জার্মানির মিউনিখে নিরাপত্তা সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে রোববার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ দূত জন কেরির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে র‌্যাবের সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা হয়। রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশের কাছে চীন টাকার বস্তা নিয়ে এসেছে। এটা নিয়েই এখন সমস্যা দেখা দিয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্মেলনের সাইডলাইনে বৈঠকে ড. মোমেন ও জন কেরি একমত হন যে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ ও উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। ড. মোমেন নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে চাকরির সুযোগ সৃষ্টি এবং সৌরশক্তিচালিত সরঞ্জাম পরিচালনায় দক্ষতার বিকাশে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা কামনা করেন।

এ সময় জন কেরি বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বনায়ন এবং নবায়নযোগ্য এবং জ্বালানি উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রাথমিক সমীক্ষা পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার আশ্বাস দেন।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্মেলনের বক্তব্যে ড. মোমেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, 'বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির ধারায় অনেক দেশই সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে। বিশেষ করে জাপান বড় আকারে বিনিয়োগ করেছে। ভারতও ঋণ দিয়েছে। অন্যদিকে চীন বাংলাদেশের জন্য টাকার বস্তা নিয়ে এগিয়ে এসেছে। তাদের ঋণের প্রস্তাব আক্রমণাত্মক ও সাশ্রয়ী। এটা নিয়েই এখন একটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। আমরা এখন কী বা করতে পারি?'

তিনি আরও বলেন, 'বাংলাদেশের উন্নয়নে বিনিয়োগ প্রয়োজন। এ কারণে এখানে বিদেশি সহযোগিতাও প্রয়োজন। আমাদের প্রয়োজনে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও এডিবি থেকেই অধিকাংশ ঋণ নিয়েছি। উন্নয়নের প্রয়োজনে আমরা আরও বিনিয়োগ প্রত্যাশা করি।'