বাংলাদেশি ব্রোকারেজ হাউসের বিদেশের মাটিতে আর বুথের কার্যক্রম আর শুরু হলো না, হওয়ার সম্ভাবনাও নেই। বাংলাদেশি প্রথম স্টক ব্রোকার হিসেবে ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে স্টক বুথ খোলার চেষ্টা করেছিল। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রহমত পাশা সমকালকে বলেছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের অনুমতি না মেলায় কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। অনুমতি পাওয়ার কোনো সম্ভাবনাও নেই।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বিদেশি বিনিয়োগ আনতে দেশে দেশে রোডশো করছে। বিশ্বের বড় বড় শহরে বাংলাদেশি ব্রোকারেজ হাউসের বুথ বা শাখা খুলে বিদেশি ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে সহজ করার লক্ষ্য নিয়েও কাজ করছিল সংস্থাটি।

এ লক্ষ্যে দুবাই বিনিয়োগ রোডশোতে অংশ নিয়ে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইউসিবি একটি স্টক বুথ উদ্বোধনও করে। খোদ শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম ফিতা কেটে ওই বুথটি উদ্বোধন করেন।

রহমত পাশা জানান, বুথ উদ্বোধন হলেও সেখানকার কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এর কার্যক্রম শুরুর অনুমতি মেলেনি। তারা জানিয়েছে, তাদের দেশে এ-সংক্রান্ত আইন সংশোধন হয়েছে। যার কারণে এ ধরনের বুথ স্থাপনের অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। শুধু দুবাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক এবং যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরেও স্টক বুথ স্থাপনের পরিকল্পনাও ছিল ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজের। কিন্তু ওই দুই দেশ থেকেও এ বিষয়ে অনুমতি মেলেনি। ফলে বিদেশি বুথ স্থাপনের পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে ব্রোকারেজ হাউসটি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদেশিদের বিনিয়োগ নিয়ে কাজ করা সিটি ব্রোকারেজ, লংকাবাংলা সিকিউরিটিজসহ শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা জানান, বিদেশের ব্রোকারেজ হাউস খোলা এত সহজ নয়। এটা যে হবে না, তা সংশ্নিষ্টদের আগেই বলা হয়েছিল, তারা আমলে নেননি।

দুবাই রোডশোর পর সেখান থেকে বিনিয়োগ এসেছে কিনা, জানতে চাইলে ইউসিবি স্টক ব্রোকারেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, হাতেগোনা চার-পাঁচজন বাংলাদেশি সামান্য অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। খুব বেশি সাড়া মিলছে না।

পদ্মা ব্যাংকের মালিকানাধীন পদ্মা ব্যাংক সিকিউরিটিজও বিদেশে বুথ স্থাপনের পরিকল্পনা করেছিল। তবে এ নিয়ে তারা আর এগোয়নি।