তখন দুপুর সাড়ে ১২টা। রাজধানীর ফার্মগেটে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে একে একে বেরিয়ে গেল ৯টি গাড়ি। একটি গাড়ি দাঁড়িয়ে গেল খামারবাড়ির সামনেই। দরজা খুলতেই হুমড়ি খেয়ে পড়লেন ক্রেতারা। কিছুটা বিশৃঙ্খলা দেখা দিলেও অল্প সময়ের মধ্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে তা নিয়ন্ত্রণে আসে। ততক্ষণে মানুষের লাইন দীর্ঘ হতে শুরু করে। মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যায় এক হাজার পিস ডিম, ২২২ লিটার দুধ, ১০০ কেজি গরুর মাংস, খাসি ও ব্রয়লার মুরগি। যারা কম দামে পণ্য কিনতে পারলেন তাদের মুখে ছিল হাসির ঝিলিক।

পণ্যের মানের বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল হক নামে এক ক্রেতা জানান, তিনি এক কেজি গরুর মাংস, দুই কেজি দুধ ও দুই হালি ডিম কিনেছেন। এখন পর্যন্ত মাংস তাজা-ই মনে হচ্ছে। তিনি জানান, মাত্র এক কেজি করে নেওয়া যাচ্ছে। পরিমাণ আরও বাড়ানো উচিত। পণ্য ক্রয় করতে আসা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী নাহিদ হোসেন বলেন, সুলভ মূল্যের গাড়িতে পণ্যের পরিমাণ আরও বাড়ানো দরকার। এত কম পণ্য দিয়ে লাখ লাখ মানুষের চাহিদা পূরণ করা কঠিন।

পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে রাজধানীর প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে সুলভ মূল্যে দুধ, ডিম ও মাংসের ভ্রাম্যমাণ বিক্রি কার্যক্রম গতকাল রোববার উদ্বোধন হয়। ভার্চুয়ালি এর উদ্বোধন করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। তিনি বলেন, আমরা ছাড়া কেউ এত কম মূল্যে পণ্য বিক্রির পদক্ষেপ নেয়নি। প্রয়োজনে বিক্রির পরিধি আরও বাড়ানো হবে। যে পরিবহনগুলোয় এই পণ্য বিতরণ করা হচ্ছে, সেগুলো স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মত।

রাজধানীর ১০টি স্থানে ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে করে এসব পণ্য বিক্রির কথা ছিল। কিন্তু একটি গাড়ি নষ্ট হওয়ায় গতকাল ৯টি স্থানে পণ্য বিক্রি করা হয়। ১০টি স্থান হলো- সচিবালয়-সংলগ্ন আবদুল গণি রোড, খামারবাড়ি গোল চত্বর, মিরপুর ৬০ ফুট রাস্তা, আজিমপুর মাতৃসদন, পুরান ঢাকার নয়াবাজার, আরামবাগ, নতুন বাজার, মিরপুরের কালশী, যাত্রাবাড়ী ও জাপান গার্ডেন সিটি। গাড়ি নষ্ট হওয়ায় গতকাল জাপান গার্ডেন সিটিতে পণ্য বিক্রি হয়নি। ১ থেকে ২৮ রমজান পর্যন্ত চলবে এ কার্যক্রম।

জানা যায়, সুলভ মূল্যের গাড়িতে সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। সবগুলো গাড়ির পণ্য এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যই শেষ হয়ে গেছে।

নয়াবাজারের ভ্রাম্যমাণ গাড়ি থেকে পণ্য ক্রয় করেছেন মাহমুদা আক্তার। তিনি জানান, তাকে এক ঘণ্টার মতো লাইনে অপেক্ষা করতে হয়েছে। রোজার সময় দাঁড়িয়ে থাকা একটু কষ্টেরই। সরকারি উদ্যোগটিও সুন্দর, তবে গাড়ির সংখ্যা বাড়ালে ভোগান্তি কমবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় বলছে, গরুর মাংস, খাসির মাংস, দুধ ও ডিমের সরবরাহ বৃদ্ধির পাশাপাশি সাপ্লাই চেইন সচল রেখে মূল্য স্থিতিশীল রাখতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রমজানে জনসাধারণ যেন সহজে প্রাণিজ আমিষ ও পুষ্টির চাহিদা মেটাতে পারে, সে লক্ষ্যে ব্যবসায়ী-উৎপাদনকারী-সাপল্গাই চেইনসংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এই বিপণন ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করছে।

মন্ত্রণালয় বলছে, প্রতিটি ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে পাস্তুরিত তরল দুধ প্রতি লিটার ৬০ টাকা, গরুর মাংস প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা, খাসির মাংস প্রতি কেজি ৮০০ টাকা, ড্রেসড ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ২০০ টাকা, ডিম প্রতি হালি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

গত বছরও রমজান মাসে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং ডেইরি ও পোলট্র্রি অ্যাসোসিয়েশনের সহায়তায় সুলভ মূল্যে দুধ, ডিম ও মাংসের ভ্রাম্যমাণ বিক্রি ব্যবস্থায় ৩৪ কোটি ৮৫ লাখ ৮৬ হাজার ৪৭ টাকার পণ্য বিক্রি হয়।