গত অর্থবছরের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিতর্ক আছে। অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, করোনায় আক্রান্ত জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে এত বেশি হারে জিডিপি অর্জনের ঘোষণা বাস্তবসম্মত নয়। জিডিপির সাময়িক এবং চূড়ান্ত পরিসংখ্যানের বড় ব্যবধানকে 'অলিক' বলছেন তারা। সার্বিকভাবে তারা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুারোর (বিবিএস) ডেটার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে এ বিতর্ককে স্বাগত জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেছেন, বিবিএসের ডেটার প্রতি আস্থা আছে তাদের। সে কারণে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। কারণ, সরকারপ্রধানকে আধা সিদ্ধ কিছু দেননি তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার বিবিএসের এক কর্মশালায় এসব কথা বলেন পরিকল্পনামন্ত্রী। তবে বিবিএসের ডেটাকে শতভাগ নির্ভুল মনে করেন না তিনি। মন্ত্রী বলেন, আমাদেরও দুর্বলতা আছে। পৃথিবীর কোনো ব্যবস্থাই শতভাগ নির্ভুল নয়। এ প্রসঙ্গে বিবিএসকে আরও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সঠিকভাবে কাজ করুন, যাতে সরকার বিশ্বাসের সঙ্গে সাহসের সঙ্গে কথা বলতে পারে। জাতীয় উন্নয়নে সঠিক উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া সম্ভব হয়। কর্মকর্তাদের আরও আধুনিক মনস্ক হওয়া এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে বৈশ্বিক জ্ঞান বিজ্ঞানের খোঁজ-খবর রাখারও তাগিদ দেন মন্ত্রী।

গত মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জিডিপি ও মাথাপিছু আয়ের পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেন পরিকল্পনামন্ত্রী। বিবিএসের তৈরি করা এই পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত (২০২০-২১) অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ। এর আগে গত নভেম্বরে প্রকাশিত সাময়িক হিসাবে জিডিপির হার ছিল ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

জিডিপির চূড়ান্ত পরিসংখ্যান প্রকাশের পর থেকেই অর্থনীতিবিদ এবং উন্নয়ন বিশ্লেষকরা সমালোচনা করছেন। বিবিএসের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে তারা বলেন, অভ্যন্তরীণ ভোগ ব্যয় সাময়িক হিসাবে ছিল ৩ দশমিক ৮২ শতাংশ, চূড়ান্ত হিসাবে এই হার ৮ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। অর্থাৎ বছরের শেষ তিন মাসে ভোগ ব্যয় বেড়েছে ৩ গুণের কাছাকাছি। সামগ্রিক পুঁজি গঠনের পরিসংখ্যানেও প্রবৃদ্ধির অস্বাভাবিক ব্যবধান লক্ষ্য করা গেছে। সাময়িক হিসাবে এ হার ছিল ৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ। চূড়ান্ত হিসাবে তা দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৯ শতাংশ। তাদের প্রশ্ন, করোনার অর্থবছরের শেষ তিন মাসে এমন কী ঘটলো যাতে এত বেশি হারে ভোক্তা ব্যয় এবং বিনিয়োগ বেড়ে গেল।

জাতীয় জনসংখ্যা নিবন্ধন (এনপিআর) বিষয়ক এই কর্মশালা রাজধানীর আগারওগাঁয়ে পরিসংখ্যান ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ড. শাহনাজ আরেফিন।