিআইর সাবেক সভাপতি নিহাদ কবির বলেন, স্থানীয় শিল্পের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে করপোরেট কর কমানোর ধারাবাহিকতা থাকা দরকার। পাশাপাশি এলডিসি থেকে উত্তরণের পর দেশের রাজস্ব নীতি কী হবে, সে বিষয়ে গবেষণা দরকার। এ জন্য বাজেটে আলাদা বরাদ্দ থাকা উচিত। সর্বোপরি যারা কর দিচ্ছেন, তারা যাতে হয়রানিতে না পড়েন, সে জন্য কর দেওয়ার পদ্ধতি সহজ
করা দরকার।

সংগঠনের আরেক সাবেক সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সক্ষমতা বাড়াতে সব রপ্তানি খাতে একই ধরনের নীতি সুবিধা দরকার। দরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। পাশাপাশি উৎপাদনমুখী শিল্প যেখানে কর্মসংস্থান হবে, সেখানে বিশেষ কর সুবিধা দেওয়া দরকার। তিনি বলেন, 'আপনাদের কাছে হাত জোড় করে অনুরোধ করছি, যারা কর দিচ্ছেন, শুধু তাদের ওপরই চাপ দেওয়া থেকে সরে আসেন। নতুন করদাতা বের করেন।'
এমসিসিআইর সহসভাপতি হাবিবুল্লাহ করিম বলেন, করদাতা ও গ্রহীতার মধ্যে দূরত্ব আছে। এই দূরত্ব কমাতে হবে। উভয়ের মধ্যে এক ধরনের অবিশ্বাসও কাজ করে। কর্মকর্তাদের আচরণ এমন যে, সব ব্যবসায়ী কর ফাঁকি দেন। তাদের এই মানসিকতা দূর করতে হবে।

এমসিসিআইর পরিচালক আদিব এইচ খান ভ্যাট পরিশোধে কেন্দ্রীয় নিবন্ধন ব্যবস্থার বাইরে সুযোগ সৃষ্টির অনুরোধ করেন।

এমসিসিআইর প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, পর পর দুই অর্থবছর করপোরেট কর কমানো হয়েছে। বর্তমানে করপোরেট কর ৩০ শতাংশ বলা হলেও বিশেষ বিবেচনায় তৈরি পোশাক, চামড়া, ইপিজেডের প্রতিষ্ঠানে ছাড় আছে। এর পরও এনবিআর মনে করে, করপোরেট কর আরও কমানোর যৌক্তিকতা আছে। কিন্তু সে ক্ষেত্রে রাজস্ব হারানোর ঝুঁকি আছে। সে জন্য একবারে অনেক কমিয়ে স্থির করা যাবে না। তবে এনবিআর আশা করে, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে কর সমস্যার অনেক সমাধান হবে। মেড ইন বাংলাদেশের ধারণা আগামী বাজেটও অব্যাহত রাখার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজস্ব প্রশাসন সহজ হবে। রাজস্ব আদায় করবে মেশিন। আর কর্মকর্তারা গবেষণা করবেন।

আলোচনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন এনবিআরের সদস্য (শুল্ক্ক নীতি) মাসুদ সাদিক, সদস্য (ভ্যাট নীতি) জাকিয়া সুলতানা ও সদস্য (আয়কর নীতি) সামসুদ্দিন আহমেদ।